আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জাতীয় সনদ। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জাতীয় সনদ

অতীতের পুঞ্জিভূত সমস্যা-সংকট, ষড়যন্ত্র ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ২০০৯ সাল থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে উঠে এসেছে। এই পথ ধরেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশবাসী সংঘাত নয় শান্তি চায়।
তারা অসাংবিধানিক পথে বা স্বৈরশাসনে ফিরে যেতে চায় না। তারা চায় সহিষ্ণু গণতন্ত্রের আলোকোজ্জ্বল অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে। দেশবাসী চায় স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, কর্মচঞ্চল, সুখী সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা রূপায়ণ সর্বোপরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আমরা জাতীয় সনদ ও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
আমাদের লক্ষ্য ও ঘোষণা
আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আর্থ-সামাজিক মুক্তি এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যে উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে।
২০০৮-১৩ সময়কালে গৃহীত যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত বা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সেসব কর্মসূচি ও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে। যেসব উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প প্রণীত, অনুমোদিত এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের সিদ্ধান্ত হয়েছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়িত করা। এ জন্য প্রণীত হয়েছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২১।
আমাদের বর্তমান নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৪-এর সঙ্গে এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে বর্তমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপ্রতি গড় আয় বর্তমানের ১০৪৪ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১৫০০ ডলারে উন্নীত হবে। প্রবৃদ্ধির হার বর্তমান ৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ এবং দারিদ্র্য হার বর্তমান ২৬ শতাংশ থেকে কমে হবে ১৩.০০ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমান ১০ হাজার মেগাওয়াট থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার মেগাওয়াট।
শিল্পায়নের ফলে শিল্পে জাতীয় আয়ের হিস্যা ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে এবং শ্রমশক্তি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। আমাদের আশু লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রকৃতই একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা।
আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথমসারির উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের (Development Strategy) রূপরেখা প্রণয়ন করব। রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের পর এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কয়েক ধাপে সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো প্রণয়ন করা হবে।

আমাদের সকল কাজের চূড়ান্ত লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি শান্তিপূর্ণ এবং হিংসা, হানাহানি, শোষণ- বঞ্চনা ও বৈষম্যমুক্ত ন্যায় ও সমতাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। আজকের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনাই আমাদের একমাত্র ব্রত।
