আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – বিরোধী দলের অসহযোগিতা, ধ্বংস ও সংঘাতের রাজনীতি। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
বিরোধী দলের অসহযোগিতা, ধ্বংস ও সংঘাতের রাজনীতি

বিএনপি-জামাত জোট ২০০৮ সালের নির্বাচনের গণরায় মেনে নিতে পারেনি। প্রথম থেকেই তারা অসহযোগিতা, ষড়যন্ত্র ও সংঘাতের পথ গ্রহণ করে। বিডিআর বিদ্রোহকে ব্যবহার করে সেনাবাহিনীকে উসকানি প্রদান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাতের জন্য বিএনপি নেতৃত্ব জামাতে ইসলামীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টা গ্রহণ করে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতৃত্ব যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় মরিয়া প্রচেষ্টা নেয়। তারা সারাদেশে হত্যা, গণহত্যা, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি, হেফাজতে ইসলামকে মাঠে নামানো, মসজিদে অগ্নিসংযোগ, হাজার হাজার কোরআন শরীফে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ, সেনা সদস্য ও বিজিবি সদস্যদের হত্যাসহ সাধারণ নাগরিকদের পুড়িয়ে মারার মতো নারকীয় তাণ্ডবের সৃষ্টি করে।
‘৭১-এর মতোই জামাত-শিবিরের ঘাতক বাহিনী বিএনপিকে নিয়ে দেশবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা নিলেও ক্রমাগত সংসদ বর্জন এবং সংবিধান সংশোধনে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে তারা সারাদেশে অশান্তি ও গোলযোগ সৃষ্টির অপচেষ্টায়
লিপ্ত হয়। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন এবং সংলাপের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ রুদ্ধ করে দেয়। নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সর্বদলীয় সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি-জামাত জোট উপর্যুপরি হরতালের নামে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের প্রেক্ষিতে বিএনপিই এখন জামাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানকে যেমন অস্বীকার করছে, তেমনি গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়নের ধারা সূচনা করেছে তা বানচালের জন্য সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। বাংলাদেশকে তারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং মধ্যযুগীয় অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চাইছে।
সংবিধান অনুযায়ী একটি অবাধ শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এ দেশের মানুষ এই অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষ এ দেশকে সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী দেশে পরিণত হতে দেবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনের গণরায় নিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর গত পাঁচ বছর বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার শাস্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে যে পথ রচনা করেছে, সে পথেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত রূপকল্প বাস্তবায়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। অনেক ওয়াদা পুরণ করেছি। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে; আরও অনেক উন্নয়ণমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত একটি সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এ কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করতে চাই।

আমাদের দৃষ্টি ২০২১ সাল ছাড়িয়ে আরও সামনের দিকে, ২০৫০ সালের দিকে প্রসারিত; যখন বাংলাদেশ বিশ্বসভায় একটি উন্নত সুসভ্য দেশ হিসেবে আপন মহিমায় সমাসীন হবে। আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের সেই স্বপ্ন রূপায়ণের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে করণীয়-কর্তব্য, অঙ্গীকার ও কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে।
