বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশ এই একদলীয় নির্বাচনকে সমর্থন করতে পারেনা

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশ এই একদলীয় নির্বাচনকে সমর্থন করতে পারেনা। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশ

এই একদলীয় নির্বাচনকে সমর্থন করতে পারেনা

 

বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশ এই একদলীয় নির্বাচনকে সমর্থন করতে পারেনা

 

২৭ জানুয়ারী ১৯৯৬, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিত সভায় ভাষণ

আমরা আজ এ বর্ধিত সভা জাতির এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে ডেকেছি। আপনারা দীর্ঘদিন সংগ্রামরত রয়েছেন। আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের ভুখানাঙ্গা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং এদেশকে স্বাধীন করেছেন।

স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল এদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলা। এদেশের প্রতিটি মানুষের ভাত-কাপড়-শিক্ষা-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, কাজের ব্যবস্থা করা। এই ঘুণে ধরা সমাজকে ভেঙে একটি নতুন সমাজ গড়ে তোলাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।

তিনি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশ স্বাধীন করেছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি এই স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, বহু নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হবার পর সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ মাত্র তিন বছরের মধ্যে পুনর্বাসিত ও পুনর্গঠিত করার কাজ তিনি সমাপ্ত করেছিলেন। এতো অল্প সময়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটা দেশকে পুনর্গঠিত করা, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট অবকাঠামোসহ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলা হয়।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিডিআর, প্রশাসনসহ সবকিছু নতুনভাবে বঙ্গবন্ধুকে গড়ে তুলতে হয়েছিল । এতো অল্প সময়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে তিনি এ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।

যুদ্ধের পর অনেক দেশ বলেছিল, বাংলাদেশে ‘৭২ সালে দুর্ভিক্ষ হবে, কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দিনরাত পরিশ্রম এবং বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে সে অবস্থা হয়নি। প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে তারা ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রতিটি নেতা-কর্মী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এদেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য। আওয়ামী লীগের আদর্শই হলো, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ান, যা আমাদের বঙ্গবন্ধু শিখিয়ে দিয়ে গেছেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে যখন এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং আপনারা জানেন যে কর্মসূচী তিনি গ্রহণ করেছিলেন, সে কর্মসূচী যদি তিনি বাস্তবায়ন করতে পারতেন, আজকে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হতো।

স্বাধীনতার পর ২৫ বছর পর যে বাংলাদেরে ৮৬ ভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বাস করে, যেখানে শিক্ষিতের হার সরকারীভাবে বলা যে ৩০ ভাগের উপরে, আবার আন্তর্জাতিক ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বলে ২৪ ভাগের বেশী নয়।

অর্থাৎ ৭৫ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ অশিক্ষার অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যদি ক্ষমতায় থাকতেন শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি পেত। আর দারিদ্র্যের সংখ্যা হ্রাস পেত। কারণ আওয়ামী লীগ আমলে দরিদ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৯ ভাগ। ঐ কর্মসূচীকে যদি তিনি বাস্তবায়িত করতে পারতেন, আমাদের বেকার যুবকের সংখ্যা বেড়ে যেত না, যুব সমাজ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াত না, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হত।

আজকে আমরা দেশের মানুষের দিকে তাকাই, দেখি যে চিকিৎসা সেবার কোন সুযোগ এদেশের মানুষ পায় না।সরকারী হাসপাতালগুলির করুণ অবস্থা, সেখানে কোন সিট নেই, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তাররা ধর্মঘট করেছেন।

সেখানে কি এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে পাঁচ দিন ধরে সেখানে চিকিৎসা বন্ধ। সেখানেও সরকারের কোন দৃষ্টি নেই। সমস্যা সমাধানে কোন আন্তরিকতা নেই। কোন উদ্যোগও নেই। চিকিৎসা সেবার সুযোগ এদেশের মানুষ পাচ্ছে না।

আজ বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন, তার সেই কর্মসূচীকে যদি বাস্তবায়িত করতে পারতেন, প্রতিটি ইউনয়ন ও থানায় হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে চিকিৎসা সেবাকে গ্রামের মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেবার যে পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন, সে প্রচেষ্টা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এমনিভাবে চিকিৎসা, অর্থনীতি, বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে আমরা যদি তাকিয়ে দেখি তাহলে হতাশা- নিরাশা ছাড়া আর কিছু নাই।

আমাদের দেশ কৃষিভিত্তিক দেশ। আমাদের অর্থনীতির মূল নির্ভরতা হল কৃষির উপর। কিন্তু সেই কৃষি খাতকেও আজ বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে কোনদিন যে ঘটনা ঘটেনি, এমনকি পাকিস্তান আমলে যে ঘটনা ঘটেনি, একমাত্র বৃটিশ আমলে যে ঘটনা ঘটেছিল, এই বিএনপি সরকারের আমলে সে ঘটনা ঘটেছে।

১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দেশের সার নিয়ে যে কেলেঙ্কারী, সরকারী তদন্ত কমিটির যে রিপোর্ট পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে, তাতে এই সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপি নেতারাই জড়িত।

আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষে বিশিষ্ট কৃষিবিদ জলিল সাহেবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করি, সে রিপোর্টও বের হয়েছে। তাতে পাওয়া গেছে বিএনপির দলীয়করণ, ডিলারশীপ নিজস্ব লোকদের বিতরণ, বিএনপির মন্ত্রী, নেতা ও কর্মীরা এই সার নিয়ে বিক্রি করে কালোবাজারী লুটপাট করেছিল।

সার কেলেংকারীর সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয়েছে, আজকে তারা এই প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থী হবার যোগ্যতা লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ ও কৃষকদের মুখের গ্রাস যারা কেড়ে নিয়েছে, যাদের কারণে কৃষক হত্যা হয়েছে, তাদেরই তিনি সবচেয়ে বেশী উৎসাহ যুগিয়েছেন, তাদেরই তিনি এই প্রহসনের নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করিয়েছেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি করেও এই সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। শিল্প কল-কলকারখানা সব একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই কল-কারখানা কাদের স্বার্থে বন্ধ হচ্ছে, কেন বন্ধ হচ্ছে? বাংলাদেশের উৎপাদন হ্রাস করে, বাংলাদেশকে। বিদেশী পণ্যের বাজারে পরিণত করবার একটা পরিকল্পনা নিয়েই যেন এই সরকার মাঠে নেমেছে। প্রায় ১৭ জন শ্রমিককে তারা হত্যা করেছে, হাজার হাজার কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিক বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে ক্ষুধার তাড়নায় পরিবার পরিজনের মুখে অন্ন তুলে দিতে না পেরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। এটা বিএনপির চরিত্র। অতীতেও আমরা দেখেছি, তাদের নেতা জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তখন বহু ব্যাংক কর্মচারী কিভাবে ছাঁটাই করেছিলেন, বহু ব্যাংক কর্মচারী পরে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছিল।

