আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – টেলিযোগাযোগ : ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
টেলিযোগাযোগ : ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী

- ১৯৯৮ সালে নতুন টেলিফোন নীতিমালা ঘোষিত হয়।
- ৪টি বেসরকারি ভ্রাম্যমাণ সেলুলার টেলিফোন প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ লক্ষ গ্রাহককে টেলিফোন সংযোগ দেয়।
- বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড ন্যাশনওয়াইড ডায়ালিংয়ের মাসুল ও দেশীয় গ্রাহকদের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিফোনের মাসুল হ্রাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা জুলাই ২০০১ থেকে কার্যকর হয়।দেশীয় গ্রাহকদের জন্য এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলে টেলিফোনের হার ৭.৪ শতাংশ থেকে ১৪,২৯ শতাংশ, আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য ১৬.৬৭ শতাংশ, সার্কভুক্ত দেশের জন্য ১৪.২৯ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০০১ থেকে কার্যকর হতে শুরু করে।
- ন্যাশনওয়াইড ডায়ালিং-এর জন্য বর্তমানে দূরত্বভেদে মাসুলের পাঁচটি স্তর রয়েছে। ১ জুলাই ২০০১ থেকে এই মাশুলের হার তিনটি স্তরে হ্রাস করা হয় এবং মাসুল ১৩.৪ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ হ্রাস পায়।
- টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নততর সেবা প্রদান নিশ্চিত করে একটি টেলিফোন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। আওয়ামী লীগের শেষ বছরে বাংলাদেশে টিএন্ডটি বোর্ডের ৭ লক্ষ গ্রাহক লাইনের স্থিরীকৃত সার্ভিস প্রদান করতে শুরু করে।
- ২০০০ সালের শেষ নাগাদ দেশের অভ্যন্তরে এনডবিৱউডি সার্কিট ২৩,১৮৫টি (১৯৯৭ সালে ছিল ১১,৪১০টি) এবং বৈদেশিক টেলিযোগাযোগ সার্কিট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। এর থেকেই বোঝা যায়, কত দ্রুত এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।
- ৪০টি জেলাকে ডিজিটাল টেলিফোনের আওতায় এবং ১৭৫টি উপজেলায় ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়।
- ২০০১ সালের শেষ নাগাদ টিএন্ডটি-র ৭ লক্ষ এবং বেসরকারি মোবাইল খাতে ৬ লক্ষসহ দেশে। মোট টেলিফোনের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যায় ।
- চীনের সহায়তায় প্রতি জেলা সদরে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ডিজিটাল টেলিফোন স্থাপনের কাজ অগ্রসর করে নেয়া হয়।
- অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ফোন চালু করা হয়েছে।
- ভি-স্যাটের সাথে ডাটা প্রদান সহজ হওয়ায় কম্পিউটার ডাটা এন্ট্রি ও সফটওয়্যার রপ্তানির ধার উন্মুক্ত হয়।
- পুরনো ঢাকার টেলিফোন সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাসে ৬৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭,৫০০ লাইনের একটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ উদ্বোধন করা হয়।
- ১৯৯৮ সালের জুন পর্যন্ত সারাদেশে ১৪০৩টি কার্ড ফোন বুথ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতেও কার্ড বুথ স্থাপনের অনুমতি প্রদান করা হয়।
- ১৯৯১-এর বিএনপি সরকারের আমলে সৃষ্ট মোবাইল টেলিফোনে মনোপলির অবসান ঘটিয়ে আরও ৪টি বেসরকারি কোম্পানিকে সেলুলার মোবাইল টেলিফোন চালু করার লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
- আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর চালু করে। এ ছাড়াও বহুসংখ্যক নতুন ডাকঘর স্থাপন করা হয়।
- ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও বগুড়াসহ আরো কয়েকটি জেলায় বাংলাদেশ টিএন্ডটি বোর্ডের কম্পিউটার কেন্দ্র ও ডাটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে উল্লিখিত জেলাসমূহের গ্রাহকবৃন্দ ইন্টারনেট, ডিডিএন এবং ডাটা নেটওয়ার্কের সুবিধাদি ভোগ করছেন।
- ডাক বিভাগের কাউন্টার সার্ভিসের আধুনিকায়ন ও জনসাধারণকে উন্নত সেবা প্রদানের জন্য ডাক বিভাগকে কম্পিউটারাইজড করা হয়।
- দেশের ৪০টি শহরে প্রধান ডাকঘর ও ডিজিএমজি-দের অফিসের প্রয়োজনীয় জায়গা ও ডাকসেবার মান উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়। ডাক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়ন করা হয়।

- ১১৪টি উপজেলায় পোস্ট অফিস ও পোস্ট মাস্টারের বাসভবন নির্মাণ করা হয়।
- আওয়ামী লীগ সরকার ২৩৯টি গ্রামীণ ডাকঘর নির্মাণ করে।
- মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ডাকঘর নির্মাণের কাজ অগ্রসর করে নেয়া হতে থাকে।
- বাংলাদেশ ডাক বিভাগের জন্য অটোমেটিক লেটার কাটিং মেশিন সংগ্রহ, মামী ডাক সার্ভিসে উন্নয়ন, জেলা সদর ও বিভাগীয় ডাকঘর নির্মাণ এবং ডাক বিভাগের মোবাইল ভ্যানসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল।
