বাংলাদেশ কৃষকলীগ

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –জাতীয় শ্রমিক লীগ বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

বাংলাদেশ কৃষকলীগ

 

বাংলাদেশ কৃষকলীগ

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭২ সালে ১৯শে এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠা করেন। সত্যকথা বলতে কি, যে উদ্দেশ্যে কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠা, সেই উদ্দেশ্য আজও সফল হয়নি। আমরা সে উদ্দেশ্যে আশানুরূপ সংগঠনও গড়ে তুলতে পারিনি।

১৯৮৩ সনের ১৭ই জানুয়ারী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নূতনভাবে সংগঠনকে গড়ে তোলার জন্যে কোনো কেন্দ্রীয় সম্মেলন পর্যন্ত অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।দীপুরসহ দেশের কয়েকটা মা বেশ কয়েকটি কৃষক সমাবেশের আয়োজন করেছে।

আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির শতকরা ৮০ জন মানুষ কৃষক এবং আমাদের অর্থনীতি হচ্ছে কৃষি নির্ভর। এমনি তুমি নির্ভর একটি দেশে কৃষক সমাজের সক্রিয় অংশ গ্রহণ ব্যতীত দেশে কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।

কৃষকের ভালোর পরিবর্তন ছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কোন ব্যাপক পরিবর্তন সম্পূর্ণতার অসম্ভব। সেহেতু বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাি অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কৃষক সমাজের অপরিহার্য পূর্বশর্ত, তাই গ্রাম-বাংলার অবহেলিত ও নিগৃহীত কৃষক সমাজকে অবশ্যই সংগঠিত করতে হবে।

যদিও এটা একটা দুরূহ কাজ, তবুও প্রতিটি মানুষের ন্যূনতম চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানের সামাজিক নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি শোষণহীন সমাজ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার মহান কারে সামনে নিয়ে আমাদেরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষক সমাজকে সংগঠিত আাতে হবে, প্রতিটি গ্রামে কৃষক লীগের সংগঠন দাড় করাতে হবে।

 

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

দীর্ঘ ৬ বছরের সাংগঠনিক কর্মকারের ধারাবাহিক বিবরণ শেষ করার মুহূর্তে বলতে চাই, ইতিপূর্বেও একবার ১৯৭৫ সনে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সর্বশেষ সদস্য- মহিলা সম্পাদিকা থাকার পরও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শূন্যতার কারণে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।

সেই দুর্দিনে এবং এবারের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা যা সংগঠনের সানি কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেয়া আমার পক্ষে আদৌ সম্ভব হতো না, যদি আপনারা সকলে সক্রিয় ও আন্তরিকভাবে আমাকে সহযোগিতা না করতেন। তাই আপনাদেরকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।

আজ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে যে চরম সংকট বিরাজমান, তার মূল কারণ হলো ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে অধিকার অর্জিত হয়েছিল, সেই অধিকার স্বাধীনতাবিরোধী ও গণবিরোধী চক্র অস্ত্রের বলে কেড়ে নিয়ে। আছ যাই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ছিল একনায়কতন্ত্র ও গণবিরোধী সামরিক শাসনের ঐতিহাসিক বিজয়। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে একথা স্বীকৃত যে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং কেবলানার জনগণ নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র-ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী।

 

বাংলাদেশ কৃষকলীগ

 

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারবর্গকে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে একটি গণবিরোধী চক্র হত্যা, গড়যন্ত্র, ক্যু এবং পবিত্র সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখলের যে-প্রক্রিয়া শুরু করে, সেই প্রক্রিয়াই দেশকে আজ অনিশ্চয়তা, নৈরাজ্য এবং আংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Comment