কিন্তু এসব ঘটনা এ সরকারকে কোনরকম নাড়া দেয় না। তারা ক্ষমতায় থেকে দলীয়করণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি করে যাচ্ছে এবং কীভাবে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখবে সেটাই তাদের একমাত্র চেষ্টা।

আজকে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকত, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতেন, এদেশে কৃষকদের এভাবে নিহত হতে হত না। শ্রমিকদের নিহত হতে হত না। দেশের অবস্থা আজকে এ পর্যায় এসে পৌঁছাত না। মুক্তিযুদ্ধের যে মূল চেতনা, স্বাধীনতার সুফল, বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, এই ২৫ বছরে যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন আজকে সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতো।

অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, আজ ২৫ বছর পরেও আমরা দেখতে পারছি যে, আগামীতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সে নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় যিনি জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে মুরগী সাপ্লাই দিয়েছিলেন বা জেনারেল এরশাদ সাহেবের ঝাঁড়দার হিসাবে যিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন, সেই ঝাড়ুদার আর পঁচাত্তরের খুনী ছাড়া আর কাউকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে আনতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণেও এই ঝাঁড়দার আর খুনীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন। অর্থাৎ উনি যে অপকর্ম করেছেন, সে অপকর্মের দোসরও তিনি পেয়েছেন খুনী আর ঝাড়ুদারদের নিয়েই, কাজেই ধন্যবাদ তো তিনি দেবেনই।

আজকের খবরের কাগজেই দেখেছি, চট্টগ্রামের হাজার হাজার মুসুল্লী এই রমজান মাসে যে প্রহসনমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছেন। অর্থাৎ এই রমজান মাসে এই প্রহসনমূলক নির্বাচন করে জনগণের ভোট চুরি করার যে পায়তারা তারা করছে তার বিরুদ্ধে আজকে মুসুল্লীরা পর্যন্ত প্রতিবাদ করছেন।

আমরা যে দাবী করেছিলাম, দেশ ও জাতির জন্য তা অত্যন্ত সময়োচিত এবং জরুরী। আমরা চেয়েছিলাম নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অন্ততঃ আগামী আরও তিনটি নির্বাচনও যেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় তারই দাবীতে সংগ্রাম আন্দোলন করে যাচ্ছিলাম।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, যখন ৯০ সালে একসঙ্গে আন্দোলন করি, তখন তিনি এই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করেছিলেন। আমি তাকে টেলিফোন করলাম, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানের জন্য আহ্বান জানালাম নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মেনে নিতে অনুরোধ করলাম।

তিনি জবাব দিলেন, ‘নিরপেক্ষ বলে কি কিছু আছে, তিনি মনে করেন না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার তিনি মানেন না? তিনি বোঝেন না। উনি ‘৯০-তে বুঝতেন, আর ৯৫-তে বুঝেন না। তার মানে হচ্ছে ক্ষমতায় থেকে কিভাবে ভোটটা চুরি করবেন। ক্ষমতায় না থাকলে তো আর ভোট চুরি করতে পারবেন না।

ইতোপূর্বে আপনারা দেখেছেন, এই সরকারের প্রহসনমূলক নির্বাচনে ৪৫ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি হয়তো আত্মতৃপ্তি পেতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরনের সাধারণ নির্বাচনে যেখানে এতোগুলি দল রয়েছে, সেখানে জনগণ এ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই নির্বাচন প্রহসনমূলক। এ নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশ না নেয়ায় এবং বিএনপি ৪৫টি আসনে নির্বাচিত হওয়ায় একথাই প্রমাণ করে যে, এ নির্বাচন প্রহসনমূলক। এছাড়া ভোট কারচুপি করবার জন্য ভোটার লিষ্ট করেছে ইচ্ছেমত।

এই ভোটারলিষ্ট এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যে, ভোট হলে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যেতে পারবে না। তারা আগে থেকেই প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে এবং তা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। মাত্র পাঁচদিনের নোটিশে কোন কোন টিএনওকে বদলী করা হয়েছিল, সেটা পরিকল্পিতভাবে।

এমনকি নির্বাচন কমিশন প্রশাসনে নিয়োগের ব্যাপারে একটা সার্কুলার দিলেও সচিবালরের ছুটির দিনে পেছনের তারিখ দিয়ে বদলী করা হয়। এ কী স্বেচ্ছাচারীতা? এদেশে কি কোনো সরকার আছে, কোনো নিয়ম নীতি আছে? কিছুই নেই। চরম স্বেচ্ছাচারীতা চালিয়ে যাচ্ছে এ সরকার। অর্থাৎ ভোট চুরি করাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

আমরা নির্বাচনে একটা সুষ্ঠু ধারা আনতে চাই যে, বিএনপি যে নির্বাচন করতে চাচ্ছে তাতে আমরা যদি অংশ নিতাম, এতক্ষণে খবর পেতাম যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কারও ঘর পুড়িয়েছে, কেউ নিহত হয়েছে। প্রতিদিনই খবর আসতো।

বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী, ছাত্রদল, যুবদলের হাতে বহু অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে কত হাজার হাজার অস্ত্র তার নিজের দলের লোকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন, তার কোন হিসেব নেই। অথচ আমরা কি দেখলাম, সেনাবাহিনী নামান হল।

আজ প্রায় ৩০ দিন হয়েছে, সেনাবাহিনী অস্ত্র উদ্ধার করতে নেমেছে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আর কারও বাড়ি ঢুকে বউ-ঝিদের সামনে বালিশ। পর্যন্ত কেটে কেটে তারা অস্ত্র তল্লাশি করছে। যখন পারছে না, তখন তাদের গ্রেফতার করছে এবং হয়রানী করছে।

সারা বাংলাদেশে একটা ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এই অস্ত্র উদ্ধারের নামে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিরোধীদলের সকলকে তারা হয়রানী করছে। আর অস্ত্র উদ্ধার কী হচ্ছে? কয়েকটি মরচে পড়া পাইপগান ছাড়া তারা কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারে নাই।

আমার প্রশ্ন যে, সেনাবাহিনী অস্ত্র উদ্ধার করতে গেল, অথচ তারা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারল না কেন, কয়েকটি মাত্র পাইপগান আর হাজার হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার করা ছাড়া? এতে কি সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না? জনগণের কাছে গিয়ে তাদের হয়রানী করা এবং এতে করে কি জনগণের সেনাবাহিনীর প্রতি একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে না?

