আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য বি, এন, পি চিরদিন জাতির নিকট দায়ী থাকবে। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য
বি, এন, পি চিরদিন জাতির নিকট দায়ী থাকবে

সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদ সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা ভংগ করে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে বিচারপতি ছাত্তার সাহেবকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার দু’দিন যেতে না যেতেই ২১শে নভেম্বর সেনাভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন, সরকার পরিচালনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকবে।”
সেনাবাহিনীর প্রধান হিসাবে এরশাদ কর্তৃক সংবিধান ও সেনাবাহিনীর শৃংখলা ভংগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ তীব্র প্রতিবাদ করল এবং সংগঠনের পক্ষ হতে আমি রাষ্ট্রপতি ছাত্তারের নিকট হতে এরশাদের এ অন্যায় ভূমিকার কৈফিয়ত তলব করলাম।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিচারপতি ছাতার এরশাদের পরামর্শ ও নির্দেশে তথাকথিত জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করলেন। বস্তুতঃ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের মধ্য দিয়ে এরশাদ ও সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে গেল।
পরে ছাত্তার সাহেবকে দিয়ে মন্ত্রীসভা বাতিল, নতুন মন্ত্রীসভা গঠন, বিদায়ী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ, মন্ত্রী গ্রেপ্তার ইত্যাদি ঘটনার প্রেক্ষাপটে ছাত্তার সরকারের চরম ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে এরশাদ সাহের ক্ষমতা দখলের পথ সুপ্রশস্থ করেন।
ক্ষমতাসীন বি.এন.পি সরকার ঐ সময়ে জেঃ এরশাদের অবৈধ কর্মতৎপরতার বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক: ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলো। তাদের এই ব্যর্থতা দেশ ও জাতির জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনল।
সেদিন বি,এন,পি, সরকার তাদের উপর ন্যস্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ না হলে জাতীয় জীবনে এরশাদ শাহীর স্বৈরাচার আসতনা। বি.এন.পিকে চিরদিন তাদের এ বিরাট বার্থতার জন্য জাতির কাছে দায়ী থাকতে হবে।
বি.এন.পি’র কৃত সকল অপকর্মের অজুহাত দিয়ে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালোভী জেঃ এরশাদ তার সহযোগীদের সহায়তায় চব্বিশে মার্চ ‘৮২-র ভোরে দেশে সামরিক শাসন জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক শাসক ঘোষণা করলেন এবং বিচারপতি জনাব এ. এফ. এম. আহসান উদ্দীনকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করলেন।
দুনিয়ার কোন গণতান্ত্রিক দেশে এইভাবে ঢাক ঢোল পিটিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান কর্তৃক সংবিধান, দেশের প্রচলিত আইন ও সামরিক বাহিনীর শৃংখলা ভংগ করে সামরিক আইন জারি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
সংগ্রামী সহকর্মী বন্ধুৱা,
সামরিক আইন জারির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করেই জেঃ এরশাদ সকল রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তালা ঝুলালেন।
সামরিক শাসন জারির লগ্নে ২৪শে মার্চ ভোরে নিবর্তনমূলক আইনে গ্রেফতার করা হলো আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সর্বজনাব রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম এডভোকেট ও আওয়ামী লীগ নেতা ফালুর রহমান রফিকুল ইসলাম বকুলসহ বহু নেতা ও কর্মীকে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার হয়রানির পথ বেছে নিল সামরিক সরকার। এরশাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সামরিক শাসন জারীর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা
দিবসের প্রত্যুষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিরাজমান শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি ও রক্ষচক্ষুর হুমকিকে উপেক্ষা করে জনগণের হৃত অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখা দৃপ্ত শপথ ঘোষণা করেন, যা পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সৃষ্টিতে প্রেরণার উৎস হিসাবে কাজ করেছে।
এরশাদ সাহেব ৪ঠা এপ্রিল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ই এপ্রিল নির্বাচিত বার কাউন্সিল বাতিল করলেন। এমনি ধারায় সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বাতিল করে দিয়ে জনতার কণ্ঠকে স্ব করতে চাইল এরশাদ সরকার।
কিন্তু এত কিছুর পরও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হলো না। পহেলা মে শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করল মহান মে দিবস। ১১ই মে গ্রেপ্তার বলেন আওয়ামী লীগ নেতা কর্নেল শওকত আলী।
