লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

আজকে আমদের আলোচনার বিষয় লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

Table of Contents

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

 

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় যা ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে পরিচিত।

মুসলিম লীগ প্রধান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তদানীন্তন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক এ প্রস্তাবটি পেশ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন আমি প্রথমে মুসলমান এবং পরে বাঙালি। ১৯০৬ সালে বাংলাদেশেই প্রথম মুসলিম লীগের নিশান উত্তোলিত হয়েছিল। এখন বাংলাদেেেশর নেতা হিসেবে সেই মুসলিম লীগের মঞ্চ হতে আমি মুসলমানদের জন্য আবাসভূমি স্থাপনের প্রস্তাব উত্থাপন করার অধিকার পেয়েছি।”

এই প্রস্তাবকে ভারতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য মুসলিম লীগের প্রথম গঠনমূলক প্রস্তাব বলা যায়। যদিও পরবর্তীকালে এ প্রস্তাব বিকৃত করে পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে রূপ দেয়া হয়, যার অনিবার্য পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়।

লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি

লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এ স্বায়ত্তশাসনের দাবি অনেক দিনের পুরনো। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় ও পরে মুসলমানরা স্বতন্ত্র নির্বাচন দাবি করে আসছিল। লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬), জিন্নাহর চৌদ্দ দফা দাবিতেও (১৯২৯) এর প্রতিফলন ছিল । তবে কংগ্রেস সব সময় এ দাবিকে সহজে মেনে নেয়নি। যে কারণে ভারতীয় রাজনীতিতে এ দাবি ক্রমান্বয়ে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে।

এছাড়া যেসব কারণ ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি সম্বলিত লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় তাহলো :

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা:

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয় জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। এজন্যে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ- উভয় দলই এর বিরোধিতা করায় ঐ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে পারেনি। এ আইন শুধু প্রদেশগুলোতে কার্যকর করা হয় এবং ১৯৩৭ সালে প্রদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মুসলিম লীগ উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করলেও আইনসভায় এককভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাধ্য হয়ে লীগ, কংগ্রেসের সাথে যুক্তভাবে মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব দিলে কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করে। শুধু বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রাদেশিক নির্বাচনে অধিকাংশ প্রদেশেই কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

কিন্তু মুসলিম লীগের সাথে কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই কংগ্রেস মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোতে মন্ত্রিসভা গঠন করে। কংগ্রেস মন্ত্রিসভা গঠনের পর আইন-আদালতে কংগ্রেস দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বন্দে মাতরম গাওয়ার ব্যবস্থা করে। কংগ্রেস শাসনামলে বিভিন্ন প্রদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ফলে মুসলমানদের অবস্থা একেবারে শোচনীয় হয়ে পড়ে। এমনকি মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে পর্যন্ত বাধা দেয়ার মত ঘটনা ঘটে। কংগ্রেসের এমন ধারার শাসনব্যবস্থা এ কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, হিন্দু-মুসলমান সহাবস্থান সুখকর নয়।

নেহেরু রিপোর্টের প্রতিক্রিয়া:

ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক বিধানের অগ্রগতির ইতিহাসে নেহেরু রিপোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান দলিল। সকল রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে ব্রিটিশ ভারতের এ সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ১৯২৮ সালে নেহেরু কমিটি গঠিত হয়। কমিটি লক্ষ্মৌ চুক্তিতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য গৃহীত ব্যবস্থাদি অস্বীকার করে সুপারিশমালা প্রণয়ন করে।

নেহেরু রিপোর্টের সুপারিশমালা বিবেচনার জন্য কলকাতায় সর্বদলীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়। এ অধিবেশনে মুসলিম লীগ ও খেলাফত কমিটির দাবি বিবেচনার জন্য একটি সাব-কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু নেহেরু রিপোর্টের ওপর মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মুসলিম লীগের সংশোধনী প্রস্তাব সাব-কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হয়।

ফলে ভারতীয় মুসলিম নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী ও চিন্তাধারার পরিবর্তন সূচিত হয়।তারা বুঝতে পারেন যে, হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করাও সম্ভব নয় ।

গোল টেবিল বৈঠকের ব্যর্থতা:

ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা প্রশমন এবং হিন্দু-মুসলমান সমস্যা সমাধানের লক্ষে বিলেতে (লন্ডনে) ব্রিটিশ সরকার, ভারতীয় বিভিন্ন দল, সম্প্রদায় ও দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের একগুয়েমির কারণে সম্প্রদায়গত স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনসভার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়।

