আমাদের আজকের আলোচনা বিষয়-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

প্রিয় কাউন্সিলর ভাই ও বোনেরা,
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ ও জাতি আজ এক মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। দ্রব্যমূল্যের দিন দিন আকাশচুম্বি অবস্থা দেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি দুখী মানুষ সহ সকল স্তরের মানুষের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিসহ করে তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশে খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যের যে মূল্য ছিলো, বর্তমানে তা কমপক্ষে হলেও তিনগুণ বেশী হয়েছে। অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের লোকেরা, অথচ সেসব খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবারও কোন সুযোগ নেই।
চাকুরীজীবী মানুষ এই দ্রব্যমূল্যের সাথে নিজেদের আয়ের কোন সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে কেবল হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এই ব্যর্থ সামরিক সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কোন উদ্যোগ তো নিচ্ছেনই না, পরন্তু এর ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রাখার জন্য কেবল কাগজী মুদ্রা ছাপিয়ে দেশে মুদ্রাক্ষীতি ঘটিয়ে চলেছেন। তাছাড়া সরকারের পরিকল্পনাহীন অর্থনীতি ও অনুৎপাদনশীল খাতে বায়বৃদ্ধির আধিক্য জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ডই ভেঙ্গে দিচ্ছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার যেখানে ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা, বকেয়া ঋণ ও কর মওকুফ করে দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার এক্ষণে সেই খাজনা এবং বকেয়া ঋণ ও কর চক্রবৃদ্ধি সুদসহ আদায় করছেন। নিত্যনতুন করারোপ করে গরীব কৃষক শ্রমিককে শোষণ করা এ সরকারের একটি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার।
রেল ভাড়া, লবণকর, কীটনাশক ঔষধের মূল্য, কৃষির সরঞ্জাম, পাওয়ার পাম্প ও তেলের দাম বাড়িয়েছেন মাত্রাতিরিক্ত হারে। বৈদেশিক ঋণের দাসত্ব নিগঢ়ে বেঁধে ফেলা হচ্ছে গোটা জাতিকে। অথচ সেই ঋণের অর্থ কোন শিল্প-কারখানা বা কৃষি শিল্পে ব্যয় না করে বরং নগরীর সাজসজ্জায় বায় করে মানুষের চোখে উন্নয়নের নামে ধাঁধা লাগানো হচ্ছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তথা গ্রামীণ কুটির শিল্প ইত্যাদির প্রতি এই সরকারের কোন নজর নেই। ফলে প্রতিবছর দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দক্ষ ও অদক্ষ বেকারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গৃহীত জাতীয়করণ নীতি বানচাল করার জন্য মুনাফা অর্জনকারী শিল্প-কারখানা বার্ত মালিকানায় ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে, জাতীয়করণকৃত শিল্প-কারখানার সাবেক পাকিস্তানী মালিকদের ক্ষতিপূরণ দান, পুরে বিনিয়োগের সিলিং শিথিলকরণ এবং তার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বহু জাতিভিত্তিক সংস্থাসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, শিল্পভিত্তিক লগ্নির পরিবর্তে ব্যবসাভিত্তিক উঠতি পুঁজির লগ্নির সুযোগদান বর্তমান দেউলিয়া সরকারের পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার নগ্ন দৃষ্টান্ত।
বর্তমান সরকারের মদদপুষ্ট রাজনৈতিক সুবিধাভোগী শ্রেণীর লোকদের জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজস্ব পুঁজি গঠনের ন্যক্কারজনক তৎপরতা যে কোন সচেতন মানুষকেই খুব করে।
দেশের এহেন বিপর্যস্ত অর্থনীতির সুযোগেই প্রশাসনিক কাঠামোতে আজ ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি তোষণনীতির ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। দক্ষিণা ছাড়া আজ কোন সরকারী অফিসে কোন কাজ হয় না। সাধারণ মানুষ এই বাহান দুর্নীতির যাঁতাকলে আজ পিষ্ট।

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দৈন্যতার ফলে এবছর আমরা ফারাক্কা থেকে ১০ হাজার কিউসেক কম পানি পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সরকার যেখানে ৪৪ হাজার কিউসেক কম পানি পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সরকার যেখানে ৪৪ হাজার কিউসেক পানি এসেছিলেন, এই সরকার বহু ঢাক-ঢোল পিটিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জাতিসংঘ পর্যন্ত ধাওয়া করে মাত্র ৩৪ হাজার কিউসেক পানি আনতে পেরেছেন।
তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ বর্মার সাথে এই সরকারের “হৃদ্যতাপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা শোনা গেলেও হাজার হাজার ধর্মী উদ্ধান্ত এসে আজ আমাদের অর্থনীতিতে এক মারাত্মক চাপের সৃষ্টি করছে।