কিন্তু অস্ত্রের ডিপো যেখানে, সেনাবাহিনী সেখানে কেন হাত দিচ্ছে না? বিএনপির ছাত্রদল, যুবদলসহ বহু নেতাকর্মীদের কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্র বিতরণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে লিষ্টটা নিয়ে এলেই তো অস্ত্র উদ্ধার হবে।

কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্র উদ্ধারের নামে যে লিষ্ট দিয়েছেন সেটা বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের। সেটায় তো অস্ত্র উদ্ধার হবে না। তাদের হাতে তো কোন অস্ত্র নেই । অবৈধ অস্ত্র নিয়ে চলতে পারে, যারা সরকারের মদদ পায়। সরকারী মদদ যারা পায় না, সরকার যাদের রক্ষা করে না, কিংবা আইন-

শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা যাদের রক্ষা করে না তারা কি করে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘুরবে? কাজেই অবৈধ অস্ত্র যদি উদ্ধার করতেই হয় তাহলে দলমত নির্বিশেষে সকলের উদ্যোগে যদি অভিযান চালান হয় তবেই হবে। দলীয় সরকারের অধীনে সেনাবাহিনী অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে কোনদিনই অস্ত্র উদ্ধার করতে পারবে না।

অযথা বিরোধীদলকে হয়রানী করবে। আর মনে হচ্ছে, এই প্রহসনমূলক নির্বাচনে সেনাবাহিনী কি বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছে কিনা, জনগণের মনে সে প্রশ্ন আজ দেখা দিচ্ছে

এই প্রহসনমূলক নির্বাচনে কোন দল অংশ নিচ্ছে না। জনগণ অংশগ্রহণ করছে না। তাহলে জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করবার কি অধিকার এই সরকারের আছে। জনগণের টাকা এভাবে তারা কেন অপচয় করছে। আইডি কার্ড করবার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

ভোটার হবার যোগ্যতার বয়স ১৮ বছর, কিন্তু আইডি কার্ডে ১৬ বছর বয়স লেখা হয়েছে বেশ বৃদ্ধ বয়সের ছবি দিয়ে অথবা কোন মহিলার ছবি দিয়ে পুরুষের নাম দিয়ে। এরকম বিভিন্নভাবে আইডি কার্ড বানিয়ে অর্থ অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। এই আইডি কার্ডের নামে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তাও লুটপাট করে খাওয়ার যেন ষড়যন্ত্র, আসল কাজের কোন লক্ষণ নেই।

আর বিএনপি সরকার দুর্নীতির কারণে আজকে ভোট চুরি করে বেড়াচ্ছে, কেননা তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। দুর্নীতি করে আরও কোটি কোটি টাকা কামাই করবার জন্য আজকে তারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।

অর্থ তারা আত্মসাৎ করেছে, জনগণের যে অর্থ সম্পদ তারা করে নিয়েছে, সে অর্থে সম্পদ রক্ষা করাই আজ তাদের লক্ষ্য। দেশ শাসন বা দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন, দেশের মানুষের দিকে ফিরে তাকান, তাদের সেদিকে কোন দৃষ্টি নেই।

আমি জানি, আমাদের অনেক নেতা-কর্মী রয়েছেন, এখানে এসেছেন, তাদের কিছু প্রশ্ন থাকবে। কিছুদিন আগে পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন যে, আমাদের সঙ্গে সরকারী দলের অনানুষ্ঠানিক কিছু আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

আপনারা জানেন, ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর আমরা যখন সংসদ থেকে পদত্যাগ করি, তার আগে আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি রূপরেখা দিয়েছিলাম। এই রূপরেখায় ছিল সংসদে আন্দোলনরত যে সমস্ত দল রয়েছে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী বা মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হোক।

পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা সমঝোতার দরজা খুলে দেবার জন্য আমরা ঘোষণা দেই যে, একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার উভয় দলের মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা চেয়েছিলাম, যেভাবে ১৯৯০ সালে সাহাবুদ্দিন সরকার আমরা যেভাবে পেয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা চেয়েছিলাম।

এর পূর্বে আমরা সংসদে বিল আনি। আমরা বারবার চেষ্টা করি সরকারী দলকে এই বিল সংসদে উত্থাপন করবার সুযোগ করে দেবার জন্য। আমরা বলেছিলাম, এই বিলটি এলে আমরা আগামী তিনটি নির্বাচন যাতে করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় আমরা তার ব্যবস্থা করবো। বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া আমরা পাইনি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি। সংসদে।

দেশের মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে হাজার হাজার প্রস্তাব বিরোধীদল থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণের বিল এনেছি। প্রধানমন্ত্রী ওয়াদা করেছিলেন ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ বাতিল করবেন।

১৯৯১ সালে ১১ই আগষ্ট প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিরা। বর্তমান স্পীকারসহ কয়েকজন মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই ওয়াদা করেছিলেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সুগন্ধায় যাই। সেখানেও তিনি কথা দিয়েছিলেন যে ‘এটা কোন বিষয়ই নয়। এটা হয়ে যাবে।’

ওনার এই ওয়াদার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে তদানীন্তন চীফ হুইপ মোহাম্মদ নাসিম বিল উত্থাপন করেন। ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ বাতিল। করার বিল। সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন ইউসুফ সাহেব বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার বিল উত্থাপন করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের সে ওয়াদাও তারা রক্ষা করেনি।

এছাড়া জনগুরুত্বসম্পন্ন যতগুলি বিল আমরা আনি তার একটিও সংসদে কখনও উত্থাপন করতে দেয়া হয়নি। অথবা কমিটি করে ‘কোল্ড স্টোরেজে’ পাঠিয়ে দেয়া হয়, যা কখনও আলোর মুখ দেখে না, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে যে হাজার হাজার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয় তার গুরুত্ব কখনও তারা অনুধাবন করেনি। যেহেতু বিরোধী দল থেকে আনা হয়েছে একে একে সবগুলি তারা নাকচ করে দেয়।

যেমন গ্রামে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার কথা, মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আমরা এনেছি, প্রতিটি প্রস্তাবই তারা নাকচ করে দিয়েছে, ‘না’ ভোট দিয়ে। যখনই আমরা দেশের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করতে গিয়েছি আমাদেরী কথা বলতে দেয়া হয়নি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়েছি। কিন্তু কখনও প্রধানমন্ত্রীর কোন বিবৃতি আমরা পাইনি।

সংসদ নেত্রী হয়ে তিনি সংসদকে সফল করবার কোন পদক্ষেপ নেননি। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে একটা বক্তৃতা দিতে পারতেন, যদি সে বক্তৃতা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হয়। এই একটা বক্তৃতায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। আপনারা শুনেছেন, যখনই আওয়ামী লীগকে কোন গালি দেবার বক্তৃতা থাকত, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা দিয়েছেন।

