আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি

আজকের এই অধিবেশনে আমার কার্যবিবরণী পেশের পূর্বে আজ আমি দুঃখ ভারাক্রান্তচিত্তে স্মরণ করছি সেই লাখো শহীদকে যাঁদের চরম আত্মত্যাগ ও প্রাণের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা একটি অবিনশ্বর সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলার লাখো শহীদের সঙ্গে স্বাধীনতার অগ্রসৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
এমনকি আওয়ামী লীগের যে সকল নেতা একদিন স্বাধীনতা সংগ্রামের মশাল বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন, জল্লাদ এহিয়ার বাহিনী নৃশংসভাবে তাঁদেরকেও হত্যা করে। স্মরণ করি সেইসব আওয়ামী লীগের কর্মীকে যাঁরা স্বাধীনতা উত্তরকালে বঙ্গবন্ধুর অমোঘ আহ্বানে সমস্যা জর্জরিত দেশকে গড়ে তোলার সংগ্রামে জাতীয় পুনর্গঠনের মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়েছেন গুপ্তঘাতকের শিকার।
ব্যথাভরা মনে আরো স্মরণ করি সেই সকল প্রিয় সহকর্মীকে যারা সংগঠনের স্বার্থে তথা জনগণের কল্যাণার্থে নিয়োজিত অবস্থায় গ্রাম-বাংলার ঘাটে-মাঠে, পথে, শহরে-বন্দরে আততায়ী দুর্বৃত্তদের হাতে হয়েছেন নিহত। আজকের এই মহতী অধিবেশনে আমি স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তর সকল শহীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদন করি আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। সমবেদনা জানাই বাংলার লাখো শহীদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি।
আজকের এই অধিবেশনে চট্টগ্রামের আজিজ ভাই, পাবনার আবদুর রব (বগা) ভাইয়ের মত নিঃস্বার্থ কর্মী, মুজিবর রহমান আক্কেলপুরীর মত্ নিবেদিত প্রাণ সৈনিক, সওগাতুল আলম সগীরের মত নিরলস কর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, নূরুল হকের মত অকুতোভয় নির্ভিক সমাজ সংস্কারক, হামিদুর রহমান হেনার মত সরল অনাড়ম্বর জনপ্রিয় কর্মীর মত শত শত কর্মী ভাইয়েরা আজ আমাদের মাঝে নেই সত্য, কিন্তু তাঁদের জীবনাদর্শ, তাঁদের চলার পথের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য তাঁদের দেশপ্রেমমূলক আত্মত্যাগের মহান ঐতিহ্য আমাদের জন্য তাঁরা রেখে গেছেন। আমি কৃতজ্ঞচিত্তে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এঁদের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা জানাচ্ছি।