এতে কংগ্রেস কর্তৃক মুসলমানদের ন্যূনতম দাবি মেনে না নেয়ার কারণে কংগ্রেস সম্পর্কে মুসলিম লীগের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়। পাশাপাশি মুসলিম লীগ পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হয়।

হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের প্রভাব:

উপমহাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প আরো ঘনীভূত হয়ে ওঠে, যখন কংগ্রেস সভাপতি পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু মন্তব্য করেন যে, ভারতে দু’টি শক্তির অস্তিত্ব লক্ষণীয় একটি সরকার, অপরটি কংগ্রেস দল । অন্য কোন দলের অস্তিত্ব তিনি স্বীকার করতে নারাজ। তাঁর এ মন্তব্য মুসলমান নেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

জিন্নাহ এতদিন পর্যন্ত রাজনীতিতে হিন্দু- মুসলিম মিলনের প্রবক্তা ছিলেন, তিনিও এতে ব্যথিত হন। বস্তুত ভারতীয় জনগণের ঐ অংশটি মনে করত যে, ব্রিটিশরা চলে গেলে হিন্দু সম্প্রদায় ভারত শাসন করবে। তারা মুসলমানদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখত। তাই মুসলমানদের আলাদা একটি অংশ প্রতিষ্ঠিত করার পরোক্ষ ইচ্ছা তাদেরও ছিল।

এ সম্পর্কে হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা সরদার প্যাটেল-এর মন্তব্য সম্পর্কে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর India Wins Freedom গ্রন্থে লিখেছেন, ‘I was surprised and pained when Patel in reply said that whether we liked it or not there were two nations in India.’

মুসলিম চিন্তাবিদদের প্রাগ্রসর চিন্তাধারা:

লাহোর প্রস্তাবে যে স্বাধীন মুসলিম আবাসভূমির দাবি করা হয়েছে, অনুরূপ একটি প্রস্তাব ১৯৩০ সালে মহাকবি আল্লামা ইকবাল তাঁর একটি ভাষণে উল্লেখ করেন। তিন বছর পর ১৯৩৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ভারতের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম এলাকাগুলোর জন্য ‘পাকিস্তান’ নামের উদ্ভাবন করেন।

কিন্তু তখন পর্যন্ত অসাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ মুসলমানদের জন্য পৃথক কোন রাষ্ট্রের কথা ভাবেন নি। কিন্তু পরে কংগ্রেস সভাপতি নেহেরুর দম্ভোক্তি তাঁকে আহত করে।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও মুসলিম স্বার্থ বিরোধী নীতি গ্রহণ:

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাতে কংগ্রেস অধিকাংশ প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। মুসলিম লীগ বাংলা ও পাঞ্জাবে উল্লেখযোগ্য আসন লাভ করে এবং সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠন করে। মাদ্রাজ, যুক্ত প্রদেশ, সীমান্ত প্রদেশ, বোম্বাই ও আসামে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মুসলিম লীগের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এককভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করে।

এছাড়া ক্ষমতা গ্রহণ করে কংগ্রেস অফিস আদালতে কংগ্রেস দলীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংঙ্গীত, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে হিন্দি চালু করে। এসময় স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত হয় ভারতে হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে দাঙ্গা দেখা দেয় যা সাম্প্রদায়িক সংকটের সৃষ্টি করে।

জিন্নাহ্র দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা

১৯৪০ সালের ২২ মার্চ নিখিল ভারতে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, “The Mussalmans are not a minority… Mussalmans are a nation according to any definition of a nation….” তিনি ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির দাবি তোলেন। এটিই জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব (Two Nations Theory)। জিন্নাহ্ ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর রচিত ছিল না।

তা ছিল প্রধানত অখন্ড ভারতে অনিবার্য হিন্দু আধিপত্যের স্থলে ভারত বিভক্তি এবং আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ থেকে স্থায়ী পরিত্রাণের লক্ষে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ, কৃষ্টি, ভাষা, অঞ্চল ও ঐতিহ্যে বিভক্ত ভারতীয় মুসলমানদের একই পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ করার একটি কৌশল। প্রকৃতপক্ষে অবিভক্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও অগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্যের ভীতি মুসলমান সম্প্রদায়কে শংকিত করে তোলে।

এ অবস্থায় জিন্নাহ্ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের বিভক্তি ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করলে তা ভারতীয় মুসলমানদের চেতনামূলে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে দেয়। পৃথক আবাসভূমি বা স্বাধীনতার স্বপ্ন তাদেরকে জাগিয়ে তোলে। ফলে পাকিস্তান আন্দোলন প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ও বৈশিষ্ট্য

লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়:

