আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –সভানেত্রীর দেশবাসীর প্রতি আহ্বান। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
সভানেত্রীর দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার লাভ করে। এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করি। প্রথম দিন থেকেই বিরোধী দলের সরকার উৎখাতের ঘোষণা ও তাদের অসহযোগিতার পাশাপাশি দুই যুগের জমে ওঠা পর্বতপ্রমাণ সমস্যা-সংকট মোকাবেলা করেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রসর হই।
গত পাঁচ বছরে নিরবচ্ছিন্ন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমরা পাইনি। আন্দোলনের নামে হরতাল, অন্তর্ঘাত, বোমাবাজি, হত্যা, সন্ত্রাস ও চক্রান্ত প্রভৃতি বাধাবিঘ্নকে উপেক্ষা করেই আওয়ামী লীগ তার প্রতিটি নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের চেষ্টা করেছে। এমনকি আমরা অভাবিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার পাশাপাশি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাইরেও বহুসংখ্যক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবে কার্যকর করেছি।
আমাদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত এবং বাংলাদেশের তের কোটি মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা। একথা সত্য যে, বিরোধী দলগুলো ধ্বংসাত্মক আন্দোলন ও অসহযোগিতার পথ গ্রহণ না করলে আমাদের সাফল্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতো।
ঐকান্তিক নিষ্ঠা, সততা, দক্ষতা ও জনগণের প্রতি অসীম দরদ সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে দূরে থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা এবং অনভিজ্ঞতাজনিত কারণে আমাদেরও ভুলত্রুটি হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। দেশবাসী স্বীকার করবেন যে, এসব সত্ত্বেও দেশ পরিচালনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাফল্যের পাল্লাই অনেক বেশি ভারি।
আমাদের বিশ্বাস, জনগণের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা জনগণের দল আওয়ামী লীগের এসব ভুলত্রুটিকে দেশবাসী ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন । আমাদের জাতীয় জীবন থেকে মূল্যবান একুশটি বছর অপচিত হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে এই অপচয়ের বোঝা লাঘব করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, উন্মোচিত হয়েছে সম্ভাবনার স্বর্ণদুয়ার, ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের অগ্রগতির চাকাকে পেছনে ঘুরিয়ে দিতে চিহ্নিত অপশক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আমাদের স্বাধীনতার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বিশ্বের দরবারে বাঙালি জাতির মাথা উঁচু হয়ে দাঁড়াবার সংগ্রাম ও সাধনাকে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ে ‘৯৬-এর নির্বাচনে পরাজিত শক্তি এক অশুভ জোট গড়ে তুলেছে।
তারা আবার মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। কায়েম করতে চায় অন্ধকারের রাজত্ব। আমরা এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে পুনর্বার বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমাদের বিশ্বাস, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানবাধিকার-বিরোধী শক্তিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের শেষ অধ্যায়ের এই সংগ্রামেও ঈন্সিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
আমাদের নজর এখন সামনের দিকে। অতীতের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ এখন দেশ পরিচালনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় প্রত্যয়ী। আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা যা বলি, তা করি। ভবিষ্যতে দেশবাসী আমাদেরকে আবার দেশসেবার সুযোগ দিলে অধিকতর দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে আমরা আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়িত করব। একই সঙ্গে সরকার পরিচালনায় জাতীয় ঐকমত্যের নীতির প্রতি আমরা আমাদের অবিচল আস্থা পুনর্ব্যক্ত করছি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ একবিংশ শতাব্দীতে পদার্পণ করেছে।
বিংশ শতাব্দী যেমন ছিল জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তির শতাব্দী, তেমনি আমরা প্রত্যয় ঘোষণা করছি, একবিংশ শতাব্দী হবে অর্থনৈতিক মুক্তির তথা ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন, পশ্চাৎপদতা ও নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তির এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শতাব্দী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন- এ দেশের দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং এক সুখী।
সুন্দর সোনার বাংলা গড়ে তোলাই হবে আমাদের ব্রত। আমরা বিশ্বাস করি, সাহসী, সৃজনশীল, আত্মপ্রত্যয়ী ও কষ্টসহিষ্ণু বাঙালি জাতি আগামী দুই দশকের মধ্যেই দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদতার লজ্জা ঘুচিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভেতর দিয়ে ২০২১ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে সক্ষম হবে।

এই লক্ষ্য অর্জন, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত অসমাপ্ত কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করা এবং ইশতেহারে বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীর সমর্থন প্রার্থনা করছি। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আবার দেশসেবার সুযোগ দানের জন্য আমরা আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক ।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।
