আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় আর্যদের আগমন ও বিস্তার – যা আর্য সমাজ ও সভ্যতা এর অন্তর্ভুক্ত।
আর্যদের আগমন ও বিস্তার

সংস্কৃতে আর্য শব্দের অর্থ সত্বংশজাত ব্যক্তি। ম্যাক্সমুলার, স্যার উইলিয়াম জোন্স প্রভৃতি পন্ডিতের মতে আর্য একটি ভাষাগোষ্ঠীর নাম। যারা আর্য ভাষায় কথা বলে তারাই আর্য জাতির অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত ফিলিপ্পো স্যাসেটি নামক ফ্লোরেন্সের একজন বণিক গোয়াতে পাঁচবছর অবস্থানের (১৭৮৩-১৭৮৮ খ্রিঃ) পর প্রথম সংস্কৃতের সঙ্গে ইউরোপের প্রধান কয়েকটি ভাষার সাদৃশ্যের কথা ঘোষণা করেন।
১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গলে প্রদত্ত তাঁর বক্তৃতায় তিনি বলেন যে, একই উৎস থেকে উৎপত্তির কারণে এ সাদৃশ্য। তাঁর মতে, গ্রিক, ল্যাটিন, গথিক, কেল্টিক, সংস্কৃত, পারসিক, জার্মান ইত্যাদি একই উৎস থেকে উদ্ভুত। এ ভাষাগুলো পন্ডিতদের কাছে ইন্দো-ইউরোপীয় বা ইন্দো-জার্মান ভাষা রূপে পরিচিত।
ভাষাগত সাদৃশ্যের কারণে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে যে, এই আর্য ভাষা যে জাতিগোষ্ঠী ব্যবহার করতো তাদের আদি বাসভূমি কোথায় ছিল।এ সম্পর্কে পন্ডিতগণ বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। একদল পন্ডিত মনে করেন যে, আর্যরা আদিতে ভারতবাসী ছিল। পরবর্তীকালে তারা ভারতের বাইরে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদের মতে, আর্যরা বাইরে থেকে এসে ভারতে বসতি স্থাপন করেছিল। যাঁরা মনে করেন যে আর্যদের আদি বাসভূমি ছিল ভারতবর্ষ, তাঁরা নিম্নলিখিত যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছেন :
(ক) আর্যদের প্রাচীনতম গ্রন্থ বেদ ভারতে রচিত হয়েছিল। বেদে সপ্তসিন্ধু অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। বৈদিক সাহিত্যে যে সকল গাছ ও পশু-পাখির উল্লেখ আছে তা ভারতের এই অঞ্চলে দেখা যায় ।
(খ) যারা দেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে গিয়ে বসবাস করে তারা তাদের আদি বাসভূমির কথা স্মরণ করে । কিন্তু বৈদিক সাহিত্যে সপ্তসিন্ধু ছাড়া অন্য কোন দেশের নাম পাওয়া যায় না।
(গ) পারগিটারের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আর্যদের অভিপ্রয়াণের কোন প্রমাণ ভারতের ইতিহাসে নেই, বরং উত্তর-পশ্চিম হতে আর্যদের ভারতের বাইরে যাওয়া সম্ভব। ঋগ্বেদের নদী স্তোত্রে যে নদীগুলোর উল্লেখ আছে তা গঙ্গা দিয়ে শুরু হয়ে উত্তর-পশ্চিমে সরস্বতী দিয়ে শেষ হয়েছে। এই নদী স্তোত্র থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে আর্যরা পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমে গিয়েছিল।
(ঘ) আর্যরা বহিরাগত হলে তাদের আদি বাসভূমিতে বেদের মত কোন গ্রন্থ রচিত হয়নি কেন? এসব যুক্তির মাধ্যমে কিছু ঐতিহাসিক দাবী করেন যে, আর্যদের আদি বাসভূমি ছিল ভারতবর্ষ। কিন্তু কোনো কোনো পন্ডিত এ মতের বিপক্ষে বেশ কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন। তাঁদের যুক্তিগুলো নিম্নরূপঃ
(ক) বেদে উল্লেখিত গাছপালা ও পশুপাখির নাম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে সপ্তসিন্ধু অঞ্চলই ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি। ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে তারা ঐ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করায় ঐ এলাকার গাছপালা ও পশুপাখির সঙ্গে তাদের প্রথম পরিচয় ঘটে। এ কারণেই এগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বেদও রচিত হয়েছিল ঐ এলাকাতেই।
