সাধারণ সম্পাদক এর রিপোর্ট

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সাধারণ সম্পাদক এর রিপোর্ট। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সাধারণ সম্পাদক এর রিপোর্ট

 

সাধারণ সম্পাদক এর রিপোর্ট

 

শ্রদ্ধেয় সভাপতি,

কাউন্সিল ও ডেলিগেট ভাই ও বোনেরা

এবং সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, 

বঙ্গবন্ধুর মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত বাংগালী জাতি পৃথিবীর বর্বরতম পশুশক্তি পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে জয়ী হলো। সামনে ছিল এক সুমহান লক্ষ্য। লক্ষ্য হলো আদর্শনিষ্ঠ একটি স্বাধীন জাতির প্রতিষ্ঠা করা। এ বিজয়ে জাতীয় লক্ষ্য স্থিরীকৃত হলো। হাজার বছরের পরাধীনতার গ্লানি মুছে গেল। স্বাধীনতার গৌরবে সিক্ত একটি অর্গলমুক্ত জাতি তাদের বিশ্বনন্দিত জনমন অধিনায়ক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করলো একটি দেশ। তার নাম বাংলাদেশ।

সৃষ্টি করলো বিশ্বমানবগোষ্ঠীতে একটি জাতি। তার নাম বাংগালী জাতি। বীর বাংগালীর যুগযুগান্তরের বাসনা পূর্ণ হলো। প্রথমবারের মত বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে বাংলার সংগ্রামী জনতার যুগান্তকারী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করলো তাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব। প্রতিষ্ঠিত করলো স্বকীয় অধিকার। মুক্তির এ গৌরব অর্জন করতে মুক্তিপাগল জাতিকে দিতে হলো চরম মূল্য। উৎসর্গ করতে হলো অঢেল রক্ত।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে সাম্রাজ্যবাদী পশুশক্তি পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম আঘাত হানলো বাংলা এবং বাংগালীর উপর। পোড়া মাটির পৈশাচিক পথ ধরে হত্যা ও ধ্বংসের তাণ্ডবলীলা চালালো তারা এ-দেশের বুকে। বাংলার চির সবুজ প্রান্তর হলো বাংগালীর রক্তে লাল। সমগ্র অর্থনীতি ভেঙ্গে চুরমার হলো। মুক্তির আনন্দের সাথে সাথে সারা দেশ রূপান্তরিত হলো দুঃখের মহাশ্মশানে ।

 

ইতিহাসের এই ক্রান্তিকালে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সাফল্যের পর বাংলার মুক্ত পরিমণ্ডলে প্রথম কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ৭ই ও ৮ই এপ্রিল তারিখে। দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতা মুক্তির আলোকসূর্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের পেছনে ছিল সংগ্রামের ঐতিহ্যে মণ্ডিত জাতীয় মুক্তির এক স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস।

সামনে ছিল হিমাচল সম বাধার দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর অতিক্রম করে জাতীয় লক্ষ্যে উপনীত হবার দুর্জয় সংকল্প। অধিবেশনে জাতীয় সমস্যার দিকগুলি আলোচিত হয়। দেশের তৎকালীন নাজুক অবস্থায় সারা দেশে সর্ব-পর্যায়ে দলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব ছিল না। কেন না আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ কর্মীরা তখন জরুরী ত্রাণ কার্যে ব্যাপৃত ছিল। অন্যদিকে সংগঠনের বিধান অনুযায়ী সরকারী দায়িত্ব পালনরত দলীয় কর্মকর্তাদের শূন্য পদ পূরণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাই এই অধিবেশনে মাননীয় কাউন্সিলারগণ বঙ্গবন্ধুর মতের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে ক্রমাগত অনুরোধ করে সমবেতভাবে তার উপর সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন।

 

সাধারণ সম্পাদক এর রিপোর্ট

 

সারা দেশে সরকারী তৎপরতার সাথে সাথে দলীয় কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির জন্য অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠনের দায়িত্বও অর্পণ করেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে আমাদের দুরূহ যাত্রা শুরু হয় ১৯শে এপ্রিল, ১৯৭২ সালে। ঐদিন বঙ্গবন্ধু ৪৪ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

Leave a Comment