আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতির উপসংহার। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতির উপসংহার

প্রিয় কাউন্সিলার ভাই ও বোনেরা,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনীতির উপসংহার থেকে আমরা ঘোষণা করতে চাই, জনগণের ভোট দেবার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবার জন্য আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন চাই।
আপনারা জানেন, এই সরকারের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা এত অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছে যে ক্ষমতা তারা ছাড়তে চায় না। ১৯৯১ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন করেছি। আমি বুঝতে পারি না, যে দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছে, তাদের এখন আপত্তি কিসের?
যেহেতু বিএনপি সরকার তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, যেহেতু বিএনপির অধীনে নির্বাচন হলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না, সেহেতু আজ সর্বস্তরের জনগণ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে সোচ্চার।
গত ৬ই সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে আমরা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছি সারা দেশের জনগণ তা সমর্থন করেছে। দেশের মানুষের আকাংখা যে সরকার জাতীয় সংসদের নির্বাচন দেবে।
আজকের এই কাউন্সিল অধিবেশনে দূর-দূরান্ত থেকে আগত নেতা কর্মীদের প্রতি আমি আহ্বান জানাবো সংগঠনকে শক্তিশালী করুন। কেন্দ্রীয় নির্দেশাবলী অনুযায়ী প্রচারকার্য চালান, জনগণের পাশে দাঁড়ান। আগামী নির্বাচনে পার্লামেন্টারী বোর্ড থেকে যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তাকে জয়যুক্ত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। দলের ভেতর কোন উপদল বা লবিং বা অবপিং সহ্য করা হবে না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশ স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য এবং স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার জন্য, আমাদের তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে শোষণ মুক্ত সমাজ গঠনের শপথ নেবার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
