পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

আজকে আমদের আলোচনার বিষয় পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

 

পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

 

পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে পূর্ববাংলার জনগণ আশা পোষণ করেছিল পৃথক রাষ্ট্র সৃষ্টির মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় অন্যান্য ক্ষেত্রের সাথে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বাঙালির আত্ম নিয়ন্ত্রণাধিকার ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক মহল পূর্ববাংলাকে তাদের উপনিবেশ হিসেবে ভাবতে থাকে এবং ঔপনিবেশিক কায়দায় শোষণ শুরু করে।

গবেষকরা একে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ হিসেবে আখ্যা দেন। পূর্ববাংলার জনগণ রাজস্ব আয়-ব্যয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ উন্নয়ন বাবদ ও উন্নয়ন প্রকল্প বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের বন্টন এবং আমদানি- রপ্তানি প্রভৃতি ক্ষেত্রে শোষণের শিকার হতে থাকে। পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক এরূপ শোষণমূলক নীতি অনুসরণের ফলে ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে।

এরূপ শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে পূর্ববাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বাধতে থাকে এবং এ আন্দোলন ক্রমে স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ গ্রহণ করে। যার সফল পরিণতি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ ।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সম্পদ বিভাজন নীতি

পাকিস্তান রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকার ছিল সবক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। ফলে রাষ্ট্রীয় সকল পরিকল্পনা প্রণীত হত কেন্দ্রীয় সরকারের দফতরে। আর এ বিভাগে পূর্ববাংলার প্রতিনিধি না থাকায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থান্বেষী মহল কৌশলে পূর্ববাংলাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সম্পদ বিভাজনের ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের তত্ত্ব ছিল যে, এক এলাকায় যে খরচ বা বিনিয়োগ হবে, অর্থনীতিটি অবিচ্ছেদ্য হওয়ায় তার সুফল দুইটি এলাকাতেই সমভাবে ভোগ করা যাবে। এ তত্ত্বে বিশ্বাসী পশ্চিমা শাসকবর্গ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রণীত পরিকল্পনাগুলোতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বৈষম্য নীতি অনুসরণ করে।

পরিকল্পনাসমূহের বরাদ্দের খতিয়ান থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গৃহীত হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করা হয়েছিল ১৯৫৫/৫৬ সন থেকে ১৯৫৯/৬০ সন পর্যন্ত। এ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়ন খাতে সরকারিভাবে মোট ৩০০ কোটি ২০ লক্ষ রূপী বরাদ্দ করা হয়েছিল।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যয় ছিল ১১৩ কোটি ৩ লক্ষ ৮০ হাজার রূপী। অর্থাৎ পুঁজি বিনিয়োগের মাত্র ৩৭%। অপরপক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন খাতে ব্যয় ছিল প্রকৃতপক্ষে ৫০০ কোটি রূপী। অন্যভাষায়, প্রথম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় সরকারিভাবে প্রতিবছরে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রায় ৪-৫ গুণ অর্থ বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছিল।

আবার এই সময়ে ব্যক্তিগত মালিকানা খাতে পূর্ব পাকিস্তানে ৭৩ কোটি এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ২৯৩ কোটি রূপি বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাকাল ১৯৬০/৬১ থেকে ১৯৬৪/৬৫ সন।

প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সমালোচনা গড়ে উঠলে এবং আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিলে আইয়ুব খান দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। আইয়ুব খান ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের দু’প্রদেশের মধ্যে সম্পদ বিভাজনের বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য একটি ফাইনান্স কমিটি গঠন করেন।

কমিটির সুপারিশক্রমে পাকিস্তানের উভয় অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে সম্পদ বিভাজনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বরাদ্দকৃত ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৯৫০ কোটি এবং ১৩৫০ কোটি রূপী।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আইয়ুব খান দুপ্রদেশের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস করার কথা ঘোষণা করা হলেও দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দের ৪৫% পড়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে। কিন্তু পরবর্তীকালে মোট খরচের মাত্র ৩১% ভাগ পূর্ব পাকিস্তানে এবং বাকী অংশ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হয়েছিল। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানে সিন্ধু নদীতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ২১১ কোটি রূপী ব্যয় করা হয়েছিল ।