এছাড়া দেশের কোন সমস্যা নিয়ে কোন বক্তৃতা বা বিবৃতি তিনি কখনও দেননি। বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিগুলিকে কার্যকর করার জন্য কোন পদক্ষেপ তিনি নেননি। কোন কমিটি সভায়ও তিনি উপস্থিত হননি। যে সমস্ত কমিটির তিনি চেয়ারপার্সন একটি দিনের জন্যও সে সমস্ত কমিটি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেননি। অথচ সেসব কমিটি সভা অন্য লোক দিয়ে সভাপতিত্ব করা হয়েছে।

কিভাবে তাদের হাতে ক্ষমতা গেল আমরা জানি না। আমরা জানি, একটি কমিটি যখন হয়, কেউ যখন তার প্রধান হন, একটি সভা করেও তো তিনি কারও হাতে ক্ষমতা দিতে পারেন। কিন্তু এভাবে বিনা নোটিশে একজনকে দিয়ে তিনি সভাপতিত্ব করালেন, অর্থাৎ সংসদীয় কমিটিগুলিকে তিনি উপেক্ষা করেছেন। এভাবে সংসদকে তিনি দিনের পর দিন অকার্যকর করেছেন। আমরা দেখেছি সংসদে বসে জনগণের কোন সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারি না। পরবর্তীতে যখন আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল নিয়ে এলাম সেটাও তারা মানল না। সন্ত্রাস বন্ধ করবার জন্য সংসদে বসে যে কমিটি হল সে কমিটিকে তারা কাজ করতে দিল না। দুর্নীতি তদন্তের জন্য কমিটি হয়েছিল। সেই কমিটিকেও তারা কাজ করতে দেয়নি।

এমনি যখন অবস্থা, ঠিক সে সময় হেবরনে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছিল, আমরা চেয়েছিলাম আমাদের সংসদ থেকে একটি প্রস্তাব দেব ও আন্তর্জাতিকভাবে পাঠাব। হেবরনের মুসলমানদের হত্যার নিন্দা করে। সেখানেও বিএনপি নেতৃত্বের অভ্যস্ত আপত্তি ছিল।

এর বিরোধীতা করতে গিয়ে বিএনপির এক মন্ত্রী আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত দিয়ে কিছু ট্যুক্তি করে, যার ফলে সকল বিরোধীদল সংসদ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। আমরা বলেছিলাম, ঐ মন্ত্রীকে তার কথা প্রত্যাহার করতে হবে ও ক্ষমা চাইতে হবে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে তিনি তা করা থেকে বিরত থাকেন। কাজেই আমরা আর সংসদে ফিরে যেতে পারিনি, আমরা আর সংসদে ফিরে যাইনি। তবে যে সংসদকে সংসদনেত্রী স্বয়ং অকার্যকর করেছেন সে সংসদে আর ফিরে যাওয়া প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি।

না। কারণ সেখানে বসে শুধুমাত্র মাসোহারা ও ভাতা নেয়া ছাড়া জনগণের কোন সমস্যার সমাধান তো আমরা করতে পারিনি। দুর্নীতির তদন্ত আমরা করতে পারিনি। সন্ত্রাস বন্ধ আমরা করতে পারিনি।

সন্ত্রাস বন্ধের জন্য আমরা প্রস্তাব করেছিলাম বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের নামের তালিকা দেয়া হবে, আর সরকারী দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সন্ত্রাসী কেউ যদি থাকে তাদের নামের তালিকা দেয়া হবে। এ প্রস্তাব দেবার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়। বিরোধীদলের মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ ছিলেন কমিটিতে। কাজেই এভাবে একের পর এক যখন জনগণের দাবীসমূহ উপেক্ষা করা হয়, আমরা সংসদ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই।

আমরা ২৮ তারিখে যে ফর্মূলা দিয়েছিলাম, সমঝোতার জন্য পরবর্তীতে তার পরিবর্তন করি। আমরা পরবর্তীতে অনেক ছাড় দেই। এমনকি আপনারা জানেন, ১০ জানুয়ারী আমি বলেছিলাম রাষ্ট্রপতি এবং উপদেষ্টাম-লী দিয়ে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হোক।

কিন্তু আমার দাবী ছিল সে মূহূর্তে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে। কিন্তু তারা সে প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এখন আবার বিভ্রান্তি ছড়াবার জন্য কোন কোন মন্ত্রী বলে থাকেন আমরা প্রস্তাব করেছি তারা নাকি সে প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন।

এখানে আমি কিছু কথা আপনাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকারী দল থেকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী তিনি মেনে নেবেন, স্পষ্টভাবে কোন বক্তৃতা আজ পর্যন্ত দেননি।

আপনারাও তা জানেন, তাদের কিছু মন্ত্রীকে দিয়ে কিছু কিছু কথা তারা বাজারে ছড়িয়েছেন। যেমন রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টামন্ডলী সম্পর্কে। আমরা সেখানে বলেছিলাম যে, নির্বাহী ক্ষমতা কার হাতে থাকবে? যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার রয়েছে, সংসদীয় পদ্ধতি সরকার অবকাঠামো আমরা যদি ঠিক রাখতে চাই তো অবশ্যই সেখানে একজন। প্রধানমন্ত্রী থাকতে হবে।

সরকারী দলের প্রধানমন্ত্রী বানাতে খুব আপত্তি। এই আপত্তির সময় আমরা বলেছিলাম তাহলে হয় প্রধানমন্ত্রী, অথবা প্রধান উপদেষ্টা অথবা প্রাইম এডভাইজার যে নামেই হোক ডাকুক কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা সম্পন্ন একজনকে এখানে থাকতে হবে। আর এছাড়া রাষ্ট্রপতি এবং উপদেষ্টামণ্ডলী থাকতে পারে। কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা প্রধান উপদেষ্টার হাতে থাকবে বা ঐ প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে যাতে সংসদীয় পদ্ধতির এই কাঠামো ঠিক থাকে। কিন্তু সরকারী দল তা মেনে নেয়নি।

একদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সংবিধানের বাইরে যাবেন না। অপরদিকে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা তারা লংঘন করে যাচ্ছেন। আমরা যখন পদত্যাগ করলাম, সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে কোন সংসদ সদস্য। পদত্যাগ করতে পারেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্পীকার সে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করলেন না। এটা কোন দেশে, কোন ইতিহাসে নেই যে সংবিধানকে সম্পূর্ণভাবে লংঘন করা হবে। আমরা পদত্যাগ করব, আর সেটা গ্রহণ করা হবে। না-এটা কখনও সংবিধানসম্মত হতে পারে না। সংবিধানকে তারা লংঘন করলো। সংবিধানের ৭ম ও ১১ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তারা বিভিন্ন সময়ে লংঘন করেছে।

