আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ

আমাদের পরিকল্পিত শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থায় ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার পর্বত প্রমাণ বৈষম্য অবশ্যই দূর করিতে হইবে। মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক যদি বিপুল আয়ের অধিকারী হইয়া বিলাস-ব্যসনে দিন-যাপনের সুযোগ পায় তাহা হইলে দেশের মেহনতী জনসাধারণকে ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানানোর কোন অর্থই হয় না।
সেই জন্যে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে আমাদের কতকগুলি বাস্তব কর্মসূচী অবশ্যই গ্রহণ করিতে হইবে। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত কর্মসূচী উল্লেখযোগ্য-
(ক) বাধ্যতামূলক আয় সীমিতকরণ। ইহার ফলে সামাজিক বৈষম্য হ্রাস পাইবে। এই ব্যবস্থার অধীনে বিশেষ যোগ্যতা ও দক্ষতার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার পদ্ধতির প্রচলন করিতে হইবে।
(খ) নতুন কর নীতি প্রণয়ন। এই ব্যবস্থার অধীনে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি হইতে বিনা পরিশ্রমে লব্ধ আয় হ্রাস ও ইহা ভোগের পরিমাণ ন্যায়সঙ্গতভাবে সীমিত করিতে হইবে।
(গ) শহরের সম্পত্তির মালিকানার পরিমাণ সীমিতকরণ।
(ঘ) বিলাস দ্রব্য আমদানী সম্পূর্ণ বন্ধকরণ।
(ঙ) দেশে অপ্রয়োজনীয় বিলাস দ্রব্য প্রস্তুত ও ব্যবহার বন্ধকরণ।
(চ) সাধারণ মানুষের বাসগৃহের সমস্যা সমাধানের পূর্ব পর্যন্ত বিরাট অনাবশ্যক অট্টালিকা নির্মাণ
বদ্ধকরণ।
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
বেকার-সমস্যা আমাদের সমাজ জীবনের একটি বিরাট সমস্যা। ইহা সামাজিক অবিচারের একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রাখিয়া যত বেশী সম্ভব মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আমাদের উদ্দেশ্য। আমাদের বিপুল জনশক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা অবশ্য প্রয়োজনীয়।

সেই উদ্দেশ্যে অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যেআমরা নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিব-
(ক) পল্লী উন্নয়নের জন্য রাস্তা ও পুল নির্মাণ, সেচ ও পানি নিষ্কাশন-ব্যবস্থা, পতিত জমি এবং পুকুর, দীঘি আবাদ করা।
(খ) শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিক ও জনসাধারণ যাহাতে অধিক পরিমাণে কর্ম লাভের সুযোগ পায় তদুদ্দেশ্যে
বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(গ) গ্রামাঞ্চলে কুটিরশিল্প ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের জন্য ব্যাপকভাবে সাহায্য ও সহায়তা করা।