সুতরাং সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় উন্নয়ন কর্মকান্ডে মোট বরাদ্দের ৬৯% ব্যয় করা হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত খাতে পূর্ব পাকিস্তানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৩০০ কোটি এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ১০৭০ কোটি রূপী। যথাক্রমে ২১.৯% ও ৭৮.১%।

শোষণের প্রক্রিয়া

রাজস্ব আয় ও ব্যয় :

দু’টি যুক্তি প্রদর্শন করে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করতো। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজস্বের তুলনামূলক কম অংশ পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত হত। তাই পশ্চিমে বেশি রাজস্ব ব্যয় করা হলে তাতে পূর্ব পাকিস্তানের আপত্তির কারণ নেই। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ এসব বিষয়ে যে ব্যয় হয় তাতে দুই অঞ্চলেরই সমান মঙ্গল সাধিত হয়।

১৯৬৯ সালে জাতীয় পরিষদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকাশিত হয় বিগত তিন বছরের কেন্দ্রীয় রাজস্ব আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মোট পরিমাণ ছিল ৩৩৪৪ মিলিয়ন টাকা আর একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের মোট অর্জন ছিল ৯১৫৭ মিলিয়ন টাকা।

আবার রাজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে ১৯৭০ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে মোট রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হয়েছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা এবং একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় করা হয়েছিল ২২২৩০ মিলিয়ন টাকা। তাই দেখা যায় যে, উলে-খিত সময়ে কেন্দ্রীয় রাজস্ব আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অবদান ছিল প্রায় ১/৩ ভাগ, কিন্তু এখানে ব্যয় হয়েছে ১/৫ ভাগ।

তবে পশ্চিম পাকিস্তানের যে রাজস্ব আয় দেখানো হয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ, পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কোম্পানি তাদের আয়কর ও শুল্ক প্রদান করত পশ্চিম পাকিস্তানের মোট রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ পরোক্ষভাবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে যেতো। আবার, রাজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এমন কিছু ব্যয়ের ভাগ পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপানো হতো।

যার দ্বারা পুর্ব পাকিস্তান বিন্দুমাত্র লাভবান হতো না, ওপরন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতো। যেমন- ১৯৬৫ সালে পাকভারত যুদ্ধে যে ব্যয় হয় তার একটা অংশ পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপানো হয়। আবার, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী মূলত, পশ্চিম পাকিস্তান কে রক্ষার্থেই ব্যবহৃত হতো সর্বদা। এক্ষেত্রে ব্যয় বহন করতে হতো পূর্ব পাকিস্তানকে ।

অনুরূপ এ অঞ্চলে কাঁচামাল থাকা সত্বেও কারখানা স্থাপন না করে অধিকমূল্যে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হতো। অনুরূপভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি । কিন্তু সরকার পরিচালনার একটা অংশ পূর্বাঞ্চলকে বহন করতে হতো। এভাবে রাজস্ব আয়ে ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্ববাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করা হতো ।

বৈদেশিক সাহায্যের বিভাজন ও ব্যবহার:

পাকিস্তানের তেইশ বছরে জাতি প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য লাভ করে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং দাতাদেশসমূহ পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের দুর্দশা লাঘবের লক্ষে নগদে ও পণ্যে এ সাহায্য দিয়েছিল। পাকিস্তানে বাঙালিরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং অপেক্ষাকৃত গরীব।

বৈদেশিক সাহায্যের সিংহভাগ নীতিগতভাবে পূর্ব পাকিস্তানের পাওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়মিতভাবে পূর্ব পাকিস্তানকে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। ওপরন্তু এ বৈদেশিক ঋণ ও ঋণের সুদের সিংহভাগ বহন করত পূর্ব পাকিস্তান। কয়েকটি দৃষ্টান্ত থেকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টরূপে প্রমাণিত হয়। যেমন— ১৯৬৫ সালে ৬ কোটি মার্কিন ডলারের চীন সাহায্যের প্রায় সম্পূর্ণটাই ব্যবহৃত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে ।

