আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –জাতীয় শ্রমিক লীগ বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
জাতীয় শ্রমিক লীগ বাংলাদেশ

সত্তরের দশকের শেষ দিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যখন অত্যন্ত দ্রুত স্বাধিকার তথা স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ১৯৬৯ সনে এদেশের অবহেলিত শ্রমিক সমাজকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উজ্জীবিত করে, তাদেরকে সমাজ পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের কঠিন দায়িত্ব পালনের উপযোগী শক্তি হিসাবে গড়ে তোলা।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙ্গালী জাতির মন-মানসিকতার সাথে সম্পৃক্ততা রেখে একটি সুষ্ঠু ও সমন্বিত ঢেউ ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা করেন।
সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উৎপাদনের সাথে জড়িত এদেশের শ্রমজীবী মানুষকে জাতির জনকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে রাজনীতি ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে একটি সমন্বিত ধারায় প্রবাহিত করার গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তাদেরকে এগুতে হয়েছে।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দ্বিধাবিভক্তিজনিত কারণে যে ব্যাপক শূন্যতার সৃষ্টি হয়, সেই শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতে ১৯৮১ সনে আবার সংগঠনটির উপর আঘাত আসে। এভাবে সংগঠনটি হয়ে পড়ে দ্বিধা বিভক্ত। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সাময়িক বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
এই বিভ্রান্তিজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে জনাব রহমত উল্লাহ চৌধুরী ও জনাব হাবিবুর রহমান সিরাজের নেতৃত্বে শ্রমিক লীগ সরকারের শ্বেত-সন্ত্রাস, নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেফতার, হুলিয়াকে মোকাবেলা করে নুতনভাবে সংগঠিত হয় এবং শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে সাধ্যমত সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
সাথে সাথে জাতীয় আন্দোলন ও মূল সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে শ্রমিক লীগ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন শিল্প-অঞ্চলে ইতমধ্যেই শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন গড়ে উঠেছে, গড়ে উঠেছে জাতীয়ভিত্তিতে বিভিন্ন বেসিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে ক্রাফট ফেডারেশন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বেসিক ইউনিয়নের সংখ্যা। বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথে সংহতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা রয়েছে অব্যাহত।

আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিরিখে আগামী দিনের সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে শ্রমিক লীগকে আরো সুসংগঠিত ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে গতিশীল ও শক্তিশালী শক্তি হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নির্ধারিত পরিকল্পনা ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার উচিত এবং সর্বস্তরের নেতা ও কর্মীকে এ বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।