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তার হয়রানি বেড়েই চলল। আমরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের সাথে পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চললাম ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
সাংগঠনিক কার্যক্রমের রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে আমি একথা আজ গর্বের সাথে উল্লেখ করতে চাই যে, সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর যখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার ন্যূনতম সুযোগও ছিল না, সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও দলীয় সভানেত্রী বিভিন্ন জেলা সফরের মাধ্যমে কর্মীদের সাথে সাংগঠনিক সংযোগ রক্ষার কঠিন দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে পালন করে চললেন।
অতঃপর তিনি সুইডেন, ইংল্যান্ড ও জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশে সামরিক শাসনবিরোধী প্রচার ও কর্মতৎপরতা পরিচালনা করেন। এই সময়ে সংগঠনের বিপ্লবী সভানেত্রী লন্ডন, লোটন, লিভারপুল, ব্রাডফোর্ড, গুণ্ডহাম, বার্মিংহাম, ম্যানচেষ্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপকভাবে সফর করলেন এবং জনসভা ও কর্মীসভার মধ্যদিয়ে সামরিক শাসনবিরোধী বিশ্বজনমত সৃষ্টির নিরলস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেন।
এর ফলশ্রুতিতে তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারী ও বিরোধী দলীয় এমপিদের নিয়ে প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান পিটার কোরকে চেয়ারম্যান করে “All Party. Parliamentary Group for Restoration of Democracy in Bangladesh” নামীয় সর্বদলীয় সং গঠন করাতে সমর্থ হলেন।
এছাড়া বৈরতে গণহত্যার প্রতিবাদে সারা বিশ্ব যখন ঘৃণায় সোচ্চার, ঠিক সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল যৌথভাবে প্যালেস্টাইনের সংগ্রামী জনতার ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি সংহতি ঘোষণার উদ্দেশ্যে লন্ডনের বিখ্যাত হাইড-পার্কে এক জনসভার আয়োজন করে।
সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে আমাদের প্রিয় সংগঠনের বিপ্লবী সভানেত্রী উদ্বোধনী ভাষণদান করে প্যালেষ্টাইনের সংগ্রামী জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি বাঙ্গালী জাতির একাত্মতা ঘোষণা করে দেশ, জাতি ও সংগঠনের জন্য এক অনন্য গৌরব অর্জন করলেন।
এলো জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগষ্ট, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবস। জাতীয় শোক দিবস পালন করতে গিয়ে বনানী গোরস্থানের প্রবেশদ্বারে আমরা হাতে পুলিশের বাধাপ্রাপ্ত হলাম। জনতা রুদ্ররোষে পুলিশী বাধা ছিল কাল।
কবরগাহে পুষ্পার্ঘ্য এবং মোনাজাত করা হলো। এলা ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। জাতীয় চার নেতার হত্যা দিবস আমরা পূর্ণ মর্যাদায় পালন করলাম। জেলহত্যা দিবস পালন করতে গিয়েও আমরা ব্যাপক সন্ত্রাস ও বাধার সম্মুখীন হলাম।
আমরা সামরিক বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করে মিছিল বের করলাম। পুলিশ জনতার উপর লাঠি চার্জ করল। প্রহৃত হলেন অনেক নেতা ও কর্মী এ সময়ে আমরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনসমূহক ঐক্যবদ্ধ করে স্বৈর-সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রাম সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের সমস্ত শক্তি নিয়ে অসা হলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংগ্রামী ছাত্র সমাজ কুখ্যাত মজিদ খান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের প্রতিবাদে জঙ্গী।পা তুলে ছাত্রী নিবিদ্যালের ছাত্রদের প্রতি
যেনো প্রকাশ করা হলো। পরিকি মাসের কুখ্যাত শিক্ষা নীতি ও সামরিক শাসন অবসানের দাবীতে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল। ায় বস্তুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হলো সংগঠনের উদ্যোগে। অধিকার আদায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের শদন গ্রহণ করা হলো।
১১ই জানুয়ারী কুখ্যাত রাজাকার স্বাধীনতার চিহ্নিान আদ্ভুত জীয়া মোনাকোলীন সম্মেলনে জেনারেল এরশাদ মহান একুশে ফেব্রুয়ারী, শহীদ দিবস ও শহীদ মিনার সম্পর্কে করি পূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে গোটা গতিশীল চেতনার ভিত্তিমূলে আঘাত হানলেন।
