আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সদস্য পদ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
সদস্য পদ

ষষ্ঠ ধারা
(১) আঠার বৎসর ও তদূর্ধ্ব বয়স্ক বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক প্রথম ধারায় বর্ণিত বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং কার্যসূচী মানিয়া চলিবে বলিয়া নির্ধারিত ফরমে লিখিত ঘোষণপত্রে স্বাক্ষরদান করিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হইলে,
জাতীয় দলের যে কোন নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিলে, দলের যে কোন সংগঠনে কাজ করিতে প্রস্তুত থাকিলে, নিয়মিত দলের নির্দিষ্ট চাঁদা পরিশোধ করিতে সম্মত হইলে এবং দলের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বভার গ্রহণ করিতে রাজী থাকিলে এই ধারার (১) উপ-ধারায় উল্লিখিত বিধান সাপেক্ষে তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সদস্যপদ লাভ করিবার যোগ্য হইবেন, তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার (২)চেয়ারম্যান কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত বা নিযুক্ত কোন কমিটি বা প্রতিনিধিগণের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
(২) কোন নাগরিক সদস্যপদের অধিকারী হইবেন না বা থাকিবেন না, যদি-
ক) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বা স্বীকার করেন;
(খ) তিনি দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া দ-িত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(গ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজসকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীনে যে কোন অপরাধের জন্য দ-িত হইয়া থাকেন এবং তিনি ঐরূপ কোন অপরাধের জন্য বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারের নিষ্পত্তি না হইয়া থাকে কিংবা তাঁহার বিরুদ্ধে উপরোক্ত ধরনের কোন অপরাধ সম্পর্কিত অভিযোগ কোন সরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট রুজু হইয়া থাকে;
(ঘ) তিনি রাষ্ট্রের আদর্শবিরোধী, সমাজবিরোধী, জননিরাপত্তাবিরোধী ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া প্রতীয়মান হয়।
(৩)দলের সদস্যপদ প্রার্থীকে দলের প্রাথমিক বা শাখা কমিটির নিকট নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত করিতে হইবে এবং বার্ষিক চাঁদা বাবদ মাত্র দুই টাকা দরখাস্তের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
প্রার্থীর সহিত ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত দুইজন সদস্য দায়িত্বসহকারে উক্ত প্রার্থী সম্পর্কে সঠিক তথ্যাদিসহ ঐ দরখাস্ত প্রত্যয়ন করিলে এবং প্রাথমিক বা শাখা কমিটি সদস্যদের সাধারণ সভায় প্রার্থীর সদস্যপদ অনুমোদন লাভ করিলে তিনি উক্ত অনুমোদনের তারিখ হইতে এক বৎসর পর্যন্ত প্রার্থী সদস্য বলিয়া গণ্য হইবেন।
প্রাথমিক কমিটি, থানা কমিটি, আঞ্চলিক কমিটি, জেলা কমিটি এবং কার্যনির্বাহী কমিটি সরাসরিভাবেও কোন প্রার্থীর দরখাস্ত গ্রহণ করিতে এবং অনুরূপ উপায়ে তাঁহাকে প্রার্থী সদস্যপদ প্রদান করিতে পারিবে। দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলির নিম্নতন শাখা বা ইউনিট প্রার্থী-সদস্যের জন্য শুধুমাত্র জাতীয় দলের সংশ্লিষ্ট শাখা বা ইউনিটের কাছে সুপারিশ করিতে পারিবে।
(8) প্রার্থী-সদস্যগণ আমন্ত্রণক্রমে দলীয় সভায় যোগদান করিতে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন। তাঁহাদের উপর অর্পিত দায়িত্বপালনে তাঁহারা বাধ্য থাকিবেন। তাঁহাদের কোন কমিটিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিবার, নির্বাচিত হইবার অথবা কোন প্রস্তাবের উপর ভোটদানের অধিকার থাকিবে না ।
৫) (ক) দলের যে কমিটি যাহাকে প্রার্থী-সদস্যপদ প্রদান করিবে সেই কমিটিকে ঐ প্রার্থী-সদস্যের দলীয় আদর্শগত শিক্ষা-দীক্ষার এবং দলের গঠনতন্ত্র, কার্যক্রম, কর্মনীতি প্রভৃতি বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তাদি সম্পর্কে প্রশিক্ষণদানের ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং তিনি দলের যে কমিটির অন্তর্ভুক্ত উহাতে তাঁহার কার্যকলাপের উপর দৃষ্টি রাখিতে হইবে।
প্রার্থী-সদস্যপদের মেয়াদ পূর্ণ হইলে সংশ্লিষ্ট কমিটি উক্ত প্রার্থী-সদস্যের উল্লেখিত শিক্ষাগত ও কার্যকলাপ সংক্রান্ত উৎকর্ষ বা উন্নতির মান বিবেচনা করিয়া তাঁহাকে পূর্ণ সদস্যপদ প্রদানের জন্য দলীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে তাঁহার প্রার্থী- সদস্যপদের মেয়াদ আরও এক বৎসর পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবে, অথবা তাঁহার প্রার্থী-সদস্যপদ বাতিল করিতে পারিবে।
