আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –শিল্প খাত। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শিল্প খাত

উন্নয়নশীল বিশ্বের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত শিল্প উদ্যোক্তা শ্রেণীর উপস্থিতি, বাজারের প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র, পুঁজির বাজারের নির্দিষ্ট বিকাশ ছাড়া সফল শিল্পায়ন প্রয়াস সম্ভব নয়। বাংলাদেশের জন্য মিশ্র অর্থনীতির কাঠামোতেই শিল্পায়নের বিকাশ ঘটাতে হবে।
প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তা-নির্ভর শক্তিশালী বেসরকারী খাতের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢালাওভাবে বিরাষ্ট্রীয়করণের নীতি পরিহার করা হবে। দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা, জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণ হবে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির মাপকাঠি।
উন্নয়ন অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানসমূহ দ্বারা সমর্থিত হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ বেসরকারী শিল্প-কারখানার ভূমিকা সন্তোষজনক নয় এবং ঐ সব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ আদায়ের হারও খুবই নাজুক।
অন্য দিকে, সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ধস নামার কারণে রাষ্ট্রীয় খাতও তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। দক্ষ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় খাত পরিচালনা এবং যোগ্য শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে বৃহদায়তন-ক্ষুদ্রায়তন বেসরকারী খাতের বিকাশ এই দুই উপাদানের সঠিক সমন্বয়ই হবে শিল্প নীতির বৈশিষ্ট্য ।
রপ্তানীমুখীন শিল্পের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের সকল প্রকার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই খাতকে জরুরী খাত হিসেবে ঘোষণা করে উৎপাদন ও রপ্তানীর ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এই পদক্ষেপ শুধু বর্তমান রপ্তানীমুখী শিল্পকেই উৎসাহিত করবে না, বিদেশী শিল্প বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করবে। দেশের শিল্পায়নের জন্য যথাযথ প্রযুক্তি নীতি, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরামর্শ ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিতকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

দেশের ভিতরে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ গড়ে উঠলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা খুঁজে পাবেন এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বেসরকারী বিনিয়োগও এ দেশের প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যমান বা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তারা তাদের নি गानাধ্য অবদান রাখছে। সব শিক্ষাদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে প্র প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করে তাদের রপ্তানী-নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহিত করা হবে।