(খ) এমনও হতে পারে যে দীর্ঘকাল সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে বাস করার ফলে আর্যরা তাদের আদি বাসভূমির সব স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছিল বলেই বেদে তার উল্লেখ পাওয়া যায় না।
(গ) নদী স্তোত্র দিয়ে আর্যদের উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বাইরে অভিপ্রয়াণ প্রমাণ করা যায় না। বৈদিক সাহিত্যে ৩৯ টি নদীর নাম পাওয়া যায়। তার মধ্যে ঋগ্বেদেই পাওয়া যায় ২৫টি নদীর নাম, কিন্তু গঙ্গা নদীর নাম শুধুমাত্র একবার উল্লেখিত হয়েছে। আর্যরা ভারতের আদিবাসী হলে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে অভিপ্রয়াণ ঘটে থাকলে গঙ্গা নদীর সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকার কথা এবং সে ক্ষেত্রে গঙ্গার নাম বারবার উল্লেখিত হওয়া উচিৎ ছিল।
(ঘ) ঋগ্বেদের মত কোন গ্রন্থ অন্য কোন দেশে রচিত হয়নি বলেই বলা যায় না যে ভারতই ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি। এমনও হতে পারে যে ভারতে আসার আগে বেদের মত গ্রন্থ রচনা করার মত বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক উন্নয়ন তাদের ঘটেনি।
(ঙ) তাছাড়া বলা যায় যে ভারতবর্ষ আর্যদের আদি বাসভূমি হলে তারা ভারত ত্যাগের আগেই গোটা ভারতবর্ষে আর্য বসতি ও সংস্কৃতি বিস্তার করতো। কিন্তু উত্তর ভারতের বেশ কিছু এলাকা এবং দক্ষিণ ভারত ছিল আর্য সংস্কৃতির বাইরে।
(চ) সংস্কৃত ভাষায় তালব্য বর্ণের (ন, ং, ৎ) প্রাধান্য দেখা যায় যা ইউরোপীয় অন্য কোন ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষায় নেই। পন্ডিতেরা মনে করেন যে, ইউরোপ থেকে ভারতে আসার পর দ্রাবিড় ভাষার প্রভাবে এরকম হয়েছে।
(ছ) বৈদিক সাহিত্যে সিংহের উল্লেখ থাকলেও বাঘ ও হাতির উল্লেখ নেই। আর্যরা ভারতের আদিবাসী হলে ভারতের এই দুটি প্রাণীর নামের উল্লেখ বৈদিক সাহিত্যে অবশ্যই থাকা উচিৎ ছিল। এসব যুক্তির বলে পন্ডিতেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে আর্যদের আদি বাসভূমি ছিল ভারতের বাইরে।
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে, আর্যরা ইউরোপ থেকে ভারতে এসেছিল। তাঁদের যুক্তিগুলো নিম্নরূপঃ
(ক) আর্য ভাষাগোষ্ঠীর সাতটি ভাষার মধ্যে পাঁচটি এখনও ইউরোপের ভাষা, শুধু সংস্কৃত ও পারসিক ইউরোপের বাইরের।ইউরোপে গ্রিক, ল্যাটিন, জার্মান প্রভৃতি আর্য ভাষাগুলোর যে রকম ঘন সন্নিবেশ দেখা যায় ভারতে তা দেখা যায় না। ইউরোপে আর্য গোষ্ঠীভুক্ত ভাষার আধিক্যের কারণে পন্ডিতেরা মনে করেন যে, আদিতে আর্যরা ইউরোপেই বাস করতো।
(খ) বৈদিক সাহিত্যে ওক, উইলো, বার্চ ইত্যাদি গাছ এবং ঘোড়া, গাভী, ষাঁড়, শুকর প্রভৃতি জন্তুর উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচ্য দেশের জন্তু হাতি, বাঘ, উট ইত্যাদির কোনো উল্লেখ বৈদিক সাহিত্যে নেই।
(গ) অধ্যাপক গাইলস মনে করেন যে, আর্যদের আদি বাসভূমি ছিল দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপ। আদি ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষায় সমুদ্রের কোন উল্লেখ না থাকায় ধরে নেওয়া যায় যে আর্যদের আদি বাসভূমি কোন দ্বীপে বা সমুদ্র তীরে ছিলনা। তারা যেসব গাছপালা ও পশুপাখির নাম উল্লেখ করেছে সেগুলো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের।