আমরা ২৮ ডিসেম্বর তারিখে পদত্যাগ করলাম, ২৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রী মুন্সীগঞ্জের এক জনসভায় বক্তৃতা করলেন যে, তিনি নির্বাচনের ৩০ দিন আগে পদত্যাগ করবেন। একদিকে তিনি বলেন যে, সংবিধানের বাইরে যেতে পারেন না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী মানতে পারেন না। অপরদিকে বলেন যে, ৩০ দিন আগে পদত্যাগ করবেন।

উনি যদি সংবিধানের বাইরেও না যাবেন তাহলে ৩০ দিন আগে পদত্যাগের কথা বলেন কিভাবে? সেটাও তো সংবিধানবিরোধী। তারপরও তিনি ৩০ দিন আগে পদত্যাগের কথা বলেন। কিন্তু একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ৯০ দিন দরকার।

৩০ দিন আগে যদি পদত্যাগ করতে পারেন, তাহলে ৯০ দিন আগে করবেন না কেন? এটাও তো জনগণের কাছে কোনমতে বোধগম্য নয়। তাহলে এর মধ্যে একটা দূরভিসন্ধি নিশ্চয় রয়েছে। আমরা সমঝোতার অনেক চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের মধ্যে থাকতে চান।

আমরা দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী এস আর পালসহ আরও অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি যে কিভাবে সংবিধানের অবকাঠামোর ভেতরে থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা যেতে পারে তারও একটা ফর্মুলা দেয়া হলো।

সেটা ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন এবং তার দল থেকে কেউই প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না বা সরকার গঠন করবেন না। সেখানে যখন একটি শূন্যস্থান হবে রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাবলে বিরোধী-সরকারী উভয় দল থেকে মনোনীত একজন ব্যক্তিকে ক্ষমতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করবেন। যিনি শুধুমাত্র নির্বাচন পরিচালনা করবেন।

আমরা যখন সংবিধানের আওতার মধ্যে কিভাবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার করা যায়, সে ফর্মুলা দিলাম, তাও তাদের মনঃপুত হলো না। তখন তারা বললেন রাষ্ট্রপতির হাতে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ করা হবে। রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান।

এদেশে যা কিছু নির্বাহী কর্মকা- করা হয়, সবই রাষ্ট্রপ্রধানের নামে করা হয়। রাষ্ট্রপতির হাতে এমনিতেই ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী কর্মকা- যা করেন তাও রাষ্ট্রপতির নামেই করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতির হাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন কিনা তেমন কোন কথা তো তিনি কখনও বলেননি।

সেখানেও তিনি জাতিকে একটি ধোঁকা দিতে চেয়েছেন। সংবিধান মোতাবেক যদি তিনি চলতে চান একদিকে সংবিধানের বাইরে যাবেন না, অপরদিকে রাষ্ট্রপতির হাতে নির্বাহী ক্ষমতা দিতে চান এটাও তো তাহলে রাষ্ট্রপতির হাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা তুলে দেবার কোন বিধান তো সংবিধানে লেখা নাই। কাজেই স্ববিরোধীতা ।

 

এবং রাষ্ট্রপতির পুত্রও নির্বাচনে একজন প্রার্থী। সেখানে তো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন হয় না। প্রধানমন্ত্রী এটাও তো জনগণকে ধোঁকা দেবার জন্য কূটকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রপতিও তো বিএনপি’র মনোনীত বলেছিলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ বলে নাকি বাংলাদেশে কেউ নেই- যদি থেকে থাকে তা পাগল আর শিশু।

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন দেখা দেয় যে সাহাবুদ্দিন সাহেব নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব বলেই আমরা তাঁকে রাষ্ট্রপতি করেছিলাম। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নির্দলীয় নিরপেক্ষ হিসাবে সাহাবুদ্দিন সরকারকে মেনে নিয়েছিলেন এবং তাঁর অধীনে নির্বাচনও করেছিলেন। তাহলে সাহাবুদ্দিন সাহেব কি ছিলেন সে প্রশ্নটা তো অবশ্যই আসে।

উনি বলেছেন, পাগল আর শিশু। আমাদের মান্নান সাহেব অবশ্য চমৎকার একটা কথা বলেছিলেন যে, সাহাবুদ্দিন সাহেবকে শিশু তো কেউ বলবে না। তাহলে বাকী থাকে কি- পাগল। প্রধানমন্ত্রী সাহাবুদ্দিন সাহেবকে ঐ বিশেষণে বিশেষিত করতে চাইছেন কি না?

অর্থাৎ শুনার যে অসংলগ্ন কতাবার্তা, প্রধানমন্ত্রী হয়েও তাঁর এ কথাবার্তা এদেশের রাজনীতিতে কখনই সমাধানের পথ খুঁজে বের করে না। তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ হিসাবে ‘পাগল ও শিশু’ ছাড়া আর কাউকে দেখেন না। অর্থাৎ সমঝোতার আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন মুখে সংবিধানের কথা বলছেন, অথচ সংবিধান বহির্ভূত প্রস্তাব রাখছেন। পদে পদে সংবিধান লংঘন করছেন। আবার ‘সংবিধান সংবিধান’ করে চিৎকার করছেন।

১৫ ফেব্রুয়ারী যে নির্বাচন তারা করতে যাচ্ছেন এটা নাকি সংবিধান মোতাবেক। এ নির্বাচন করতেই হবে। অর্থাৎ সুপরিকল্পিতভাবে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন যাতে রোজার মধ্যে পড়ে এটা তারা করেছে। এটা একটা ষড়যন্ত্রের নীলনকশা, আমরা চেয়েছি সমঝোতা, কিন্তু বিএনপি কোনদিনই সমঝোতা চায়নি। তার প্রমাণ হচ্ছে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন বৈঠক হয়েছে।

সে বৈঠকে আমরা যত ছাড় দিয়েছি আমাদের পক্ষ থেকে, ততই তারা নতুন নতুন এক একটা ধুঁয়া তুলেছে। আমরা যখন রাষ্ট্রপতি দ্বারা উপদেষ্টা পরিষদের কথা বললাম, তখন একথাও বলেছি যে, নির্বাহী ক্ষমতাও উপদেষ্টাদের হাতে থাকবে।

উপদেষ্টাম-লীই একজনকে প্রধান উপদেষ্টা করবেন। এতদূর পর্যন্ত আমরা ছাড় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তারা কোন সমঝোতার পথে আসে নাই। কারণ সমঝোতা তারা চায় না। দেশকে সংঘাতের দিকে তারা ঠেলে দিতে চেয়েছে। তারা দেশকে প্রহসনের দিকে নিয়ে গিয়ে একটা প্রহসনমূলক নির্বাচন করতে চেয়েছে।