সেখানে ৯০ লক্ষ ডলার ব্যয়ে একটি ভারী মেশিনারী কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। অপরদিকে মাত্র ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়নের জন্য। কিন্তু সম্পূর্ণ ঋণই পরিশোধ করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও পাটজাত দ্রব্য দিয়ে। জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা ১৯৬৪ সনে পাকিস্তানকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার ঋণ দিয়েছিল।

তারমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানকে দেয়া হয়েছিল ৪৫ লক্ষ এবং বাকি ৮৫ লক্ষ দেয়া হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে । ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত বৃটেন মোট ৬ কোটি ৪০ লক্ষ পাউন্ড সাহায্য দিয়েছিল, যার প্রায় সম্পূর্ণটাই ব্যবহৃত হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নমূলক কাজে। একই সময়ে মার্কিনী সাহায্যের ৬ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে বাঁধ নির্মাণ কাজে আর মাত্র ৯০ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ।

আমদানি-রফতানি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শোষণ:

পাকিস্তানে বহির্বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যও পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত দফতর থেকে পরিচালিত হতো। ফলে বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা সর্বদা পশ্চিম পাকিস্তানের অনুকূলে থাকতো। পাকিস্তানের বহির্বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয়ের ৬০ শতাংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের আর বাকি ৪০ শতাংশ পশ্চিম পাকিস্তানের ।

১৯৬০ এর দশকের শেষ দিকে বহিঃবাণিজ্যে পূর্ব পাকিস্তানের অংশক্রমে কমতে থাকে । কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তখন কাঁচামাল অপেক্ষা প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যের চাহিদা ছিল সর্বাধিক। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত রেখে সকল কলকারখানা গড়ে তোলৈ পশ্চিম পাকিস্তানে । তারপরও ১৯৭০ সালের দিকে বহির্বাণিজ্যের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৫৩৭০ মিলিয়ন ডলার ।

এছাড়া বৈদেশিক সম্পদ প্রবাহ ছিল ১৬০০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু মোট আমদানি ব্যয় ছিল ৪২১৬ মিলিয়ন ডলার। সুতরাং এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি উদ্বৃত্ত থাকে ২৭৫৪ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৪৪৪০ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ব্যয় ছিল ৯৩১২ মিলিয়ন ডলার।

সুতরাং পশ্চিম পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি থাকে ৪৮৭২ মিলিয়ন ডলার। সুতরাং পশ্চিম পাকিস্তানের এ ঘাটতি পূরণ করা হতো পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত আয় থেকে। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তান শোষণের শিকার হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান প্রধানত পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পের কাঁচামালের যোগান দিতো। আর পশ্চিম পাকিস্তান তাদের উৎসাহিত পণ্য পূর্বাঞ।

চলে চড়া দামে বিক্রি করতো। পূর্ব পাকিস্তানকে কাঁচামাল রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার অনুসরণ করতে হতো, কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান এ ধরনের কোন নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে এ অঞ্চলকে তাদের একচেটিয়া বাজারে পরিণত করেছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে পূর্ব পাকিস্তান সবসময় ঘাটতির সম্মুখীন হতো এবং তা রীতিমতো পরিশোধ করতে হতো।

 

মুনাফা ও মূলধন আহরণের মাধ্যমে শোষণ:

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলে একই রাষ্ট্র হলেও পশ্চিমের কর্মচারী ও অফিসার পূর্বে কর্মরত থাকতো এবং তাদের মাসিক বা বাৎসরিক আয় পশ্চিমে চলে যেতো। পূর্বাঞ্চলে কাঁচামাল সস্তা থাকায় পশ্চিমা পুঁজিপতিরা এ অঞ্চলে কিছু শিল্পকারখানা গড়ে তোলে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য এখানে সরাসরি বিক্রি না করে পশ্চিম পাকিস্তানে যেতো এবং পরবর্তীতে তা পশ্চিমাঞ্চলের রপ্তানি হিসেবে পূর্বাঞ্চলে আসতো এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ আবার পশ্চিমে চলে যেতো।