(খ) দলের নিয়তন কমিটি বা ইউনিটগুলি উহাদের সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কমিটির/কমিটিগুলির মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট প্রার্থী-সদস্যগণকে পূর্ণ সদস্যপদ দানের সুপারিশ করিবে, তবে উল্লেখ থাকে যে উপরোক্ত সুপারিশের একটি অনুলিপি সরাসরি কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
কেবলমাত্র অংগ-সংগঠনগুলির কেন্দ্রীয় কমিটি প্রার্থী-সদস্যকে পূর্ণ সদস্যপদ দানের জন্য কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে। এইরূপ প্রার্থী সম্পর্কে কার্যনির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট জেলা বা প্রাথমিক কমিটির পূর্ণ তথ্যসম্বলিত মতামত গ্রহণ করিবে।
(গ) একমাত্র কার্যনির্বাহী কমিটি দলের পূর্ণ সদস্যপদ প্রদান করিতে পারিবে ।
(৬) কাহারও প্রার্থী-সদস্যভুক্তির আবেদনপত্র নিষ্ঠুতন কোন কমিটিতে প্রত্যাখ্যাত হইলে তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট তাঁহার আবেদনপত্র পুনর্বিবেচনার জন্য আপীল করিতে পারিবেন।
(৭) কাহাকেও প্রার্থী সদস্যপদ প্রদান করা হইলে, তৎসম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কমিটি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট রিপোর্ট পেশ করিতে হইবে। কার্যনির্বাহী কমিটি বা জেলা কমিটি এই বিষয়ে নিয়তন কমিটির সিদ্ধান্তের রদবদল করিতে পারিবে।
(৮) দলের কোন সদস্য তাঁহার নিজস্ব কমিটির অনুমতি লইয়া সদস্যপদ স্থানান্তরিত করিতে পারিবেন, তবে জেলা হইতে স্থানান্তর দাবী করিলে জেলা কমিটির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৯) জাতীয় দল কর্তৃক মনোনীত না হইলে কেহ জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত কোন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের জন্য মনোনীত হইবেন না ।
(১০) জাতীয় দলের চেয়ারম্যান বিশেষ বিবেচনায় যে কোন প্রার্থীকে সরাসরি পূর্ণ সদস্যপদ দিতে পারিবেন। কোন সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, আইনবলে গঠিত সংস্থা ও কর্পোরেশন প্রভৃতির কোন কর্মচারী সদস্যপদ প্রার্থী হইলে তাঁহাকে পূর্ণ সদস্যপদ কিংবা প্রার্থী-সদস্যপদ দানের ক্ষমতা জাতীয় দলের চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত থাকিবে, তবে দেওয়ানী আদালতে বিচারকার্যে নিযুক্ত কোন কর্মচারী বা বিচারক আদৌ জাতীয় দলের সদস্যপদ প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
(১১) পূর্ণ সদস্যপদ প্রার্থীকে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলী পালন করিতে হইবে এবং নির্ধারিত ফরমে লিপিবদ্ধ ঘোষণাপত্রে দস্তখত করিয়া অঙ্গীকারবদ্ধ হইতে হইবে ঃ-
(ক) তিনি ঊনিশ বা তদূর্ধ্ব বয়স্ক;
(খ) তিনি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহে বিশ্বাস করেন এবং তৎসমূহের বাস্তবায়নে কর্মরত আছেন;
(গ) তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ অখ- সমাজে বিশ্বাসী;
(ঘ) তিনি দলের কেন্দ্রীয় অথবা জেলা কমিটি কর্তৃক যে কোন নির্ধারিত কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ;
(ঙ) তিনি বিষয়-সম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমা নিয়ন্ত্রক কোন প্রচলিত আইনের দ্বারা নির্ধারিত সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্পত্তির অতিরিক্ত কোন সম্পত্তির মালিক নহেন;
(চ) তিনি দলীয় সভা কিংবা বৈঠকের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোথায়ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রকাশ্যে বা গোপনে দলীয় সংগঠনসমূহের গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত, কর্মনীতি অথবা কার্যক্রমের প্রতিকূল কোনরূপ সমালোচনা করেন না ।

(১২) কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনানুসারে, কিংবা তৎকর্তৃক নিয়মাবলী অনুসারে থানা, আঞ্চলিক, প্রাথমিক কমিটি ও শাখাসমূহের প্রত্যেকটি উহার এলাকাধীন সদস্যগণের তালিকা সম্বলিত একটি রেজেস্ট্রি বই রাখিবে এবং ঐ তালিকার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির নিকট পাঠাইবে। জেলা কমিটিসমূহ ঐ সকল সদস্য তালিকার অনুলিপি কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট পাঠাইবে।
(১৩) কার্যনির্বাহী কমিটি পূর্ণ সদস্যের উপর বার্ষিক চাঁদা ছাড়াও নির্দিষ্টহারে অনুদান বা অবশ্য দেয় অর্থসাহায্য ধার্য ও আরোপ করিতে পারিবে। দলের সদস্যগণের প্রদত্ত সাকুল্য চাঁদার একটি অংশ কার্যনির্বাহী কমিটি লইবে।
অবশিষ্ট অংশ বিভিন্ন স্তরের কমিটির মধ্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং তদুদ্দেশ্যে বিতরণের হার ও পদ্ধতি স্থির করিবে । উপরোল্লিখিত অনুদান বা অবশ্য দেয় সাহায্যের হার ও বণ্টন-বিধি কার্যনির্বাহী কমিটিই নির্ধারণ করিবে।