আমরা এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করি। মানুষের জন্য আমরা রাজনীতি করি। আমরা মাঝে মাঝে দেখি কোন কোন দূতাবাস থেকে কিছু কথা ছাড়া হয়। গতকাল আমেরিকান ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে একটি বিবৃতি এসেছে।

সেখানে বলা হয়েছে ভোটারদের মনমতো প্রার্থী বাছাই করার সুযোগ দেবার জন্য। যেখানে কোন রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, সেখানে আমেরিকান একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে বিবৃতি পাঠাচ্ছেন। যে ভোটারদের মনমতো প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ দিতে হবে। উনি প্রার্থীটা দেখলেন কোথায়? তার কাছে এটাই আমার প্রশ্ন।

আমি আমাদের সংবাদ মাধ্যমকেও অনুরোধ করবো যে আমার এ প্রশ্নটা যেন তুলে ধরা হয় যেখানে কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, যেখানে সংসদে শতকরা ৬৯ ভাগ ভোটারের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, এদেশে রাজনৈতিক দল হিসাবে পরিচিত ও সম্মানিত কোন একটি দলও যে নির্বাচনে। প্রার্থী দাঁড় করায় নাই, সে নির্বাচনে ভোটাররা প্রার্থী কাকে বাছাই করবে, কিভাবে বাছাই করবে?

কাজেই যারা গণতন্ত্রের – তেলধারী, গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে পরিচিত, তারা এটাকে কিভাবে নির্বাচন হিসাবে গ্রহণ করে এটাই আমার প্রশ্ন? আমার প্রশ্ন থাকবে বৃটেন ও আমেরিকার কাছে যে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও নির্বাচন বলতে তারা কি বোঝে? তাদের গণতন্ত্র কি তাদের দেশের ভূখ-ের সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ থাকে?

আমেরিকা আটলান্টিক পার হলেই কি তাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বদলে যায় বা নির্বাচনের নিময় কানুন কি বদলে যায়? বৃটেনের ভূখ-ের সীমারেখার মধ্যেই কি শুধু গণতন্ত্রের চর্চা থাকে? আমাদের দেশের মানুষ কি অপরাধ করেছে যে তাদের ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করলে তারা প্রহসন করবে?

যারা দুর্নীতি করবে- সেই দুর্নীতিবাজ অযোগ্য অদক্ষ সরকারকেই তারা সমর্থন দিয়ে যায় কোন উদ্দেশ্যে? কেন? এটা আমাদের প্রশ্ন? দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি ঐ সমস্ত দেশগুলির কাছে সে প্রশ্ন করে যাচ্ছি। তারা সবসময় দুর্নীতিবাজ, অদক্ষ, অযোগ্য, অপদার্থ সরকার গুলিকে কিভাবে সমর্থন করে? এর পেছনে উদ্দেশ্যটা কি?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে হয়তো তাদের পছন্দ হবে না, কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। আওয়ামী লীগ জনগণের কথা বলে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে এদেশে শ্রমিকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে এভাবে নির্বিচারে আমাদের শিল্প কল-কারখানা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের অর্থনীতি পঙ্গু করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে আমাদের কৃষকদের নির্বিচারে হত্যা করার সুযোগ

সৃষ্টি করতে পারবে না। আমাদের কৃষিখাতকে দুর্বল করে দিয়ে আমাদেরকে বিদেশের মুখাপেক্ষী করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ এদেশকে চায় আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে। আওয়ামী লীগ বাঙালী জাতিকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিগণিত করতে চায় না বলেই তাদের আপত্তি থাকতে পারে। কারণ তারা তো আমাদেরকে গরীব ও দুর্বল ভেবে ভিক্ষা খাওয়াতে চায়।

ভিক্ষা খাইয়ে খাইয়ে আমাদের পঙ্গু করে রাখতে চায়। মনে হয় যেন একেবারে পঙ্গু ও লুলা হয়ে থাকবে আর তারা শুধু ভিক্ষা খাওয়াবে। এটাই তাদের উদ্দেশ্য। সেজন্য আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের এতো অনীহা। বারবার আওয়ামী লীগকে জনগণ চাইলেও কোন একটা ষড়যন্ত্রের কালো হাত রয়েছে যে কালো হাত বারবার এদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে পদদলিত করে।

আজকে যেখানে একটি রাজনৈতিক দলও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, যেখানে বিএনপি একতরফা, একদলীয় নির্বাচন করছে সেখানে এটাকে নির্বাচন হিসাবে কোন গণতান্ত্রিক দেশ স্বীকৃতি দিতে পারে এতে আমি বিস্মিত বোধ করছি। শুধু আমি নই, যারাই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারাই বিস্মিত হবে। কোন গণতান্ত্রিক দেশ এই নির্বাচনকে নির্বাচন হিসাবে গ্রহণ করতে পারে না।

কিন্তু এটা আমাদের দুর্ভাগ্য এজন্য যে, পঁচাত্তরে জাতির জনককে হত্যা করে এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা হত্যা করা হয়েছে। এদেশের কি উন্নতি হয়েছে তার পরে? একটি মুষ্টিমেয় ধনীক শ্রেণী গড়ে উঠেছে। কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। কিন্তু দেশের মানুষ তো দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হচ্ছে। বড় বড় উঁচু উঁচু দালান কোঠা উঠেছে।

দালান-কৌঠার মাঝেই যে ছোট্ট ছোট্ট বস্তিগুলো রয়েছে, সেখানে মানুষ কী মানবেতর জীবনযাপন করছে? এই ঢাকা শহরে দালানকোঠায় বসবাসকারীর সংখ্যা যত না বস্তিবাসীর সংখ্যা তার চেয়েও বেশী। তাদের জন্য ওরা কি করেছে? গ্রামে-গঞ্জে চর এলাকায় যাবেন, সেখানেও তো দুর্ভিক্ষ চলছে।

একবেলা একমুঠো ভাত মানুষের জোটে না। আটা গুলিয়ে কোনমতে একবেলা খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে এদেশের অগণিত জনসাধারণ। মাথার উপর চাল নেই, শিক্ষা নেই, চিকিৎসা নেই, বেঁচে থাকার এতটুকু কোনরকম ব্যবস্থা তাদের নেই। ধুঁকে ধুঁকে তারা মারা যাচ্ছে।

