সাংগঠনিক পরিস্থিতি

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয়-সাংগঠনিক পরিস্থিতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

সাংগঠনিক পরিস্থিতি

সাংগঠনিক পরিস্থিতি

 

সংগ্রামী সাথী ও বন্ধুগণ,

চলতি বছরের ৩রা, ৪ঠা ও ৫ই মার্চ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে আপনারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা আমরা করেছি এবং এখনও করছি।

৭ই মার্চ আমরা এই ঐতিহাসিক দিনটি পালন করি, ১৭ই মার্চ জাতির জনকের জন্ম দিবস উপলক্ষে আমরা দেশব্যাপী আলোচনা সভা, কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

১৯ ও ২০শে মার্চ এম.পি.এম.সি.এ. মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দান সম্পর্কে ঢাকায় দু’দিনব্যাপী সংগঠনের এক বর্ধিত ও গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৬শে মার্চ আমরা জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও আলোচনা সভার আয়োজন করি।

১৭ই এপ্রিল পালিত হয় বিপ্লবী সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস। এ উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি জনাব আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মুজিব নগরে গমন করে সেখানকার অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ২১, ২২ ও ২৩শে এপ্রিল কার্যনির্বাহী কমিটির সভা চূড়ান্ত করা হয়, ৩রা জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও এ নির্বাচন উপলক্ষে সমমনাদের নিয়ে ঐক্যজোট অনুষ্ঠিত হয়।

এতে গৃহীত রাজনৈতিক প্রস্তাবলিতে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত দলীয় বক্তব্য গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠানের প্রস্তাবও এই সভাতেই নেয়া হয় ।২৬শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় দলের পুনরুজ্জীবনের পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন।

এই সাংবাদিক সম্মেলনে আমাদের সভাপতি ঘোষণা করেছিলেন। নাথিং উইল গো আনচ্যালেঞ্জড। ২৯ ও ৩০শে এপ্রিল কার্যনির্বাহী কমিি গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট গঠনকে অনুমোদন করা হয় এবং অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনে ान করে তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

৫ই মে জেনারে ওসমানী ও গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ সহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা টুঙ্গিপাড়া গমন করেন এবং ৬ই মে জাতির জনকের মাজার জেয়ারত করে গিমাডিঙ্গা-টুঙ্গিপাড়া হাইস্কুল ময়দানে এক বিরাট জনসভায় ভাষণ দান করেন।

৬-দফা আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি বিজড়িত ৭ই জুন পালন করা হয় দেশব্যাপী। এরপর ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ই জুন অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা। এতে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।

 

১৫ ও ১৬ই জুন কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দেশব্যাপী সফরসূচী চূড়ান্ত করা হয়। ৭ই জুলাই দেশব্যাপী পালন করা বন্দী মুক্তি ও জুলুম প্রতিরোধ দিবস। ১৩ থেকে ১৭৪ জুলাই সভাপতি জনাব আবদুল মালেক উকিল ও আমি ইরাকী বার্থ পার্টির আমন্ত্রণক্রমে ইরাকের জাতীয় বিপ্লব দিবস উদযাপনে যোগদানের জন্য আমরা বাগদাদ সফর করি।

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করি সারাদেশে। এদিন আমাদের প্রবীণ নেতা মোল্লা জালালুদ্দীনের নেতৃত্বে সংগঠনের কর্মীরা টুঙ্গিপাড়ায় গমন করে জাতির জনকের মাজার জেয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করে গ্রা নিবেদন করেন।

ঢাকায় এদিন দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়, ভোরে বনানী গোরস্তানে গিয়ে এদিনের অন্যান্য শহীদ ও কারাগারে নিহত জাতীয় নেতৃবৃন্দের মাজার জেয়ারত ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

সকাল ৮টায় আমরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২নং রোডস্থ বাসভবনে যাবার চেষ্টা করলে সরকার পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়, তখন আমরা ৩২নং রোডের মোড়ে মীরপুর রোডের ওপর মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করি। এদিন সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয় ও বিকেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী জনাব আবুজাফর শামসুদ্দিন। সংগঠনের সকল শাখা এদিন পালন করেন যথার্থ মর্যাদায় । ১৭ ও ১৮ই আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা। এতে সংগঠনবিরোধী কার্যে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়।

৪ঠা অক্টোবর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির অপর সভায় সংগঠন বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে আরো কিছু লোকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই সভায় ১৮ ও ১৯শে নভেম্বর বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং এজন্য ৬টি উপ-পরিষদ গঠিত হয়।

এই সভায় আমাদের যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ কর্তৃক সংগঠনবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে জনাব নুরে আলম সিদ্দিকী সহ কয়েকজনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। ২৯ ও ৩০শে অক্টোবর আমাদের যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

 

সাংগঠনিক পরিস্থিতি

 

৩রা নভেম্বর পালন করা হয় জেলাহত্যা দিবস। এদিনও দেশব্যাপী গৃহীত কর্মসূচীতে সংগঠনের পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল, নেতৃবৃন্দ মাজার জেয়ারত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিশেষ কাউন্সিল ১৮ ও ১৯শের পরিবর্তে ২৩ ও ২৪শে নভেম্বর অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠানের পর থেকে এই ৮ মাসে আমরা প্রায় সব ক’টি সাংগঠনিক জেলা সফর করি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারণা অভিযানকালীন সহ প্রায় পাঁচ শতাধিক জনসভা ও কর্মী সভায় ভাষণ দান করি। এই সময় খুলনা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুরে আমাদের পূর্ণাঙ্গ শাখা কমিটিসমূহ গঠিত হয়।

Leave a Comment