আর্যরা তখন স্থায়ীভাবে বসবাস এবং কৃষিকাজ শুরু করেছিল। তাদের গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরু, ঘোড়া ও ভেড়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন ছিল। তাহলে মনে করতে হবে যে আর্যদের আদি বাসস্থান এমন একটি স্থানে ছিল যেখানে কৃষি ও চারণযোগ্য পরিবেশ কোনটিরই অভাব ছিলনা । সেখানে কৃষিযোগ্য জমি, ঘোড়ার জন্য বিস্তীর্ণ স্তেপ এবং ভেড়া চরানোর জন্য উঁচু জমি- সবই ছিল। এসবের দিকে লক্ষ রেখে ড. গাইলস বর্তমান অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি অঞ্চলকেই আর্যদের আদি বাসভূমি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।
অধ্যাপক ব্র্যান্ডেস্টাইন মনে করেন যে, উরাল পর্বতের দক্ষিণে কিরঘিজ স্তেপ অঞ্চলই ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি। এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য তিনি শব্দতত্ত্বের সাহায্য নিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রথম দিকের ইন্দো-ইউরোপীয় শব্দাবলীতে কোন পর্বতমালার পাদদেশে বিস্তীর্ণ স্তেপ ভূমিতে আর্যদের আদি বাসভূমির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরবর্তীকালের ইন্দো-ইউরোপীয় শব্দাবলীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের জমি, গাছপালা এবং জীবজন্তুর সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে শুষ্ক স্তেপভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শব্দাবলীর পরিবর্তে জলাভূমির স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহী শব্দাবলী পাওয়া যায়। বর্তমানে অধিকাংশ পন্ডিতই ব্র্যান্ডেস্টাইনের মতের সমর্থক এবং তাঁরা মনে করেন যে, কিরঘিজ অঞ্চলই আর্যদের আদি বাসভূমি।
বেদ হচ্ছে আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য। চারটি বেদের মধ্যে ঋগ্বেদ প্রাচীনতম। বেদ প্রথমে লিখিত আকারে ছিলনা। ঋগ্বেদের স্তোত্রগুলো প্রথম রচিত হয় এবং শ্রুতি বা কানে শুনে স্মৃতি বা আবৃত্তির মাধ্যমে বহুকাল বংশ পরম্পরায় থেকে যায়। অনেক পরে বেদকে লিপিবদ্ধ করা হয়।
ঋগ্বেদের রচনাকাল জানতে পারলে আর্যদের ভারতে আগমনের সময় জানা যায়।জার্মান পন্ডিত ম্যাক্সমুলারের মতে, ঋগ্বেদ কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে রচিত হয়নি। ঋগ্বেদের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময় রচিত হয়েছিল। তাঁর মতে, ঋগ্বেদের রচনাকাল ছিল ১২০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। উইন্টারনিৎস ঋগ্বেদ ও প্রাচীন পারসিক ধর্মগ্রন্থ জেন্দ আবেস্তার ভাষার অসাধারণ সাদৃশ্য দেখে মনে করেন যে, দুটি গ্রন্থই সমসাময়িককালে রচিত হয়েছিল। ভাষাতাত্ত্বিক পন্ডিতদের মতে আবেস্তা রচিত হয়েছিল আনুমানিক ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। কাজেই ঋগ্বেদের রচনার সময়কালও অনুরূপ হতে পারে।
এশিয়া মাইনরের অন্তর্গত বোঘাজকোই নামক স্থানে খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ অব্দের একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। এতে বৈদিক দেবতা ইন্দ্র, বরুণ, মিত্র প্রমুখের অনুরূপ নাম আছে। এ থেকে মনে করা যায় যে ঋগ্বেদের রচনা শুরু হয়েছিল ১৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে। অধ্যাপক ব্যাশাম মনে করেন যে, ঋগ্বেদের রচনা কাল ছিল ১৫০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। সাধারণত পন্ডিতগণ মনে করেন যে, আর্যরা ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
