আমাদের অঙ্গীকার ছিল- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করব

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আমাদের অঙ্গীকার ছিল- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করব। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

আমাদের অঙ্গীকার ছিল- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করব

 

আমাদের অঙ্গীকার ছিল- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করব

 

কাউন্সিলার, ডেলিগেট ভাই ও বোনেরা,

এ’সব পটভূমি বিবেচনায় রেখে বিগত কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম, যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের মাটিতে স্বৈরাচারের পুনরুত্থান রোধ করবো এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করবো।

আমি ঘোষণা করেছিলাম, “নব্বই-এর সফল গণঅভ্যুত্থান, একানব্বই-এ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের পর দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল নূর হোসেন, ময়েজউদ্দিন, ফাত্তাহ ও তাজুলের বুকের রক্ত স্রোতের মধ্যদিয়ে স্বৈরাচারের বুটের তলায় পিষ্ট সামরিক শাসকদের শৃঙ্খলে বন্দী গণতন্ত্র মুক্তি পাবে, স্বৈরাচার নিপাত যাবে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

হত্যা, খুন, ক্যু, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হবে। জনগণের ভোট প্রদানের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শাস্তিপূর্ণ পথে সরকার পরিবর্তনের ধারা সূচিত হবে। কিন্তু দেশবাসী বিএনপি সরকারের আমলে প্রত্যক্ষ করল সন্ত্রাস, প্রশাসন ও প্রচার মাধ্যমের নগ্ন দলীয়করণ, সীমাহীন দুর্নীতি এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হীন লক্ষ্যে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার হরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড।”

 

আমরা আরও বলেছিলাম, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন- তাঁরই আদর্শ ধারণ করে বাংলার মানুষের জন্য গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি বাংলার দুঃখী মানুষের কল্যাণে আমি জীবন উৎসর্গ করেছি। লক্ষ লক্ষ শহীদানের অপরিসীম আত্মত্যাগের অনির্বাণ চেতনা বুকে নিয়ে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আগামী দিনে আমরা মুক্তিকামী জনগণকে সাথে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তুলবো, আসুন এই প্রতিজ্ঞা করি।”

আমার এ’আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিগত কাউন্সিল অধিবেশন থেকে আপনারা যার যার এলাকায় গিয়ে যে ইস্পাত দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে জীবন বাজী রেখে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিলেন তার জন্য আজ এই কাউন্সিল অধিবেশন থেকে আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

বিগত কাউন্সিলের পর থেকে আপনারা যে নিষ্ঠা, একাগ্রতা, সাহস, দৃঢ়তা নিয়ে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য দীর্ঘদিন সুকঠিন আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন তার তুলনা নজিরবিহীন।

প্রতিটি মুহূর্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে বিগত স্বৈরশাসকদের শত নিপীড়ন-নির্যাতন, অত্যাচার-জুলুম সহ্য করে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন, সংগঠন গড়ে তুলেছেন তার জন্য সমগ্র জাতি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

আমাদের অঙ্গীকার ছিল- দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করব

 

এই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সুকঠিন পথ পরিক্রমা আমাদের সকলের জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। জনগণের অধিকার আদায়ের এ সংগ্রামে আপনারা প্রত্যেকেই ছিলেন এক একজন দক্ষ সংগঠক। আপনাদের এই সুদীর্ঘ বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের বিস্তৃত বর্ণনা আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

Leave a Comment