কখনো কখনো এ অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার পর পুঁজিপতিদের বা সরকারের লক্ষ থাকত যতো শীঘ্র পারা যায় মূলধন পরিশোধ করা। ঘটনাটি ঘটেছে আদমজি জুট মিল স্থাপনের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে লক্ষ স্থির হয় প্রতিষ্ঠার তিন থেকে ৭ (সাত) বছরের মধ্যে সমুদয় বিনিয়োগ উসুল করা। অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রেও অনুরূপ মনোভাব পোষণ করা হয়েছিল।

মুলধন আহরণের ক্ষেত্রেও পূর্বাঞ্চলের লোকজন শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধান প্রধান ব্যাংক, বীমা পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপিত ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের অধিকারে থাকায় ঐ অঞ্চলের শিল্পপতিরা সহজে ঋণ নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৭০ সনে দেখা যায় পাকিস্তানের ৩৬টি তালিকাভুক্ত ব্যাংকের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল ১৫টি।

এসব ব্যাংকের মধ্যে ১০টি পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ছিল যেখানে ৭৫% মূলধন জমা হতো। বাঙালি মালিকানাধীন ছিল মাত্র দু’টি ব্যাংক যাতে জমাকৃত মূরধনের হার ছিল ১৬.৬% এবং বিদেশি তিনটি ব্যাংকের জমাকৃত মূলধনের হার ছিল ৮.৪%।

১৯৭০ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত পাকিস্তানের মোট ব্যাংকিং জমার ৩৬% এবং ব্যাংকিং ঋণের ২৬.৬% পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাংকগুলোতে। কাজেই পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা সম্ভব ছিল না। পাকিস্তানে ১১টি বিদেশি ব্যাংকের সদর দফতর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে এবং এসব ব্যাংকের ১৯টি শাখা ছিল পশ্চিমে আর ১২টি পূর্বাঞ্চলে।

কাজেই বিদেশী ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বেশি সুবিধা ভোগ করতো। ব্যাংকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্বাঞ্চলের পুঁজিপতিরা বৈষম্যের শিকার হতো। পশ্চিম পাকিস্তানের কোন বিনিয়োগকারী তার ১০% মূলধন দেখিয়ে ৯০% ঋণ নিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে পারতো। পূর্বাঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের এ সুযোগ সচরাচর দেয়া হতো না ।

অবকাঠামোগত বৈষম্য:

পাকিস্তানে পাকিস্তানেরর তেইশ বছরের শাসনামলে সরকারের ঔপনিবেশিকমূলক মনোভাব তথা উন্নয়ন প্রকল্পে পশ্চিমাঞ্চলকে অধিকতর প্রাধান্য দেয়ায় উভয় অঞ্চলের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য আকাশ-পাতাল ব্যবধানে উপনীত হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই-দুইটি রাজধানী পশ্চিম পাকিস্তানে গড়ে তোলার কারণে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম মূলত পশ্চিম পাকিস্তানকে ঘিরেই পরিচালিত হয়।

এছাড়া, ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস, সামরিক, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সদর দফতর, বিদেশী মিশনের প্রধান কার্যালয় প্রভৃতি পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপিত হয়েছিল। অর্থনৈতিক দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তোলা হয়েছে শিল্প নগরী হিসেবে আর পূর্বাঞ্চলকে রেখেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পের কাঁচামালের যোগানদাতা ও উৎপন্ন পণ্যের বাজার হিসেবে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও পূর্বাঞ্চল বৈষম্যের শিকার হয়েছে। যেমন-

১৯৬০ সালে দেখা যায় পশ্চিম পাকিস্তানে রেলপথ ৫৩৪৩.৮৯ মাইল, পূর্বাঞ্চলে ১৭১২.৫৫ মাইল। পশ্চিমাঞ্চলে পাকা রাস্তা ১০৬০৯ মাইল, পূর্বাঞ্চলে ২৩৮৮ মাইল। ১৯৬৫ সালে দেখা যায় পাকিস্তানের ২৩টি বেসামরিক বিমানবন্দরের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল ১৮টি এবং পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র ৫টি। বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়।

