আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –কৃষি খাত। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
কৃষি খাত

খাতওয়ারী উন্নয়ন কৌশলের প্রসংগে প্রথমেই এসে পড়ে কৃষি খাতের কথা। ‘৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে কৃষির প্রবৃদ্ধি হারে মন্দা দেখা দেয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কৃষিতে বাৎসরিক উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দে ক্রমান্বয়ে সংকোচন । অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিতে বাৎসরিক উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে হবে।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ও কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে এবং উচ্চ ফলনশীল আবাদের প্রসার ঘটাতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে ।
গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামোর অবস্থার উন্নয়নও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। শস্য খাতে আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মৎস্য, গবাদি পশু ও অন্যান্য অকৃষি খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করা হবে এবং দারিদ্র্য নিরসনে তা প্রত্যক্ষ অবদান রাখবে।
কৃষির আধুনিকীকরণের কর্মসূচীর আলোকে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ, কৃষিজাত পণ্যের মূল্য ও কৃষি উপকরণ মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান কল্পে উপযোগী বণ্টন ব্যবস্থা, ভর্তুকী, সংগ্রহ, বাজার ও গুদামজাতকরণ নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।
প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে অনাদায়ী ঋণ পুনরুদ্ধার করে সকল প্রকার জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ পরিহার করতে হবে- তারা যাতে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পান এবং সেই ঋণের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য যথোপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। * কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের যুক্তিসংগত মূল্যের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

দেশে হালচাষ উপযোগী গবাদি পশুর স্বল্পতা কৃষিকাজের এক বিরাট অন্তরায়। অপর দিকে গো-খাদ্যের অভাব এবং গোচারণভূমির অপ্রতুলতা এ ক্ষেত্রে চরম অসুবিধার সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে গবাদি পশুর মান উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