অকালে মৃত্যুবরণ করছে। অপুষ্টিতে এদেশের শিশু অন্ধ হচ্ছে, বিকলাঙ্গ হচ্ছে। অপুষ্টির কারণে বাঙ্গালি জাতি তার স্বাভাবিক উচ্চতা হারাচ্ছে। যেখানে বিশ্বের অনেক দেশে উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর আমাদের সেখানে হ্রাস পাচ্ছে।

এদেশের অগণিত মানুষ আজকে বুভুক্ষ । আজকে তাদের উন্নতির জন্য, তাদের মঙ্গলের জন্য আত্মনির্ভরশীল করে দেশকে গড়ে তোলার জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরা সংগ্রাম করে যাচ্ছি। আর এখানেই আমাদের কোন কোন দাতাদেশের বোধ হয় আপত্তি। কারণ আমাদের জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক কর্মসূচী রয়েছে।

আমরা দেশের জন্য কি করতে চাই গত কাউন্সিল সভায় আমরা তার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কি হবে? কৃষি, শিল্প, শ্রমনীতি কি হবে, শিক্ষা ব্যবস্থা-প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, পেশাগত শিক্ষার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যনীতি আমাদের কি হবে, নারীর মর্যাদা ও অধিকার আমাদের কি হবে?

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমরা কিভাবে দেব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, রেডিও-টেলিভিশন ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আমরা কিভাবে নিশ্চিত করব? প্রশাসন আমরা কিভাবে গড়ে তুলতে চাই, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা আমরা কিভাবে প্রতিষ্ঠা করবো, স্থানীয় সরকার পদ্ধতি কি হবে এবং প্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় গণতান্ত্রিক সরকার আমরা কিভাবে গড়ে তুলবো,

আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি কি হবে, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি কি হবে, বৈদেশিক সম্পর্ক কি হবে ইত্যাদি বিষয় গত বিশেষ কাউন্সিল সভায় আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। কাজেই কেউ কেউ যদি বলতে চেষ্টা করে যে, আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা নেই, আমরা প্রশাসন কি করবো, সেটা সঠিক নয়। অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য এ ধরনের কথা তুলে নিয়ে আসার চেষ্টা করে।

তাদের অনুরোধ করবো বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনের আমার বক্তব্য, আমাদের ঘোষণাপত্র এবং আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালাগুলি, যাদের আগ্রহ রয়েছে তারা দয়া করে পড়ে দেখবেন যে, আমরা কিভাবে সরকার গঠন করতে পারি, আমাদের কার্যক্রমের সমস্ত ব্যাখ্যা আমরা সেখানে দিয়েছি।

কাজেই এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবার চেষ্টা হলে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আমাদের বক্তব্য ও ঘোষণাপত্রগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবেন। মানুষকে যেন বিভ্রান্ত না করতে পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখে পদক্ষেপ নেবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কি করণীয়? যে গ্রহসনমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে কোন প্রার্থী নেই,ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কোন সুযোগও নেই এবং এই নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তা ইতিমধ্যেই তৈরী হয়ে গেছে।

কাজেই নির্বাচনের ফলাফল যখন তৈরী হয়ে গেছে, আর নির্বাচনের ফলাফল যখন শুধু ঘোষণা করা হবে, সেখানে অযথা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাররা কেন বিএনপির সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছিত হবে আর প্রাণ হারাবে। কেউ ছেলে হারাবে, কেউ বাপ হারাবে, কাজেই ভোটকেন্দ্রে যাবার কোন প্রয়োজনই দেশের মানুষের নেই।

যে নির্বাচনের ফলাফল আগেই তৈরী হয়ে যায় সে নির্বাচন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার দরকারই কি? কাজেই এই প্রহসনমূলক নির্বাচন বাংলাদেশের মাটিতে হতে পারে না। এ নির্বাচন হতে দেয়া যায় না। এই নির্বাচন বন্ধ করতে হবে।

আমি সরকারকে বলবো এবং যে সমস্ত দাতাদেশসমূহ সরকারের এ প্রহসনমূলক নির্বাচনকে মদদ দিচ্ছে তাদেরকেও আমি হুঁশিয়ার করবো যে আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন বরদাস্ত করবে না।

আমি জানি আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হিসাবে গড়ে তুলতে, যে কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যা করা হয়েছিল জাতীয় চার নেতাকে।

আজকে আমি যে কথা বলছি, আমি জানি আমার উপরও আঘাত আসতে পারে। কিন্তু আমাদের রাজনীতি আমরা দেশকে ভালবাসি। দেশের মানুষকে ভালবাসি। এদেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলনে যদি জীবন দিতে হয়, আমি আমার জীবন দিতেও প্রস্তুত।

প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। আমি এটাও বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ যারা আজকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি তাদের অস্বীকার করে এরকম একটি প্রহসনের নির্বাচন হয়ে যাবে, প্রহসন করে ক্ষমতায় টিকে থাকবে এটা কখনও হতে পারে না, এদেশের মানুষ হতে দেবে না।

আমাদেরকে অস্বীকার করবে আর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এটা কখনও বরদাস্ত করা হবে না। এদেশের মানুষ তা বরদাস্ত করবে না। কাজেই এ নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। যে সমস্ত দাতাদেশ এ সরকারকে মদদ দিচ্ছে তাদেরও বলবো যে এই প্রহসনের খেলা বন্ধ করেন। এই প্রহসনের খেলা যদি বন্ধ না হয় এবং পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।

এই দাতাদেশের মদদে আজকে এই সরকার শক্তি পাচ্ছে, সাহস পাচ্ছে। দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য এরাই দায়ী। যারা এই সরকারকে প্রহসনের নির্বাচন করতে উৎসাহিত করছে, আমাদের দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবার জন্য তারাই দায়ী থাকবে।

আমরা দেশে শাস্তি চেয়েছি, আমরা দেশের নিরাপত্তা চেয়েছি, ভোটারের নিরাপত্তা চেয়েছি। আমাদের দেশের মানুষ ভোট দিয়ে তার মনমতো সরকার গঠন করবে সে অধিকারটুকু আমার দেশের মানুষ পাবে না, এটা কোনদিন আমরা মেনে নিতে পারি না।

আমরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে অবশ্যই এদেশের প্রতিটি মানুষকে সে অধিকার দিতে হবে যে, তারা তাদের মনমত সরকার ভোটের মাধ্যমে গঠন করবে। আর ভোটের মাধ্যমে এই সরকার পরিবর্তন করবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা এদেশে সে ব্যবস্থা আনতে পারবো অর্থাৎ আমাদের সংবিধানে ৭ম অনুচ্ছেদে যে কথা স্পষ্ট লেখা আছে “জনগণই হচ্ছে ক্ষমতার মালিক” অর্থাৎ ক্ষমতার মালিকানা থাকবে জনগণের হাতে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক শক্তি থাকবে জনগণের হাতে।

