বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও অর্জিত সাফল্য । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও অর্জিত সাফল্য। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও অর্জিত সাফল্য

 

আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও অর্জিত সাফল্য

 

  • ব্যাংকিং সেক্টরসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে অতীতের অনিয়ম-অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারার অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি সঞ্চারিত হয়েছে।
  • গত ২১ (একুশ) বছরের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ পাঁচ বছরের শাসনামলে গড়ে সর্বোচ্চ প্রায়৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, যা গড়ে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
  • মাথাপিছু আয় ২৮০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৩৮৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
  • দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার হার কমেছে। অনুচ্চ দারিদ্র্য সূচক বিএনপি আমলের ৪৭. শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশ। গড় আয়ু ৫৮.৭ থেকে ৬১.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে।
  • শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। রফতানি আয় বেড়েছে, বেড়েছে বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদন। বেশ কয়েকটি নতুন রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা গড়ে উঠেছে, স্থাপিত হয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭৭টি ছোট-বড় শিল্প-কারখানা। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
  • ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে অর্জিত হয়েছে বিস্ময়কর সাফল্য। বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম দীর্ঘ সেতু বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের সম্ভাবনা অবারিত হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ধলেশ্বরী ১ ও ২ নম্বর সেতু, পঞ্চগড়ে করতোয়া সেতু ও বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুসহ অসংখ্য ছোট-বড় সেতু।
  • এ-ছাড়া রূপসা ব্রিজ, পাকশীতে এম. মনসুর আলী সেতু ও ভৈরবের কাছে মেঘনা নদীতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, কুড়িগ্রামে ধরলা সেতু, বরিশালে দোয়ারিক-শিকারপুর সেতুসহ আরও বড়ো- বড়ো সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মিত হয়েছে মাঝারি ও ছোট-বড় অসংখ্য সেতু। পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। জাপানি সহায়তায় শুরু হচ্ছে সমীক্ষার কাজ।
  • দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের শাসনামলে নতুন ১৫,৯২৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৩৫,৮০২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ১৯ হাজার পুল ও কালভার্ট এবং ২,৪০১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন বিএনপি আমলের ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ৩৮০৩ মেগাওয়াট হয়েছে। অতীতের ১৫ শতাংশের জায়গায় এখন ৩০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র। গ্যাস উত্তোলন বিএনপি আমলের ৭০ কোটি থেকে বেড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৩০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়ে গেছে।
  • টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ গত প্রায় পাঁচ বছরে এক বিপ্লবের সূচনা করেছে। গ্রামাঞ্চলসহ সমগ্র দেশকে আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের প্রথম চার বছরেই টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা বিএনপি আমলের প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
  • বিএনপি আমলে দেয়া তাদের এক সংসদ সদস্যের মোবাইল টেলিফোনের একচেটিয়া ব্যবসা বিলোপ করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মোবাইল ফোনের দাম এক লাখ টাকা থেকে ৫/৬ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এর ফলে মোবাইল টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা বিএনপি আমলের ২১ হাজার থেকে বেড়ে আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।
  • তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। কম্পিউটার আমদানির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা ছাড়াও উন্নত প্রশিক্ষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ-সুবিধা প্রদানের জন্য শত কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনসহ সর্বতোভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
  • শিক্ষা খাতে আওয়ামী লীগের সাফল্য চমকপ্রদ। একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। শিক্ষা খাতে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। সাক্ষর লোকের সংখ্যা বিএনপি আমলের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে।
  • দেশে এই প্রথম ১টি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়, ২টি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ২টি নতুন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপুল সংখ্যক নতুন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগই প্রথম দেশে ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
  • ইতিমধ্যে এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ক্ষেত্রে সাধিত হয়েছে বিপুল অগ্রগতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজট প্রায় দূর হয়েছে এবং দীর্ঘদিন পর নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
  • স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে দেশে এই প্রথম জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণীত হয়েছে। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে ১৮,০০০ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
  • ইতিমধ্যে ১০ হাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা আগের চেয়ে ৭ হাজার বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুনভাবে নিয়োগ করা হয়েছে ৬,৫২৬ জন ডাক্তার ও ৪ হাজর নার্স। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কিডনি, ক্যান্সার ও নিওরোলজিসহ বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • দারিদ্র্য বিমোচন ও দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম বয়োজ্যেষ্ঠ সমসংখ্যক (প্রতি ইউনিয়নে ৯০ জন) দুস্থ মহিলা ও পুরুষের জন্য মাসিক ‘বয়স্ক ভাতা’ এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ভাতা স্কিম চালু করা হয়েছে।
  • এর ফলে প্রায় ৭ লাখ অসহায় ও দুস্থ নারী-পুরুষ উপকৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষদের আবাস ও কর্মসংস্থানের জন্য গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পে এ যাবৎ ৩৩ হাজার পরিবারের ২ লাখ মানুষ পুনর্বাসিত হয়েছে।