যেমন- ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন উন্নীত হয়েছিল ৫৫০ হাজার কিলোওয়াটে, সেক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানে উন্নীত হয়েছে ১৯৫৬ হাজার কিলোওয়াটে। একই সাথে পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারিত হয় ৩৮ হাজার মাইল আর পশ্চিমে ৬৩ লক্ষ ১২ হাজার মাইল। কাজেই অবকাঠামোগত দিকের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পূর্ববাংলা মাঝকভাবে বঞ্চিত হয়েছে।

সম্পদ পাচার:

পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম তেইশ বছরের ইতিহাস হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণের যুগ। এসময় পূর্ব পাকিস্তান থেকে নগদে ও জন্যে প্রচুর সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়। অর্থনীতির ভাষায় একে সম্পদ পাচার বলে। এক হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ মিলিয়ণ রুপি পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়।

আর এক হিসাবে দেখা যায়, ১৯৪৮-৪৯ থেকে ১৯৬৮-৬৯ পর্যন্ত বিশ বছরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে মোট ১১.৮ বিলিয়ন টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয় যা পশ্চিম পাকিস্তানের ঐ সময়কার মোট উন্নয়ন ব্যয়ের ১৯ শতাংশ। এ অর্থ পূর্ব পাকিস্তানে উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ড ৩৯ ভাগ বৃদ্ধি পেতো।

বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তত্ত্ব দেয় যে, রাষ্ট্রের এক এলাকায় যে খরচ বা বিনিয়োগ হবে, অর্থনীতিটি অবিচ্ছেদ্য হওয়ায় তার সুফল দুইটি এলাকাতেই উপভোগ করা যাবে। এ তত্ত্বের প্রথম প্রতিবাদ গড়ে উঠে ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রামে একটি নিখিল পাকিস্তান অর্থনীতি সম্মেলনে। বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. মাজহারুল হক, ড. আবু সাদেক এবং ড. মির্জা নূরুল হুদা-এ তত্ত্বের অসারতা প্রমাণ করেন।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক উক্ত তত্ত্বের প্রতিবাদে দুই অর্থনীতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তিনি ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের দু’প্রদেশের মধ্যে সম্পদ বিভাজনের বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য একটি ফাইনান্স কমিশন গঠন করেন। এ কমিশনের মূল সুপারিশ ছিল যে কেন্দ্রীয় রাজস্বের যে অংশ প্রদেশে বিভাজন করা হবে তার সিংহভাগ পাবে পূর্ব পাকিস্তান ।

এ বিভাজন হবে জনসংখ্যা অনুপাতে। প্রকৃতপক্ষে কমিশনের রিপোর্ট ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে কখনো এ নীতি কার্যকর হয় নি। ১৯৬৫ সালে তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হলে আঞ্চলিক বরাদ্দের প্রশ্নে জনগনের বিতর্ক সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও আঞ্চলিক অর্থ বরাদ্দের প্রশ্নকে পরিকল্পনা বিষয়ক বিতর্কের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসে।

ফলে তৃতীয় পরিকল্পনায় পরিলক্ষিত বিনিয়োগের ৫১ শতাংশ পূর্ব পাকিস্তানকে দেয়ার কথা বলা হয় এবং সরকারি ব্যয়ের ৫৩ শতাংশ পূর্ব পাকিস্তানে হবে বলে নির্দিষ্ট হয়। বেসরকারি বিনিয়োগে সমতা বজায় রাখার কথা বলা হয়।

তৃতীয় পরিকল্পনার অর্থনীতিবিদ প্যানেলের আলোচনায় আঞ্চলিক বৈষম্য, সরকারি খাতের ভূমিকা ও ভূমি সংস্কার বিষয়ে বিতর্ক এমন তীব্র হয়ে ওঠে যে, প্যানেলের চেয়ারম্যান কমিশনের মুখ্য অর্থনীতিবিদ এম.এল. কোরেশী দুই বা তিনটি বৈঠকের পরই প্যানেলের আলোচনা হঠাৎ এবং অসময়ে বন্ধ করে দেন। অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া গড়ে ওঠে।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পার্লামেন্টের এমন কোন অধিবেশনই চলেনি যেখানে বৈষম্য বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল না। ১৯৬২ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসন প্রত্যাহারের পর ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতারা বাঙালি অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বৈষম্যের পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেন।

