অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৩৫টি আদেশ ও বিধি-১৯৭১

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৩৫টি আদেশ ও বিধি-১৯৭১। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৩৫টি আদেশ ও বিধি-১৯৭১

 

অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৩৫টি আদেশ ও বিধি-১৯৭১

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রশাসন হাতে নিয়ে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩৫টি নির্দেশ জারি করেন। শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আলোচনা করে নির্দেশাবলী প্রণয়ন করেন এবং তা বঙ্গবন্ধু অনুমোদন করেন। তাজউদ্দিন আহমেদ একজন প্রতিভাশালী নীতিনির্ধারক ছিলেন। সরকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ব্যতীত তিনি সমগ্র আন্দোলন পরিচালনার জন্য নির্দেশাবলী প্রণয়ন করেন এবং তা বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ঘোষণা করেন-

৩৫টি বিধি

১. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট, সরকারী ও আধা সরকারী অফিসসমূহ, হাইকোর্ট ও দেশের অন্যান্য আদালত হরতাল পালন করবে। তবে অতিপ্রয়োজনীয় ও আন্দোলনের স্বার্থে নির্দিষ্ট অফিস ও দপ্তর ও সংস্থা হরতালের আওতা বহির্ভূত থাকবে।

২. বাংলাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৩. আইনশৃঙ্খলা রক্ষা— ডেপুটি কমিশনার, সাব-ডিভিশনাল অফিসার, আওয়ামী লীগ সংগ্রাম কমিটির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কর্মসূচীসহ দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা

রক্ষা করবে।

 ৪. বন্দরসমূহ- অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে সৈন্যদের সহযোগিতা করবে না। বন্দরের

কাজ চলবে। 

৫. মাল আমদানি— আমদানিকৃত সকল মালামাল খালাস করতে হবে। সংগৃহীত অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের

হিসেবে জমা হবে না ।

৬. রেলওয়ে চলবে- তবে সৈন্য চলাচল বা তাদের রসদ বহন করতে পারবে না। 

৭. সড়ক পরিবহন- ইপিআরটিসি চলাচল করবে।

৮. অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের কাজ চলবে।

৯. ডাক ও টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের মধ্যে কাজ করবে- বিদেশে মেল সার্ভিস ও টেলিগ্রাফ করা যেতে পারে। 

১০. টেলিফোন বাংলাদেশের মধ্যে চালু থাকবে।

 ১১. বেতার, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্র- এগুলো চালু থাকবে এবং জনগণের আন্দোলনের সংবাদ প্রচার

করতে হবে।

 

১২. হাসপাতালসমূহ চালু থাকবে । 

১৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

১৪. পানি, গ্যাস সরবরাহ চালু থাকবে। ১৫. কয়লা সরবরাহ অব্যাহত থাকবে ।

১৬. খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। খাদ্য আমদানি চালু থাকবে।

১৭. কৃষি তৎপরতা— ধান ও পাটের বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধ সংগ্রহ ও বণ্টন অব্যাহত থাকবে। পাওয়ার পাম্প ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ চালু থাকবে। কৃষি ব্যাংকের কাজ চালু থাকবে।

১৮. বন্যানিয়ন্ত্রণ ও শহর সংরক্ষণের কাজ অব্যাহত থাকবে।

১৯. উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ চলবে।

২০. সাহায্য ও পুনর্বাসন- ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজসহ পুনর্বাসনের কাজ চলতে থাকবে। 

২১. ইপিআইডিসি, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও সকল কারখানার কাজ চলবে।

২২. সকল সরকারী ও আধা সরকারী সংস্থার কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। 

২৩. পেনশন- নিয়মিতভাবে সরকারী-বেসরকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দেয়া হবে ।

২৪. এজি ও ট্রেজারি- বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মচারী কাজ চালিয়ে যাবে। 

২৫. ব্যাংক সকাল ৯টা হতে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকিং কাজ করবে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে লেনদেন চলবে না। বিদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে। ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশনকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়া হবে ।

২৬. স্টেট ব্যাংক- অন্যান্য ব্যাংকের মতোই কাজ করবে।

২৭. আমদানি ও রপ্তানি কন্ট্রোলার- আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করবে এবং কাজ চালিয়ে যাবে। 

২৮. ট্রাভেল এজেন্ট ও বিদেশী এয়ারলাইন্স চালু থাকবে ।

২৯. ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা চালু থাকবে। 

৩০. পৌরসভার কাজ চালু থাকবে।

৩১. ভূমি রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকবে। লবণ ও তামাক কর আদায় হবে না। আয়কর আদায় বন্ধ থাকবে- এ ছাড়া প্রাদেশিক কর আদায় হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের একাউন্টে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর আবগারী শুল্ক কর, বিক্রয় কর আদায় করে কেন্দ্রীয় সরকারের খাতে জমা না দিয়ে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল বা ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন জমা দিতে হবে।

৩২. পাকিস্তান বীমা কর্পোরেশন, পোস্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স চালু থাকবে ৩৩. সব ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সেবাদান নিয়মিতভাবে চলবে ।

৩৪. সকল বাড়ির ওপর কালো পতাকা উড়বে।

৩৫. সংগ্রাম পরিষদগুলো সর্বস্তরে তাদের কাজ চালু রাখবে এবং এসব নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে যাবে।

 

অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৩৫টি আদেশ ও বিধি-১৯৭১

Leave a Comment