  • ‘আদর্শ গ্রামে’ পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৪৫ হাজার ছিন্নমূল পরিবারকে। এ-ছাড়া বস্তিবাসীদের গ্রামে পুনর্বাসনের জন্য ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি, অসহায় বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের থাকার জন্য ‘শান্তি নিবাস’ এবং গৃহায়ণ তহবিল থেকে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গ্রামীণ দরিদ্রদের জন্য গৃহ নির্মাণ ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
  • বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক স্থাপন এবং ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ-ছাড়া দারিদ্র্য নিরসন ও প্রতিটি বাড়িকে স্বয়ম্ভর অর্থনৈতিক ইউনিটে পরিণত করার লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প।
  • অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই প্রথম বন্যা-ঝড়-জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়, প্রতিবছর ফসল ওঠার আগে এবং প্রতি ঈদ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের সময় লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে। ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে খাদ্য সাহায্য দেয়া হয়েছে।
  • শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় মঞ্জুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন কর্তৃক প্রণীত শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির সুপারিশ বাস্তবায়িত করা হয়েছে। নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মজুরির ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য রাখা হয়নি।
  • গার্মেন্টস শিল্পে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক ‘শ্রমনীতি’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার। ১১টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানার মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্বভার সংশ্লিষ্ট শিল্পের শ্রমিক- কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের সীমা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের দায়িত্বও।
  • মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা প্রভৃতি ধর্মীয় উপাশনালয়ের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রথম মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়েছে।
  • অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের জন্য চাকুরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ৩০ ভাগ কোটা সংরক্ষণ, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ৩০০ টাকা হারে সম্মানী ভাতা প্রদান, মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বা সৎকার এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন ও স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ নির্মাণসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
  • ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ২০০১-এর মার্চে ঢাকায় স্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট।
  • বাতিল করা হয়েছে সোয়া শ’ বছরের পুরনো কুখ্যাত অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন। শিল্পী-সাহিত্যিকদের কল্যাণে গঠন করা হয়েছে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন নতুন স্থাপনা। শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে বইছে স্বাধীনতার সুবাতাস।
  • ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নবযুগের সূচনা করেছে। উপর্যুপরি বিজয়ের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট টেস্ট মর্যাদা লাভ করেছে। সার্ক ফুটবলে সোনা জয়সহ অন্যান্য খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সাধিত হয়েছে আশাপ্রদ অগ্রগতি।
  • ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অতীতের অব্যবস্থা ও কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি দূর করে গণতান্ত্রিক নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে নতুন পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিকেএসপিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি উন্নত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
  • আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী দলের অসহযোগিতা সত্ত্বেও সরকারের সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে স দেশের প্রেক্ষাপটে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়। দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে গোপন সন্ত্রাসবাদী চরমপন্থিদের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ, তাদের আত্মসমর্পণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ফলে সে অঞ্চলের জনজীবনে বহুলাংশে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
  • গ্রেফতার করা হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কুখ্যাত চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসী চক্রের নায়কদের। আওয়ামী লীগই একমাত্র সরকার, যে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেছে।কিন্তু এতদসত্ত্বেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রচলিত আইনের ফাঁক গলিয়ে সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে আসে।
  • দ্বিতীয়ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, এমনকি যাদের বিরুদ্ধে বিএনপি আমলে মামলা হয়েছে, তাদেরকে গ্রেফতার করতে গেলে বিএনপিই আবার রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ এনে সন্ত্রাসীদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।
  • এরপরও সাধারণভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানী ঢাকাসহ বড়ো বড়ো কয়েকটি শহরে কখনো কখনো কিছুটা সমস্যা থেকে যায়। দেশের পুলিশ ও আইন-শৃ হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। পক্ষান্তরে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিএনপি-র নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের নামে বোমাবাজি, হত্যা, সন্ত্রাস, জনগণের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের মতো সুপরিকল্পিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
  • দেশে পঁচাত্তরের ঘটনার পুনরাবৃত্তির হুমকিই কেবল বলে দেয়া হয় না, এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য একাধিকবার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যশোরে উদীচী, ঢাকায় পল্টন, রমনা বটমূল ও বানিয়ারচর গির্জাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে, অনুষ্ঠানস্থল ও প্রকাশ্য জনসমাবেশে বিশেষ মহলের যোগসাজসে অশুভ শক্তিগুলি মারাত্মক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। বিরোধী দল এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত না হয়ে যদি আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করতো তাহলে সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল আরও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো।

 

