আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচনার উদ্যোগ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচনার উদ্যোগ

- শিল্প খাতে তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপন, দুটি সার কারখানা পুনর্বাসন ও একটি কাগজ মিলের পুনর্বাসন অর্থাৎ এই ৬টি প্রকল্পের প্রাক্কলিক ব্যয় ৩০৭৩.৭১ কোটি টাকা।
- সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীতে শিল্প পার্ক, নারায়ণগঞ্জে হোসিয়ারি শিল্প নগরী এবং চকোরিয়াতে মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প নগরী স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ।
- ২০০০-২০০১ অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৩ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে শিল্প প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার অর্জিত হয়েছিল ১৯৯৭/৯৮ সালে ৮.৫ শতাংশ।
- ব্যাপক হারে কাঁচামালের শুল্ক হ্রাস ও বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির ফলেই শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়।
- শ্রম ও জনশক্তি খাতে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
- সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় অগ্রণী বন্ড এবং সমমূলধন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য অর্থায়নের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
- রুগুণ শিল্পের সমস্যার সমাধান স্থায়ী ভিত্তিতে করা হয়।
- দেশে শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য একটি যুগোপযোগী নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়। সামগ্রিকভাবে দেশে বিনিয়োগের অনুকূলে একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসা-সহায়ক (Business Friendly) নীতির সুফল জনগণ বর্ধিত বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পেতে জরুরি করে।
- বৃহৎ শিল্পে উৎপাদনসূচক ১৯৮৮/৮৯ অর্থবছরে ১০০ ধরে বিগত সরকারের আমলে ১৯৯২/৯৩ সালের ১৪১.৮০ চাইতে ২০০০/০১ সালে গড় সূচক দাঁড়ায় ২২৮.০৪। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.৭ শতাংশ।
- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ১৯৯৫/৯৬ অর্থবছরে ১৭,০৩১ থেকে ২০০০/০১ সালে ৪৪.১৭৭-এ বৃদ্ধি পায়।
- ২০০০/০১ অর্থবছরে ১,০৯১টি ক্ষুদ্র ও ৩,৫৯৬টি কুটির শিল্পকে বিসিক-এ নিবন্ধন করা হয়।।
- ২০০০/০১ অর্থবছরে ১২,২২৬টিসহ আরো নতুন ১২.৩১৫টি কুটির শিল্প ইউনিটকে এবং আগের ৮২২টিসহ নতুন ৮৯৯টি ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিটকে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়।
- ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে ৫৭টি শিল্প নগরী স্থাপন করা হয় এবং ১৩টি শিল্প নগরী স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।
- ১৯৯৫/৯৬ থেকে ২০০০/০১ অর্থবছর পর্যন্ত বিসিক-এর অধীনস্ত নিবন্ধনকৃত শিল্প ইউনিট-এর আওতায় ৬৪,০২৪ জন থেকে ৭২,৫৯৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
- বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য সরকার প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডকে পুনর্গঠিত করে। ৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি শিল্প ইউনিট বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে বিতরণ করা হয় ।
- চট্টগ্রাম ও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ (ইপিজেড) এলাকায় বিনিয়োগের পরিমাণ ৯৫/৯৬ অর্থবছরে ছিল ৩০.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৯৮/৯৯ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭১.৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- ২০০০/০১ অর্থবছরে ইপিজেড-এর শিল্প কারখানা থেকে ১০৬৭.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় যা জাতীয় রপ্তানির ১৬.৫০ শতাংশ।
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় ১১২টি শিল্প কারখানা উৎপাদনে ছিল এবং ১০৭টি শিল্প কারখানা বাস্তবায়নের পর্যায়ে ছিল।
- ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা সম্প্রসারণ এবং গাজীপুর, মংলা, ঈশ্বরদী ও কুমিল্লায় নতুন ইপিজেড এলাকা স্থাপন করা হয়।
- স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় । এই পরিকল্পনায় ১ লক্ষ ৯৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ ধরা হয়। মোট বিনিয়োগের ৪৪ শতাংশ সরকারি খাতে এবং ৫৬ শতাংশ বেসরকারি খাতে ধরা হয়।
- নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন পুনর্গঠন করা হয়।
- শেয়ার বাজারের অনিয়ম রোধকল্পে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে পঞ্চম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল।
- তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেনারসি পল্লী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তাঁতিদের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন ও পুনর্বাসন শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। প্রান্তিক তাঁতিদের চলতি মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ক্ষুদ্র কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
- হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি নিয়ে ই.সি এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাষ্ট্রের সাথে রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হয়।
- কম্পিউটার খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য শুল্কমুক্তভাবে কম্পিউটার সফটওয়্যার আমদানির অনুমোদনসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো আমদানি ও রপ্তানিকারকদের এবং বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ৪ বছর মেয়াদি আমদানি ও রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করে।
- সফটওয়্যার শিল্প ও কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০০১/২০০২ অর্থবছরে বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। একটি বোর্ড এই তহবিলের ব্যবস্থাপনা করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ বিনা শুল্কে আমদানির ব্যবস্থা করে ১৯৯৭-৯৮ সালে এই ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করা হয়। এর আগে অর্থাৎ ১৯৯৬-৯৭ সালে মোবাইল ফোন এবং ডি-স্যাট স্থাপনায় ব্যক্তিমালিকানা খাতের সুযোগ দিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়।
একই সঙ্গে মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে মোবাইল টেলিফোনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২ হাজার আর প্রতিটির নাম ছিল লাখ টাকার বেশি। ২০০১ সালে মোবাইল টেলিফোনের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ এবং দাম পড়ে গড়ে ৭ হাজার টাকা। যে কম্পিউটার দেড়/দুই লাখ টাকার কমে পাওয়া যেত না, তা এখন পাওয়া যায় ৩০ হাজার টাকায়। সারাদেশে যেখানে ৫ থেকে ১০ হাজার কম্পিউটার ব্যবহৃত হতো, সেখানে এখন কম্পিউটারের মাসিক বিক্রির সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

১৯৯৬ সালে যেখানে কম্পিউটার বিপণি গড়ে ওঠার সংখ্যা ছিল বছরে মাত্র ৫০টি, এখন তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বছরে ১৫শ’। কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ তৈরিতে, কম্পিউটারের অ্যাসেমবিরতে, সফটওয়্যার সৃষ্টিতে এবং ডাটা প্রসেসিং কাজে তরুণ- তরুণীসহ লক্ষ লক্ষ লোক পেশাগতভাবে জড়িত। এক কথায় গোটা কম্পিউটার ব্যবসা এখন কর্মসংস্থানের জন্য সবচেয়ে গতিশীল খাত।
