প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িককরণ প্রসঙ্গ [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িককরণ প্রসঙ্গ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িককরণ প্রসঙ্গ

 

প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িককরণ প্রসঙ্গ

 

বন্ধুগণ! একথা অনস্বীকাৰ্য্য যে, যে সময়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয় তখনকার বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংগঠণকে একটি “সাম্প্রদায়িক” প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হয়েছিল। মুসলিম লীগ পাকিস্তানের জনগণের ধর্ম্মানুরাগের সুযোগে ইসলামকে হাতিয়ার করেই তার শাসন অব্যাহত রেখেছিল। জনগণও তখন লীগ সরকারের বিভ্রান্তি হতে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করতে সক্ষম হয়নি।

এ অবস্থায় আমাদের সংগঠণকে অসাম্প্রদায়িক করা সম্ভব হলেও মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাবের মোকাবিলা করার কাজে তা ব্যার্থ হত। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আজ অবসান ঘটেছে। ধর্ম্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল পাকিস্তান বাসীর নিজস্ব রাজনৈতিক ঐক্য জোট হিসেবে গণ আন্দোলনে নেতৃত্ব করার মহাণ দায়িত্ব আজ আওয়ামী লীগ গ্রহণ করতে পারে।

 

কায়েদে আযমের অমর বাণী “রাজণীতি ক্ষেত্রে হিন্দু আর হিন্দু থাকবে না, মুসলিম আর মুসলিম থাকবেনা এবং সবাই মিলে পাকিস্তানী জাতি হিসেবে পরিচিত হবে” ইহা বাস্তবে রূপায়িত করতে পারে একমাত্র আওয়ামী লীগ। আমরা দ্বিধাহীণ চিত্তে এ-কথা ঘোষণা করতে পারি যে, দেশের সকল ধর্ম্মের সকল বর্ণের এবং সকল ভাষাভাষী মানুষকে একটি গণপ্রতিষ্ঠানে সমবেত করার প্রয়োজন।

বস্তুত, আওয়ামী লীগ দলকে সম্প্রদায় নির্বশেষে সকল মানুষের জন্য অবারিত করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের প্রগতিশীল ভূমিকাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হব। অদ্যকার অধিবেশনে এই বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বন্ধুগণ। দেশের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের মোটামুটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এই বার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার একটি চিত্র আমাদের সম্মুখে থাকা দরকার ।

 

প্রতিষ্ঠানকে অসাম্প্রদায়িককরণ প্রসঙ্গ

Leave a Comment