বায়ান্ন সালের আন্দোলন [ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল ]

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বায়ান্ন সালের আন্দোলন। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

বায়ান্ন সালের আন্দোলন

 

বায়ান্ন সালের আন্দোলন

 

অনেকে ইতিহাস ভুল করে থাকেন। ১৯৫২ সালের আন্দোলনের তথা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস আপনাদের জানা দরকার। আমি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সেখানেই আমরা স্থির করি যে, রাষ্ট্রভাষার উপর ও আমার দেশের উপর যে আঘাত হয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে তার মোকাবিলা করতে হবে। সেখানেই গোপন বৈঠকে সব স্থির হয়।

এ কথা আজ বলতে পারি; কারণ আজ পুলিশ কর্মচারীর চাকুরী যাবে না। সরকারী কর্মচারীর চাকুরী যাবে না। কথা হয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জেলের মধ্যে অনশন ধর্মঘট করব, আর ২১ তারিখে আন্দোলন শুরু হবে। জেলে দেখা হয় বরিশালের মহিউদ্দীন সাহেবের সঙ্গে। তাঁকে বললাম, আমরা এই প্রোগ্রাম নিয়েছি। তিনি বললেন, আমিও অনশন ধর্মঘট করব। ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে আমরা অনশন ধর্মঘট করলাম।

এর দরুন আমাদের ট্রান্সফার করা হল ফরিদপুর জেলে। সূচনা হয় ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষ আন্দোলনের। তারা চরম আঘাত করল ভাষার উপর, কৃষ্টির উপর। চরম আঘাত হানল আমাদের উপর। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্মের পর থেকেই গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়। আওয়ামী লীগের কন্ঠ রোধ করে দেয়া হল। আওয়ামী লীগের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা হল।

 

আওয়ামী লীগ কর্মীদের পালিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এভাবেই আমাদের দিন কাটতে থাকে। এ অবস্থায় আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাই। একদিনে সংগ্রাম হয় না। একদিনে 1 দেশ জয় হয় না। একদিনে আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয় । এজন্য চাই নীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে নিঃস্বার্থভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া।

সহকর্মী ভাইয়েরা, আজ এসব কথা কেন বলছি? এ জন্যে বলছি যে, এতকাল পর্যন্ত আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি কাজ চালিয়েছি। আজ আমার বিদায় নেয়ার পালা। আজ আমি আপনাদের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারি না। আজ আপনাদের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়। এটাই আমার সভাপতির শেষ ভাষণ। এই জন্যই আপনাদের কাছে আমার কিছু বলা দরকার।

এ জন্যই আজ সংক্ষেপে আওয়ামী লীগের কিছু ইতিহাস বলছি। এই প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করলেই বক্তৃতা আমি দেবার পারি না। কত চেহারা ভেসে উঠে আমার সামনে। কত ত্যাগী কর্মী কারাবরণ করেছে। কত ভাই, কত সহকর্মী শহীদ হয়েছে। এদের সঙ্গে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে দিন কাটিয়েছি। কত দিন আন্দোলন করতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। তাদের কথা আমি স্মরণ না করলে অন্যায় করা হবে। কারণ আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু তারা আমাদের মধ্যে নাই।

১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চরম আঘাত আসে আওয়ামী লীগের উপর। শোষকগোষ্ঠী আমাদের ভাষা ও কৃষ্টির উপর হামলা চালায়। অত্যাচার চালায় বাংলার মানুষের উপর। কিন্তু আমরাও বসে থাকি নাই। বাংলার জনগণ, বাংলার ছাত্র সমাজ, বাংলার যুব সমাজ, বাংলার প্রগতিশীল কর্মীরা এই হামলার মোকাবেলা করতে থাকে বার বার ।

 

বায়ান্ন সালের আন্দোলন

 

কিন্তু অপর পক্ষ ছিল বড় শক্তিশালী। তাদের হাতে ছিল অস্ত্র, মেশিনগান। তাদের কাছে ছিল অর্থ, ছিল ধোঁকাবাজি। তারা বিশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো ধর্মের নাম। আমার বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু। তাই ধর্মের নামে ধোঁকা দেয়া যত সহজ অন্য কিছুতে ততটা সহজ নয়। তাই ধর্মকে তারা ব্যবহার করল বাংলার মানুষকে শোষণ করার অস্ত্র হিসেবে।

Leave a Comment