দেশবাসীর নিকট আহ্বান

আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় – দেশবাসীর নিকট আহ্বান। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।

দেশবাসীর নিকট আহ্বান

 

দেশবাসীর নিকট আহ্বান

 

প্রিয় দেশবাসী,

আমরা আমাদের কথা রেখেছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম তা পালন করেছি। সংকট মোচন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে কর্মসূচি দিয়েছিলাম, অত্যন্ত সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমরা তা বাস্তবায়িত করেছি।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আমরা জানি, আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, তাদের অক্লান্ত শ্রম-ঘাম, মেধা এবং দেশ গঠনে আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই বিগত পাঁচ বছরের সাফল্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

আত্মত্যাগ ও উৎসর্গ ছাড়া মহৎ কিছু অর্জন করা যে সম্ভব নয়, আপনারা তাও প্রমাণ করেছেন। আমরা তাই আমাদের প্রিয় দেশবাসী আপনাদের অভিনন্দন জানাই। অভিনন্দন ও শুভাশিস জানাই আমাদের কষ্টসহিষ্ণু, সাহসী এবং প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা যুবসমাজকে। আমরা আজ দৃপ্ত কণ্ঠে বলতে পারি, অতীতের অন্ধকার ঘুচিয়ে বাংলাদেশ এখন আলোকোজ্জ্বল সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছে। আমরা সবাই আলোর পথযাত্রী।

আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন, অগ্রগতির যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পথ রচনা করেছি, সে পথ থেকে কোনো অপশক্তি আমাদের বিচ্যুত করতে পারবে না। আমরা রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্বিতীয় মেয়াদের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি – জাতীয় সনদ ২০১৪ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।

আমাদের বিশ্বাস, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং দেশকে শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনারা আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ দেবেন।

দেশবাসী সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অপুষ্টির অভিশাপ দূর হবে; দারিদ্র্যের লজ্জা ঘুচে যাবে, নিরক্ষরতা দূর হবে, শিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, শিল্প-সভ্যতার ভিত্তি রচিত হবে; প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছবে, বেকারত্বের অবসান ও কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

 

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে; যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে, পরিকল্পিত নগর-জনপদ গড়ে উঠবে, রাজধানী ঢাকা যানজটমুক্ত তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোপানে পা রাখবে। রাজনীতি থেকে হিংসা, হানাহানি, সংঘাতের অবসান হবে, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের ধারা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে।

গড়ে উঠবে একটি সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতিকে উপহার দেব আমাদের ভিশন- নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প- ২০৪১। ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ । সুশাসন, জনগণের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন হবে এই অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র।

এর মধ্যেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হবে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অর্থায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে। আর এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে মূলত স্থানীয় সরকার। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হবে প্রতিসংক্রম এবং স্থানীয় প্রশাসন হবে মূল নির্বাহী শক্তি।

নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, শিক্ষার প্রসার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হবে এই অগ্রযাত্রার নিয়ামক উপাদান। সরকারি বাজেটের সিংহভাগ বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় স্তরে, এ দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় প্রশাসন। এক বিকেন্দ্রায়িত শাসন ব্যবস্থা হবে বাংলাদেশের বিশেষত্ব।

এই বিবর্তনের নিশ্চয়তা দেবে গণতান্ত্রিক আচরণ, পরমতসহিষ্ণুতা, সমঝোতা এবংএকনিষ্ঠভাবে জনকল্যাণে নিবেদন। দেশমাতৃকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে নতুন প্রজ উল্লাসে টগবগে বাংলাদেশের যুবসমাজ। আমরা তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি শান্তি, গণতন্ত্র, यন ও স বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই ইশতেহার।

 

দেশবাসীর নিকট আহ্বান

 

প্রিয় দেশবাসী,

অতীতের মতো এবারও আমরা আপনাদের অর্থ । আপনাদের ভোটে আরেক চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং হক-ভাসানী- সোহরাওয়ার্দী’র প্রতীক, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক নৌকায় ভোট দিন।

আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে শান্তি উন্নয়ন গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে এগিে হানাহানি সংঘাত-রক্তপাতের চির অবসান ঘটাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তুলি।এই সংগ্রামে জনগণের জয় বাংলাদেশের জয় অনিবার্য। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

Leave a Comment