  • আওয়ামী লীগ সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে দুর্নীতি উচ্ছেদে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, অবৈধ পন্থায় জনগণের সম্পদ আত্মসাৎকারী, ঋণখেলাপি, রাজস্ব ফাঁকি দানকারী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, চোরাচালানি প্রভৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
  • এর ফলে ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নানা উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব আদায় যাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসে অথবা প্রতিষ্ঠিত হয় ও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
  • তবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে সরকারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনীত মামলার কার্যক্রম আদালতের বার বার দীর্ঘসূত্রিতা ও স্থগিতাদেশের কারণে ঝুলে থাকে। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
  • দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত করার ব্যবস্থাসহ সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও বিডিআর সদস্যদের খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। অতীতের যে-কোনো সময়ের তুলনায় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী ।
  • দেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিগত নির্বাচনে দেয়া আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার ও কর্মসূচি কেবল সফলই হয়নি, দেশকে বিশ্বসভায় অধিষ্ঠিত করেছে এক গৌরবের আসনে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন, দেশের অভ্যন্তরে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনের ফলে ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী চাকমা উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা, দুইটি দেশের মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস ও ট্রেন যোগাযোগ চালুসহ অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে অর্জিত অগ্রগতি আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র নীতিরই সাফল্যের পরিচায়ক।
  • সার্কভুক্ত অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ এবং মায়ানমারের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ বহুমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে। এ-ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক।
  • ডি-৮, বিমসটেক প্রভৃতি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ পালন করেছে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রি- দেশীয় বাণিজ্যিক শীর্ষ সম্মেলন, ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন এবং এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান সংসদের প্রথম সম্মেলন।
  • আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্তাব ও উদ্যোগে আগামী বছরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) শীর্ষ সম্মেলন। এ-ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা বাংলাদেশকে নতুন এক মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করেছে।
  • উপরন্তু এটাও উল্লেখযোগ্য যে, আওয়ামী লীগের শাসনামলেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রপতির সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সফর এবং সে দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কোনো সরকার প্রধানকে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সে দেশ সফর এক ঐতিহাসিক তাৎপর্যবহ ঘটনা।
  • এ ছাড়া জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য মুসলিম দেশে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের পারস্পরিক সফর বিনিময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অতীতের আপাত বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে নতুন এক সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করে।
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কা এর সেরেস পদক লাভ এবং ২০০০ সালের এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি অর্জন সর্বোপরি মেয়াদাে সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও ইতালিতে অনুষ্ঠিত জি-৮ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে স্বল্পোন্নত বিশ্বের এশীয় অঞ্চলের মুখপাত্র হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রধানের মর্যাদার অংশগ্রহণ প্রভৃতির ভেতর দিয়ে বিশ্বসভায় গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের এক নতুন ইমেজ- আত্মমর্যাদাশীল জাতির অমিত সম্ভাবনাময় নতুন পরিচয়।

কিন্তু সাফল্য ও অগ্রগতির এই পথ নিষ্কন্টক বা সহজসাধ্য ছিল না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণের সরকার দেশসেবার দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই বিএনপি ও ‘৭১-এর পরাজিত অপশক্তি দেশের নানা জায়গায় অন্তর্ঘাত ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা শুরু করে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করার জন্য সঞ্চালন লাইন উপড়ে ফেলা, গ্যাসের পাইপ লাইনে বোমা পুঁতে রাখা, কক্সবাজারে জলোচ্ছ্বাসে সর্বস্বান্ত মানুষকে খাদ্যের সঙ্গে বিষ প্রয়োগে হত্যার ষড়যন্ত্র, রেললাইন উপড়ে ফেলে মানুষ মারার ফাঁদ তৈরি করে।

ঘটানো হয়েছে মসজিদের ভেতরে পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার বর্বরতম ঘটনা। দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পেছন-দরোজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য থেকেই বিএনপি ও তার সহযোগী সাম্প্রদায়িক শক্তি সুপরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী নৈরাজ্য। সৃষ্টির এইসব অপচেষ্টা চালায়।

 

আর্থ-সামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও অর্জিত সাফল্য

 

ফলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ সরকারকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে হয়েছে। পক্ষান্তরে এ-কথাও সত্য যে, মাত্র এই পাঁচ বছর সময় পরিসরে একুশ বছরের পুঞ্জীভূত সকল সমস্যার সমাধান যে সম্ভব নয়, সে কথা বলাই বাহুল্য।

দেশ ও জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতির স্বার্থে আমরা যেসব মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সূচনা করেছি, স্বাভাবিকভাবে সেসবের অনেকগুলোরই কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং কিছু কাজ রয়েছে প্রক্রিয়াধীন। ১৯৯৬- এর মতো জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করলে, ইনশাল্লাহ্, আমরা আমাদের গৃহীত আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবো।

Leave a Comment