ঋগ্বেদ থেকে আর্যদের ভারতে বসতি স্থাপন ও বিস্তার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে এ সম্পর্কে আরো কিছু বিবরণ পাওয়া যায়।
ঋগ্বেদে আফগানিস্তানের কাবুল ও স্বাত, পাঞ্জাবের শত্রু, ইরাবতী, চন্দ্রভাগা, বিপাশা, ঝিলাম এবং সিন্ধু ও সরস্বতী নদীর উল্লেখ আছে। হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ দিয়ে আর্যরা ভারতে প্রবেশ করে এবং প্রথমে আফগানিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে বসতি স্থাপন করে। আর্যরা আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে পাঞ্জাবের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ‘সপ্তসিন্ধু’ আখ্যা দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে ঋগ্বেদের প্রথম দিকের স্তোত্রগুলোতে ভারতের প্রধান নদী গঙ্গা বা যমুনার কোন উল্লেখ নেই। অধ্যাপক রোমিলা থাপার মনে করেন যে, ঋগ্বেদের যুগে আর্যরা দিল্লি অঞ্চল পর্যন্ত বসতি বিস্তার করেছিল।
পরবর্তীকালে আর্যরা আরো পূর্বদিকে তাদের বসতি বিস্তার করে। পরবর্তী বৈদিক উৎসগুলোতে দুটি সাগর এবং হিমালয় ও বিন্ধ্য পর্বতের উল্লেখ পাওয়া যায়। গাঙ্গেয় উপত্যকার আবহাওয়া তখন ছিল আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল। ফলে পাথর, ব্রোঞ্জ ও তামার হাতিয়ার দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করে খুব দ্রুত পূর্বদিকে বসতি স্থাপন সম্ভব ছিলনা।
খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে লোহার প্রচলন ঘটলে আর্যরা দ্রুত বসতি বিস্তার করতে সক্ষম হয়। লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে গোচারণ ভূমি, বনজ সম্পদ এবং কৃষি ক্ষেত্রের ওপর চাপ পরে। পূর্ব ভারতের গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা ছিল উর্বর এবং খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ। এসব সম্পদের লোভে এবং পাঞ্জাবে স্থানাভাবের কারণে আর্যরা পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। পরবর্তী বৈদিক যুগে আর্যসভ্যতার কেন্দ্র পাঞ্জাব থেকে মধ্যদেশ বা গঙ্গা-যমুনা উপত্যকায় সরে আসে। দক্ষিণ ভারতে আর্যসভ্যতা বিস্তার সম্পর্কে সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না। দক্ষিণ ভারতে আর্য সভ্যতা সম্পূর্ণভাবে বিস্তার লাভ করেনি।

সারসংক্ষেপ
আর্যদের আদি বাসভূমি সম্পর্কে পন্ডিতগণ বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। তবে বর্তমানে অধ্যাপক ব্র্যান্ডেস্টাইনের মতানুসারে অধিকাংশ পন্ডিতই মনে করেন যে, ওরাল পর্বতের দক্ষিণে কিরঘিজ স্তেপ অঞ্চলই ছিল আর্যদের আদি বাসভূমি। বেদ হচ্ছে আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য, যা প্রথমে লিখিত আকারে ছিল না। অনেক পরে বেদ লিপিবদ্ধ করা হয়। চারটি বেদের মধ্যে প্রাচীনতম হচ্ছে ঋগ্বেদ। আর্যদের ভারতে বসতি স্থাপন ও বিস্তার সম্পর্কে ঋগ্বেদ ও পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
সাধারণত পন্ডিতগণ মনে করেন আর্যরা ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হিন্দুকুশ পর্বতের গিরিপথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে আফগানিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে বসতি স্থাপন করে। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে তারা ‘সপ্তসিন্ধু নামে আখ্যা দিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদের বসতি বিস্তার করে। দক্ষিণ ভারতে আর্য সভ্যতা বিস্তার সম্পর্কে সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না।