১২ই জানুয়ারী জননেতা মাওলানা আবদুর রশীদ বাগীশের বাসভবনে জেনারেল এরশাদের শহীদ দিবস ও শহীদ মিনার সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কর্মসূচী গ্রহণের লক্ষ্যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। যা পরবর্তীতে ১৫ দলীয় গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট গঠনের ভিত রচনা কর।
২১শে জানুয়ারী আমাদের মাঝে ফিরে এলেন জাতির জনক বঙ্গবস্তুর কনিষ্ঠা শেখ রেহানা। বিগত জাতীয় কাউন্সিলে আমাদের গৃহীত ৭ দফা কর্মসূচী ও ঘোষণার অন্যতম মূল বিষয় ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যাদ্বয়ের পূর্ণমাসায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।
শেখ রেহানার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে আমাদের একটি মূল দাবী বাস্তবায়িত হলো। সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা ও কর্মী এবং হাজার হাজার শুভানুধ্যায়ী বিমান বন্দর ও ৩২নং সড়কে তাঁকে প্রার্থনা জ্ঞাপন করল।
ঐ দিন জননেত্রী শেখ হাসিনা সামরিক আইন ভংগ করে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাংগনে এক বিরাট সমাবেশে বক্তৃতা করে জনতাকে স্বৈরাচার থেকে মুক্তির আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানালেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবী করে বক্তব্য রাখলেন।
দেশের সংবাদপত্রসমূহে এ খবর প্রচার করতে দেয়া না হলেও বি.বি.সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম হতে এখবর প্রচার করা হয়।
বস্তুতঃ মহান একুশে সম্পর্কে এরশাদের উচ্চতাপূর্ণ বক্তব্য স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতির শক্তিসমূহ ঐক্যবদ্ধ কাল। ৩০শে জানুয়ারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে ‘মহান একুশে’ পালনের আহ্বান জানালেন। এমনি এক প্রক্রিয়ার মাঝে গঠিত হলো ১৫ দলীয় ঐক্যজোট।
২রা ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সভানেত্রীত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৫ দল ঘোষিত একুশের কর্মসূচী সফল করার আহ্বান জানান হলো। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কুখ্যাত মজিদ খান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের প্রতিবাদে ১৪ই ফেব্রুয়ারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মৌন মিছিল সহকারে স্মারকলিপি পেশ করার কর্মসূচী ঘোষণা করে উক্ত কর্মসূচীকে সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করল।
৮ই ফেব্রুয়ারী ছাত্র সংগ্রাম পরিষনের কর্মসূচীর সমর্থনে বিভিন্ন সংগঠন সভা ও সমাবেশ আয়োজন ১০ই ফেব্রুয়ারী গঠিত হলো একুশে উদযাপন কমিটি। বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী তৎপরতা এবং স্বৈর-সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গোটা বাংলায় তখন তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার আগুন জ্বলছে।
এলো সেই রক্তঝরা ১৪ই ফেব্রুয়ারী। ছাত্র-জনতার সংগ্রামী ঐক্য অংকুরে নস্যাৎ করার জন্য সরকার পত-শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। শিক্ষা সত্তরের দিকে অগ্রসরমান শান্তিপূর্ণ ছাত্র মিছিলের উপর পুলিশ বিনা উজ্জানীতে গুলী ছড়া। পরে পড়ল জয়না জাফর কাঞ্চন, মোজাম্মেল, দিপালী সাহাসহ অনেক তরুণ প্রাণ।
সরকার বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করল। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা জাহাঙ্গীরসহ দুই সহস্রাধিক ছাত্র মোখার হলো। অসংখ্য শহীদের রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে মিলিত হল মহান একুশের শহীদের রক্তের সাথে। সমগ্র ঢাকা বিক্ষোভে ফেটে পড়ল।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ দলীয় নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেন শোক, সমবেদনা এবং তাদের ন্যায় ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সাথে একাত্মতা জানাতে। নেতৃবৃক্ষ বিক্ষুব্ধ হার সমাজের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখলেন, হত্যা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করলেন।
ঢাকা সমধিক সরকারের হাতে ছাত্র হত্যার সংবাদ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ল। গোটা জাতি প্রতিবাদে গর্জে উঠল । ১৫ই ফেব্রুয়ারী শত আন্দোলনের পীঠস্থান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পালিত হলো সর্বাত্মক সফল হরতাল। হরতাল পালনের সময় জীবন
দিল বীরভূমি চট্টলার মোজাম্মেল। ঐ দিন ঢাকায় ডঃ কামাল হোসেনের বাসভবনে বৈঠকনাত অবস্থায় হেপ্তার করা হলো আওয়ামী লীগ নে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সর্বজনাব আবদুস সামাদ আজাদ, আবিদুল মান্নান, ডঃ কামাল হোসেন, আি হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল জলিল, মলি ইসলাম খান কামাল, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, মোঃ রহমত আলী, ডাঃ এম. এ. মালেক, গোলাম আকবর চৌধুরী, এডভোকেট সাহারা খাতুন, অধ্যাপক মানিক গোমেজ, যুবনেতা সাহাবুদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ ও ১৫ দলীয় নেতৃবৃন্দকে। ১৭ই ফেব্রুয়ারী কেন্দ্রীয় নেতা বী সুধাংশু শেখর হালদারকে গ্রেপ্তার করা হলো।