“নিখিল পাকিস্তান মুসলিম লীগের এই অধিবেশনে সুনিশ্চিত অভিমত এই যে, কোন শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা কার্যকর হবে না বা তা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি তা নিম্নলিখিত মূল নীতিভিত্তিক না হয়।

যথা- প্রয়োজনবোধে সীমানার পুনর্বিন্যাস সাধন করে এবং ভৌগোলিক দিক থেকে পরস্পর নিকটবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর সমন্বয় সাধন করে যেমন- ভারতের উত্তর- পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের এলাকাগুলোকে একত্রিত করে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে এবং এদের অঙ্গরাজ্যগুলোও স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।

এ প্রস্তাবে আরো উল্লেখ করা হয়, এসব অঙ্গরাজ্যে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং শাসন সংক্রান্ত অধিকার রক্ষা করার জন্য ভারতের ভবিষ্যৎ সংবিধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেখানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের পরামর্শক্রমেই সংবিধানে পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ রাখতে হবে ।

প্রস্তাবটি বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত বিষয় পাওয়া যায়-

১. ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে প্রয়োজনীয় রদবদলের মাধ্যমে পৃথক অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে।

২. এ সকল অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা প্রয়োজনমত পরিবর্তন করে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (Independent States) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. এ সমস্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে স্বায়ত্তশাসিত।

৪. ভারতের ও নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের সাংস্কৃতিক, শাসনতান্ত্রিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে ।

৫. দেশের যে কোন ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনায় উক্ত বিষয়গুলোকে মৌলিক নীতি হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।

লাহোর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া:

কংগ্রেস ও হিন্দু নেতাদের মধ্যে লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে মহাত্মা গান্ধী বলেন, “যদি আমরা শ্রী জিন্নাহ্র অভিমত গ্রহণ করি, তা হলে বাংলাদেশ ও পাঞ্জাবের মুসলমানরা দু’টি স্বতন্ত্র ও পৃথক জাতি হয়ে পড়ে।” মহাত্মা গান্ধী ভারত বিভাগকে ‘পাপ কাজ’ বলে মন্তব্য করেন। কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহেরু মুসলমানদের স্বতন্ত্র ও স্বাধীন আবাসভূমি গঠনকে ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন।

কলকাতার হিন্দু পত্রিকাগুলো লাহোর প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে এবং একে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে আখ্যায়িত করে।
বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া: লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও বাংলাদেশের পৃথক রাষ্ট্র সত্তার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় এ.কে. ফজলুল হক মনে করেন, বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা বাঙালি মুসলমানদের হাতে আসবে এবং এ ক্ষমতা তারা নিজেরা ভোগ করবে, কোন কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের হাতে তুলে দিবে না।

সোহরাওয়ার্দী মনে করেন, এর ফলে প্রত্যেক প্রদেশ এর উপযোগী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করবে, সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হবে। তিনি আরো বলেন, মুসলিম লীগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলমানরা তাদের প্রদেশে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে তারা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

বাংলাদেশের মুসলিম লীগের নেতাদের এমনি আশা আকাংখা সত্ত্বেও লাহোর প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিজাতি তত্ত্ব যুক্ত করায় এবং একে পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করায় এর প্রস্তাবক ফজলুল হক এর সমর্থন করেন নি। কারণ লাহোর প্রস্তাবে ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা ‘পাকিস্তান ‘ শব্দের উল্লেখ ছিল না। যদিও শেষপর্যন্ত অবাঙালি নেতৃবৃন্দের তৎপরতায় দ্রুত লাহোর প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এর ফলে মুসলিম লীগের অবাঙালি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাঙালি নেতৃবৃন্দের দ্বন্দ্ব প্রকটরূপ নেয়। যদিও ভারত উপমহাদেশে কংগ্রেসের একাধিপত্যের অবসানের লক্ষে মুসলমানরা লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন দেয়। বাংলাদেশের শিক্ষিত মুসলমান ও ছাত্র সমাজের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া:

ব্রিটিশ সরকার দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ভারতের হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভে আগ্রহী ছিল। ১৯৪০ সালে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলে ভারতের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা মারাত্মক রূপ লাভ করলে ব্রিটিশ সরকার লাহোর প্রস্তাবকে গুরুত্বসহ বিবেচনা করে। এর ফলে ব্রিটিশ সরকার বুঝতে পারে যে, ভারতীয় মুসলমান সম্প্রদায় তথা মুসলিম লীগের সম্মতি ছাড়া ভারতবর্ষে শাসনতান্ত্রিক কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়।

লাহোর প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী কংগ্রেস ধীরে ধীরে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং পাকিস্তান দাবি মেনে নেয়। পরিশেষে ব্রিটিশ সরকারও চূড়ান্তভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, লীগের প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত বিভাগ করা না হলে ভারতের শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের বিকল্প পথ নেই।

তাই ব্রিটিশ সরকার অখন্ড ভারতবর্ষের পরিবর্তে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পথ বেছে নেয়। এর ফলে ভারত উপমহাদেশ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

লাহোর প্রস্তাবের অস্পষ্টতা ও সীমাবদ্ধতা

প্রথমত, লাহোর প্রস্তাবের ধারাগুলি বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অস্পষ্টতা ও স্ববিরোধিতা লক্ষ করা যায়। যেমন- এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্র কথাটিকে বহুবচনে Independent States ব্যবহার করায় বাক্যাংশটি দু’টি মুসলিম রাষ্ট্র- একটি ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিমাংশে এবং অপরটি পূর্বাংশে বুঝায়। এ থেকে বোঝা যায়, লাহোর প্রস্তাবে উপমহাদেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলির পূর্ণ স্বাধীনতা চাওয়া হয়েছিল।

এই প্রস্তাবে অখন্ড রাষ্ট্রের (পাকিস্তান) কথা উল্লেখ নেই; বরং দু’টি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পরিকল্পনা লক্ষ করা যায়- একটি উত্তর-পশ্চিম ভারতে সিন্ধু, বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব, সীমান্ত প্রদেশ ও কাশ্মীর নিয়ে, অপরটি উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ ও আসামের সমন্বয়ে।

এ দু’টি রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রদেশগুলি স্বায়ত্তশাসিত হবে। কিন্তু কায়েমী স্বার্থবাদী ও ক্ষমতালিপ্সু গোষ্ঠী এই সত্য কথাটির অবমানা করে ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত Muslim League Legislators Convention- এ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে। খোদ জিন্নাহ্ রাষ্ট্রের এই বহুত্ববোধক ( States) শব্দটিকে অসাবধানতাপ্রসূত ও ছাপার ভুল বলে উল্লেখ করেন এবং একটি অখন্ড রাষ্ট্রের পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য স্বায়ত্তশাসিত হতে পারে। কিন্তু সার্বভৌম হতে পারে না । অঙ্গরাজ্য সার্বভৌমত্বের অধিকারী হলে এটা আর অঙ্গরাজ্য থাকে না- একটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। অথচ লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছে- স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্যগুলি স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।

এই স্ববিরোধী ভাষা হতে বলা যায় যে, লাহোর প্রস্তাবের প্রণেতাগণ উত্তর-পশ্চিম ভারতে ও উত্তর- পূর্ব ভারতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের সমন্বয়ে একটি রাষ্ট্র সমবায় (confederation) গঠনের সুপারিশ করেছেন ।অথবা আবুল হাশিমের মতানুসারে বলা যায় যে, লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রতিষ্ঠিত হবে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফেডারেল এবং এদের অঙ্গরাজ্যগুলি হবে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত।

লাহোর প্রস্তাব কি পাকিস্তান প্রস্তাব?

মূল লাহোর প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলি নিয়ে একাধিক ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। এ প্রস্তাবের কোথাও একটি মুসলিম রাষ্ট্রের কিংবা ‘পাকিস্তান’ শব্দের উল্লেখ ছিল না।

কিন্তু এই প্রস্তাব গ্রহণের পরদিন কংগ্রেস প্রভাবাধীন পত্র-পত্রিকাগুলি *পাকিস্তান প্রস্তাব’ শিরোনামে লীগের প্রস্তাবের দাবি-দাওয়া প্রকাশ করে।গ্রেট ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকাগুলিতেও পরবর্তী সময়ে ‘লাহোর প্রস্তাব’কে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে অভিহিত করা হয়। এতে কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

কংগ্রেস সমর্থিত পত্র-পত্রিকাগুলো মূলত সমালোচনাসূচক অর্থেই ‘লাহোর প্রস্তাব’কে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে অভিহিত করেছিল। কারণ, কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ অখন্ড ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৪৩ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ্ বলেন যে, পাকিস্তান শব্দটি তাঁর বা মুসলিম লীগের উদ্ভাবিত নয়।

তিনি বলেন যে, সকলেই জানে পাকিস্তান শব্দটি কিছু হিন্দু ও ব্রিটিশ পত্রিকা কর্তৃক তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, তবে তা পাকিস্তান নামেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশি। জিন্নাহ্ আরো বলেন যে, কতদিনই বা এত বড় শব্দ ব্যবহার করা যায় । এ জন্য মাত্র একটি শব্দে (পাকিস্তান) প্রস্তাবটিকে অভিহিত করার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তার অর্থ, জিন্নাহ্র কথায় এটাই বুঝায় যে, প্রস্তাবটি প্রথমে লাহোর প্রস্তাব নামে অভিহিত হলেও তাঁর মনে আসলে অখন্ড পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল। আর তাই তিনি পত্র-পত্রিকার দোহাই দিয়ে পাকিস্তান প্রস্তাব কথাটিকে সমর্থন করেছেন। এ সময় থেকে পাকিস্তান নামটি জনসাধারণের মধ্যে পরিচিত হয়। কিন্তু তখন পাকিস্তান বলতে এক রাষ্ট্র বুঝায় নি; লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী একাধিক রাষ্ট্র বুঝাত।

১৯৪৩ সাল পর্যন্ত জিন্নাহ্ লাহোর প্রস্তাব বলতে একাধিক রাষ্ট্রের উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি পাকিস্তান নাম এক রাষ্ট্রের অর্থে ব্যবহার করেন। ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জিন্নাহ্ ও গান্ধীর মধ্যে যে পত্র বিনিময় হয়, তাতে জিন্নাহ্ প্রথম প্রকাশ করেন যে, মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হবে। দুই অঞ্চলের প্রদেশগুলি সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে কি না জিন্নাহ্র কাছে গান্ধী সে বিষয়ে জানতে চান।

উত্তরে গান্ধীকে তিনি জানান যে, প্রদেশগুলি সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে না, এগুলি পাকিস্তানের ইউনিট হবে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পূর্ববঙ্গ ও আসামের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক রদ-বদল করে এদের সমবায়ে পাকিস্তান গঠিত হবে।

জিন্নাহ্ ১৯৪৫ সালের ৮ নভেম্বর এসোসিয়েটেড প্রেস অব আমেরিকার প্রতিনিধিকে বলেন যে, পাকিস্তান একটি যুক্তরাষ্ট্র হবে এবং এর প্রদেশগুলি স্বায়ত্তশাসনের অধিকারী হবে। আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মত পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র হবে এবং মুদ্রা, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য বিষয় যুক্তরাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।

১৯৪৬ সালে মূল লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে ‘স্টেটস’ শব্দের পরিবর্তে ‘স্টেট’ শব্দ ব্যবহার করার পর থেকে লাহোর প্রস্তাব নামেই অভিহিত হতে থাকে। লাহোর প্রস্তাব এক রাষ্ট্রের অর্থে ব্যবহার করে জিন্নাহ্ এতে মূলগত পরিবর্তন প্রচলন করেন। এই পরিবর্তনের পেছনে দলীয় কোন নিয়মতান্ত্রিক সমর্থন যেমন ছিল না, তেমনি ছিল না নৈতিক ভিত্তিও।

তবুও এই প্রস্তাবকে সামনে রেখেই ভারতের মুসলমান জনগণ মুসলিম জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত হয়। এরই ফলস্বরূপ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ‘পাকিস্তান’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়।

সারসংক্ষেপ

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ও মুসলমানদের একটি পৃথক আবাসভূমি দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ছিল। যদিও মুসলিম লীগের অবাঙালি নেতৃবৃন্দ পরবর্তীকালে একাধিক রাষ্ট্রের স্থলে একটি রাষ্ট্রের পক্ষে তৎপরতা চালান।

এতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। কংগ্রেস ও হিন্দুদের বিরোধিতা সত্ত্বেও অবশেষে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। যদিও লাহোর প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটির উল্লেখ ছিল না।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

১। এম. এ. রহিম, বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস (১৮৫৭-১৯৪৭), ঢাকা, আহমদ পাবলিশিং হাউস, ২০০২।

২। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র, ১ম খন্ড, ঢাকা, তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮৪ ।

৩। সিরাজুদ্দীন হোসেন, ইতিহাস কথা কও, ঢাকা, নওরোজ কিতাব মহল, ১৯৭৪ ।

৪। শৈলেশ কুমার বন্দোপাধ্যায়, জিন্নাহ পাকিস্তান নতুন ভাবনা, কলকাতা, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স, ১৯৮৮।

 

লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:

১। লাহোর প্রস্তাবের ৫টি বৈশিষ্ট্য লিখুন।

২। লাহোর প্রস্তাবের প্রতি কংগ্রেস ও ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে লিখুন।

৩। লাহোর প্রস্তাবকে কি পাকিস্তান প্রস্তাব বলা যায়? আপনার অভিমত সংক্ষেপে লিখুন।

রচনামূলক প্রশ্নঃ

১। লাহোর প্রস্তাবের পটভূমি আলোচনা করুন।

২। লাহোর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করুন। লাহোর প্রস্তাব কি পাকিস্তান প্রস্তাব ছিল?

Leave a Comment