১৯৬৬ সালের গ্রীষ্মে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচী মূলত: আঞ্চলিক অসমতাকে ভিত্তি করেই রচিত হয়। ছয়দফার তিনটি দফা অর্থ, রাজস্ব ও বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা অঞ্চলগুলোর হাতে অর্পণের দাবি জানানো হয়।

এতে আঞ্চলিক বৈষম্য রোধ ও সম্পদ পাচার রহিত করার লক্ষে পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে পৃথক মুদ্রা চালুর প্রস্তাব করা হয়। বস্তুতপক্ষে, ছয়দফাভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিবাদী আন্দোলন ক্রমশ গণআন্দোলনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনকল্পে ইসলামাবাদে এক গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করেন।

উক্ত গোল টেবিল বৈঠকে সদ্যকারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা তথা পূর্ব পাকিস্তানের জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছয়দফাভিত্তিক দাবি পুনরায় ব্যক্ত করেন। কিন্তু আইয়ুব খানের মতো স্বৈরশাসকের পক্ষে উক্ত দাবিগুলো মেনে নেওয়া আদৌ সম্ভব ছিল না। তাই ‘৬৯ সালের গণআন্দোলনে এবং ‘৭০ সালের নির্বাচনে ছয় দফাই ছিল মূল ইস্যু।

নির্বাচন পূর্বমুহূর্তে “সোনার বাংলা শ্মশান কেন’ শিরোনামে আওয়ামী লীগ কর্তৃক তৈরি পোস্টারটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এতে পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের বৈষম্যের খতিয়ান তুলে ধরা হলে পোস্টারটি আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়।

এবং ‘৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক লাভবান হয়। পরবর্তী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পেছনে প্রেরণা যুগিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্বাঞ্চলকে শোষণের বিষয়টি। অবশেষে বাঙালি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তি লাভ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

সারসংক্ষেপ

পাকিস্তান রাষ্ট্রের সূচনা থেকেই শাসকবর্গ পরিকল্পিত উপায়েই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য নীতি অনুসরণ করেছিল। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তান আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত হয় আর পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহকারী ও উৎপন্ন পণ্যের বাজারে পরিণত হয়।

সরকারের এরূপ বৈষম্য নীতির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ দেখা দেয় বাঙালি অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। ১৯৬০-এর দশকে বৈষম্যের ও শোষণের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয় এবং এটি পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান হাতিয়ার ও প্রেরণার উৎস হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

১। রেহমান সোবহান, বাংলাদেশের অভ্যুদয় একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ঢাকা, ভোরের কাগজ প্রকাশনী, ১৯৯৪ ।

২। আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ : জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব, ঢাকা, সাহিত্য প্রকাশ, ২০০০।

৩। মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, ঢাকা, ইমপ্রেস পাবলিশার্স, ১৯৮৩।

 

পূর্ববাংলায় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ: অর্থনৈতিক বৈষম্য

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন :

১। পাকিস্তান আমলে দু’অঞ্চলের রাজস্ব আয়-ব্যয়ের বৈষম্য সম্পর্কে একটি টীকা লিখুন। ।

২। পাকিস্তান আমলে বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে দু’অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য কি ছিল চিহ্নিত করুন

৩। দু’অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বৈষম্যের বিষয় বর্ণনা দিন।

৪। পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে ৬ দফায় কি কি দাবি করা হয় আলোচনা করুন ।

রচনামূলক প্রশ্ন:

১। পাকিস্তান সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সম্পদ বিভাজন নীতি আলোচনা করুন।

২। পূর্ববঙ্গের ওপর পাকিস্তান সরকারের শোষণের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করুন। এই শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করুন ।

Leave a Comment