জনগণই হবে মূল ক্ষমতার উৎস। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জনগণকে ক্ষমতার মালিক করতে পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা এদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত না জনগণকে ক্ষমতার মালিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত এদেশের মানুষ স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ পাবে না।

শিক্ষার সুযোগ পাবে না, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে না, জীবন নিরাপত্তা পাবে না, দেশ থেকে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না, দেশ থেকে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ হবে না, কায়েমী স্বার্থবাদীদের লুটপাট বন্ধ হবে না। কাজেই এদেশে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি যদি আনতে হয় তাহলে অবশ্যই জনগণকে ক্ষমতার মালিক করতে হবে। অবশ্যই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক শক্তি জনগণের হাতে তুলে দিতে হবে।

আমি এ প্রসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকে আহ্বান করবো অস্ত্র উদ্ধারের নামে তাদেরকে যে বিভিন্ন এলাকায় পাঠান হয়েছে, তারা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি, চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা চাইনা একটি বিশেষ দলের কর্মকা-ে সহায়তা করতে গিয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, যে সশস্ত্র বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিজের হাতে যে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যে সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা করতে গিয়ে সম্মান অর্জন করেছে, যে সশস্ত্র বাহিনী ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে সম্মান অর্জন করেছে,

আজকে সে সশস্ত্র বাহিনী কোন বিশেষ দলের ভোট চুরির সহায়তা করে তাদের সম্মান করবে, তারা ব্যর্থ হবে- আমরা কখনও এটা চাই না। কারণ তাদের ব্যর্থতা আমাদের মনেও অত্যন্ত কষ্টদায়ক হবে। দেশে-বিদেশে আমাদের সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানী করে শুধু নিজেদের শক্তি দেখালে চলবে না। অস্ত্র উদ্ধারের এই প্রহসন বন্ধ করতে হবে। কাজেই সশস্ত্র বাহিনীকেও ব্যারাকে ফিরিয়ে নেবার আহ্বান।

সশস্ত্র বাহিনী ব্যর্থতা ও ভোট চুরির মদদ দান থেকে বিরত থেকে তারা সসম্মানে ব্যারাকে ফিরে যাক, আমরা সেটাই চাই। আজকে সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সবাইকে ব্যবহার করে তারা আজ প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইছে।

এ প্রসঙ্গে আমি বলবো, যারা রিটার্নিং অফিসার হবেন, সহ-রিটার্নিং অফিসার হবেন, যারা প্রিজাইটিং অফিসার হবেন, এবং যারা এ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবেন, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক থেকে শুরু করে সর্বস্তরে যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন

অর্থাৎ বিসিএস ক্যাডার, প্রকৃচি থেকে শুরু করে প্রশাসন, সরকারী- আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠান, সর্বস্তরের মানুষকে আমি আহ্বান করবো, যে নির্বাচনের ফলাফল ইতিমধ্যে তৈরী হয়ে গেছে, সেই প্রহসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগণের বিরুদ্ধে আপনারা দাঁড়াবেন না।

আপনারা এখানে জেলা ও থানা থেকে নেতা-কর্মী যারা আছেন, তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে এ সমস্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করবেন, যেন তারা এ প্রহসনের নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে।

আপনারা বিশেষভাবে তাদের অনুরোধ করবেন, যেন এই নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রশাসন বা অন্য যে কর্মকর্তা হন, আপনারা তাদের কাছে যাবেন ও অনুরোধ করবেন এর সঙ্গে যেন তারা জড়িত না হয়। এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যেন না তারা যায়।

এ অনুরোধ অবশ্যই তাদের করবেন। এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে, এ প্রহসন নির্বাচন যদি হয় বা তারা যদি একতরফা ফলাফল ঘোষণা করে দেয়, তারপরও দেশে শান্তি আসবে না, দেশে সংঘাত অব্যাহত থাকবে। দেশে অশান্তি অব্যাহত থাকবে।

আমরা সংঘাত চাই না, আমরা শাস্তি চাই, কাজেই এই বিএনপি সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। যাতে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই এদেশে শান্তি আসবে।

শৃংখলা ফিরে আসবে। একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন করতে গিয়ে দেশকে সংঘাতের দিকে এরা ঠেলে দিচ্ছে। কাজেই এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আমি আহ্বান জানাচ্ছি এবং সেইসঙ্গে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাচ্ছি। অবশ্য ঝাঁড়দার ও খুনী ছাড়া, সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারাও ঐক্যবদ্ধ হন, জনগণের পাশে দাঁড়ান।

জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য, জনগণের ভাতের অধিকার রক্ষার জন্য, সংবিধানে বর্ণিত জনগণের অধিকার, মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলনকে আরও জোরদার করুন। এগিয়ে নিয়ে যান। যত ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণের অধিকার একদিন জনগণের হাতে তুলে দিতে পারবই পারব।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে, স্বাধীনতার মূল্যবোধকে আমরা রক্ষা করবো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়ন করবো। স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী জাতি হিসাবে বাঙালি জাতিকে একদিন আমরা প্রতিষ্ঠিত করবোই করবো।

সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই, এ প্রহসনমূলক নির্বাচনকে প্রতিহত করবার জন্য আপনারা যে আন্দোলন করে যাচ্ছেন এবং এই প্রহসনমূলক নির্বাচনকে আপনারা যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আওয়ামী লীগসহ প্রতিটি দলের নেতা-কর্মীরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রহসনমূলক নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য মাঠে নেমেছে, আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশ এই একদলীয় নির্বাচনকে সমর্থন করতে পারেনা

 

আমাদের লক্ষ্য যে এদেশের ৮৬ ভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বাস করবে, আমরা তা চাই না। প্রতিটি মানুষ যেন দু’বেলা দু’মুঠো মোটা ভাত ও কাপড় পায়, যাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়, চিকিৎসা-শিক্ষার সুযোগ পায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।

একটা সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদের জাতির পিতা বলেছিলেন, এই ঘুণে ধরা সমাজকে ভেঙ্গে তিনি নতুন সমাজ গড়ে ভুলতে চান। আমরাও চাই এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙ্গে একটি নতুন সমাজ গড়ে তুলতে।

যে সমাজে কোন অন্যায় অবিচার থাকবে না। সুন্দর সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে বাঙালি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ভিক্ষুকের জাতি হিসাবে বিশ্বের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে ফিরবে না, করুণা ভিক্ষা করবে না, আত্ম নির্ভরশীল জাতি হিসাবে এই জাতিকে গড়ে তুলে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে সোনার বাংলা গড়ে তুলবো। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

খোদা হাফেজ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু 

Leave a Comment