নেতৃবৃন্দকে চোখবন্ধ করে বন্দী অবস্থায় ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হলো এবং অশোভন আচরণ করা হল জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ নেতৃবৃন্দের গ্রেপ্তারের সংবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। ঐদিন সন্ধ্যায় জারী করা হলো সান্ধ্য আইন।
একটি থম থমে বিস্ফোরথ অবস্থা বিরাজ করছিল সর্বত্র। ‘৭৫ এর পর হতেই মানুষ জাতীয় নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তার প্রশ্নে সদা উৎকণ্ঠিত থাকে। ১৫ তারিখে সরকার গ্রেপ্তারকৃত নেতৃবৃন্দের নাম প্রকাশ না করায় জনতার বিক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা তীব্রতর হল।
১৬ তারিখে সরকার অর্ধেক রাজবন্দীদের নাম প্রকাশ করল। ১৭ তারিখে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে মামলা দায়ের করা হলো। একটি চাপা বিক্ষোভ বুকে নিয়ে জাতি মহান শহীদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারী পালন করল।
আওয়ামী লীগসহ ১৫ দল বিশাল মিছিল সহকারে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করল। সামরিক শাসন বিরোধী এবং শেখ হাসিনাসহ নেতৃবৃন্দের মুনি । দাবীতে শ্লোগান উঠল মিছিলে, জনতার কাতারে। ২৭শে ফেব্রুয়ারী ১৫ দল সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে। বন্দী মুক্তির সুস্পষ্ট নারী পুনর্ব্যক্ত করল। পহেলা মার্চ জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জন নেতা মুক্তি লাভ করলেন।
শেখ হাসিনা অন্যান্য বন্দীদের মুক্তি দাবী করলেন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে এবং বঙ্গবন্ধুর জন্য দিবস ১৭ই মার্চ পালিত হলো যথাযোগ্য মর্যাদায়। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে গণদাবী আদায়ের শপথ নিল আওয়ামী লীগ। ১২ই মার্চ জেনারেল এরশাদ ঘোষণা করলেন তে জাতীয় নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনের পর সামরিক আইন তুলে নেয়া হবে।
আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বৃহত্তর ঐক্য ও আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে আমাদের প্রচেষ্টাকে আরও তীব্রতর করলাম। ১৫ দল “স্বাধীনতা দিবস” পালনের কর্মসূচী ঘোষণা করল।
২৬শে মার্চ ১৫ দলীয় ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচী পালনের মুহূর্তে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্ত্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ। হাসিনা শ্বৈর সামরিক শাসন হতে মুক্তি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বভৌম পার্লামেন্ট ও জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দফা কর্মসূচীতে ৪র্থ সংশোধনী পূর্ববর্তী বাংলাদেশ সংবিধান পুনর্বহালের দাবী উত্থাপন করলেন।
ওলা এপ্রিল থেকে শুরু হলো তথাকথিত “ঘরোয়া রাজনীতি”। ৯ই এপ্রিল ১১ দফা দাবীর সমর্থনে পালিত হলো ‘দাবী দিবস’। এর মাঝে আওয়ামী লীগ ১৫ দলীয় জোটের কর্মসূচীর পাশাপাশি নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মসূচীসমূহ পালন করে আসছিল যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে। সংগঠনের উদ্যোগে পালন করা হলো ‘মুজিবনগর দিবস- যে মহান দিবসটিতে ১৭ই এপ্রিল ‘৭১-এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিল।

আওয়ামী লীগসহ ১৫ দলের ১১ দফা কর্মসূচীর সমর্থনে স্বৈরাচার থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সানা দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম শুরুর পাশাপাশি গড়ে উঠল ১১টি শ্রমিক সংগঠনের সংগ্রামী ঐক্যজোট- শ্রমিক- কর্মচারী ঐক্যপরিষদ।
‘৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনের সময়ে রাজনৈতিক সংগঠনের সংগ্রামের সাথে শ্রমিক আন্দোলন যুক্ত হওয়ার যে ধারা সূচিত হয়, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আর ‘৭১-এর মরণ-পণ স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে ধারা পরিপক্বতা লাভ করেছিল।
তারই পথ ধরে ‘৮৩-র স্বৈরাচার বিরোধী মুক্তির লড়াইয়ে একাত্ম হয়ে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ল শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ। ১৫ দল, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আর শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলল
