আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

আজকে আমদের আলোচনার বিষয় আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

 

আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

 

আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

পাকিস্তানের ইতিহাসে আইয়ুব খানের পতন ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইয়াহিয়া খানের উত্থান এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আইয়ুব খানকে পাকিস্তানের লৌহমানব শাসক বলা হতো। তিনি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে এক অখন্ড ও অবিভাজ্য রাষ্ট্রের দাবিদার হলেও দুর্নীতির অনুসারী ছিলেন।

আর এ নীতিকে কার্যকর করতে গিয়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ক্ষমতা ও সম্পদ পুঞ্জিভূত করেন এবং পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশকে করেছেন নির্যাতন, শোষণ ও বঞ্চিত। তাঁর এ নীতির বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় গড়ে ওঠে তীব্র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, আর এর সাথে তাঁর অভ্যন্তরীণ ভুল ও দুর্বলতা মিলে শেষপর্যন্ত তাঁর পতন ঘটায় ।

আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের প্রকৃতি ও পতনের কারণ

বৈষম্য নীতি:

আইয়ুব খান অখন্ড পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলেও পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন ও বৈষম্য নীতির প্রবক্তা। পাকিস্তানের রাজধানীসহ সকল প্রশাসনিক হেড অফিস ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। প্রশাসনের উচ্চ পদগুলোর একচেটিয়া অধিকারসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি। সামরিক ক্ষেত্রেও উচ্চপদসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সৈন্য ছিল পশ্চিমা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল খুবই সুস্পষ্ট।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস পশ্চিম পাকিানে হওয়ায় সবকিছু সেখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত হলেও উন্নয়ন ব্যয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ হতো। লাভজনক সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক হতো পশ্চিমারা এবং ব্যবসায়িক নীতিগুলো তাদের অনুকূলেই প্রণীত হতো।

পশ্চিম পাকিস্তানকে বাজার হিসেবে রাখা হয়েছিল। ফলে দ্রব্যমূল্য পশ্চিমের তুলনায় পূর্বে দ্বিগুণ থাকতো। তাছাড়া রাজধানী ও সকল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু পশ্চিম পাকিস্তান হওয়ায় দু’অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানে অনেক তফাৎ ছিল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা বিদ্যমান ছিল। আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেই সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করেন।

১৯৫৯ সালে তিনি মৌলিক গণতন্ত্রের নামে এক প্রহসন গড়ে তোলেন। ১৯৬২ সালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সীমিত রাজনৈতিক অধিকার পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় পূর্ব পাকিস্তানিদের অংশগ্রহণ ছিল না। অবশ্য তাঁর এ সংকোচন নীতি পশ্চিম পাকিস্তানেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিলো।

শিক্ষাক্ষেত্রেও বৈষম্য বিরাজমান ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে যে হারে শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধি পেয়েছিল পূর্বাঞ্চলে সে অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। উপরন্তু এ অঞ্চলের ভাষা ও শিক্ষাকে নস্যাৎ করার জন্য বিভিন্ন হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন জেনারেল আইয়ুব খান।

দমন নীতি:

আইয়ুব খান স্বৈরাচারী ও কঠোর দমননীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদকে তিনি সহ্য করতে পারেন নি। ক্ষমতায় আরোহন করেই তিনি মৌলিক গণতন্ত্র করে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দকে কারাগারে বন্দি করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি মৌলিক গণতন্ত্র চালু করে গ্রাম পর্যায়ে একটি অনুগত শ্রেণী তৈরি করেন এবং এদের দ্বারা দু’বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

তাঁর দমননীতির মূল লক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমান। ফলে তাঁর শাসনামলের পুরোটাই শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখার জন্য তিনি ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তাঁর বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে উঠে তিনি তা কঠোর হস্তে দমন করেছেন।

পূর্ববাংলায় গড়ে ওঠা ১৯৬২ সালের শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ৬৯ সালের গণআন্দোলনকে তিনি কঠোর হস্তে দমন করেছেন। এসব আন্দোলনে সরকারি হিসাবে ১৬৯ জন নিহত হলেও বাস্তবে নিহতের সংখ্যা ছিল বহুগুণ বেশি এবং আহত ও গ্রেফতারের সংখ্যা অগণিত। আইয়ুব খান তাঁর বিরুদ্ধে মত দানকারী সংবাদ পরিবেশককে সহ্য করতে পারেননি।

তাই ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলনের খবর ও সরকারি নির্যাতনের সংবাদ প্রচারের দায়ে ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকার সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরদিন ইত্তেফাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বহু পত্রিকা ও ম্যাগাজিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হয়। আইয়ুব খান পূর্ববাংলায় শিক্ষাকে সংকুচিত করে রাখতে চেয়েছিলেন।

তাই ১৯৬২ সালের শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠলে তিনি কঠোর হস্তে দমন করেন। তিনি বাংলাকে উর্দুতে রূপান্তরিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তিনি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ১লা বৈশাখ এবং রেডিওতে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এভাবে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর তাঁর দমননীতি ছিল ঘৃণ্য ও হীন ষড়যন্ত্রের পরিচায়ক।

পশ্চিম পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা হ্রাস

আইয়ুব খানের ক্ষমতা গ্রহণ ছিল অনেকটা জোরপূর্বক। তিনি মাত্র ২০ দিনের মাথায় ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এরপর রাজনৈতিক দল ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের নামে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেন যা পশ্চিম পাকিস্তানেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে একটি কমিশন গঠন করে ১৯৬২ সালের সংবিধান প্রণয়ন করেছেন।

নিজেকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ১৯৬৫ সালে ভারতের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন এবং অসম্মানজনকভাবে যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হন। আবার যুদ্ধ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে দায়ী করে অপসারণ করেন। তাঁর এসব নীতি পাকিস্তানে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং ভুট্টো তাঁর পতনের পথ সুগম করে দেন।

অপরদিকে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় সামরিক কর্মকর্তাগণ চীন ও ইন্দোনেশিয়ার সাহায্য নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও আইয়ুব খান তাদের মতামতের মূল্যায়ন করেন নি। ফলে সেনাবাহিনীতে তাঁর জনপ্রিয়তা কমে যায়। আইয়ুব খানের আর এক ভুল নীতি ছিল, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং শেষপর্যন্ত নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান।

এটা তাঁর ভাবমূর্তিকে অনেকাংশে ক্ষুন্ন করেছেন। আইয়ুব খানের আরো একটা ভুল ছিল, শাসনামলের শেষ দিকে তিনি সামরিক কর্মকর্তা অপেক্ষা বেসামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সামরিক কর্মকর্তাগণ ক্ষুব্ধ হন। অপরদিকে তিনি রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী হলেও কোন বিরোধী দল তাতে সাড়া দেয়নি।

ফলে তিনি উভয় কূল হারান এবং এতে পাকিস্তানের রাজনীতিতে আইয়ুব খানের পূর্বের ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষুন্ন হয়। এভাবে অভ্যন্তরীণভাবে আইয়ুব খানের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তা ভেঙ্গে পড়ে।

 

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও আইয়ুব খানের পতন

১৯৬৯ সালের শুরুর দিকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। এ সময় আন্দোলনের মূল নেতৃত্বদান করে ছাত্র সমাজ। জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন মিলে “ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠন করে। এ পরিষদ ৬ দফাসহ ১১ দফাভিত্তিক এক দাবিনামা প্রণয়ন করে।

এ দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দান এবং ৬ দফাভিত্তিক পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসনাধিকার প্রদান করেন। ছাত্র সমাজ জানুয়ারি মাসে এসব দাবি নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয়। আন্দোলনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হলে আন্দোলন গণ আন্দোলনে পরিণত হয়।

এর কিছুদিন পরই ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টনমেন্টে কারাগারে আগরতলা মামলার বিচারাধীন আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে গুলী করে হত্যা করা হলে আইয়ুব বিরোধী গণ আন্দোলন এক গণঅভ্যূত্থানে পরিণত হয়। আইয়ুব খান পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দান করেন।

এর মধ্যদিয়ে আইয়ুব খানের পতনের প্রথম ধাপ রচিত হয়। ৬৯ সালের ১০ মার্চ আইয়ুব খান রাওয়ালপিন্ডিতে এক গোল টেবিল বৈঠক আহ্বান করেন। ভাসানী ন্যাপ ও ভুট্টোর পিপলস পার্টি তা প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল তাতে অংশগ্রহণ করে। বৈঠকে আইয়ুব খান মাত্র দুটো দাবি-

(১) ফেডারেল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং

(২) প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন মেনে নিলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তা প্রত্যাখ্যান করেন ।

বৈঠক থেকে ফিরে এসে ২১ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক আন্দোলনের ডাক দেন। একই সময় পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিট ভেঙ্গে ৪টি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠনের দাবি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং উক্ত দাবির সমর্থনে ব্যাপক ছাত্র-শ্রমিক গণআন্দোলন শুরু হয়। ফলে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন আর কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ না থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যাপকতা লাভ করে।

এমতাবস্থায় আইয়ুবের পক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আইয়ুব খান উপায়ান্তর না দেখে ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা অর্পন করে। এভাবে প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়েই আইয়ুব খানের পতন হয়।

ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা গ্রহণ ও প্রতিশ্রুতি

ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আরোহণ করেন একজন সামরিক জান্তা হিসেবে। তিনি আইয়ুব খানের নিকট থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ সামরিক আইন জারি করেন। কোন কোন মহলের মতে, ইয়াহিয়া খান আইয়ুব খানকে ক্ষমতা ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন।

যাইহোক ক্ষমতায় আরোহণের ৮ মাস পর ২৮ নভেম্বর ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশে এক জরুরি ঘোষণা দেন যে, যত শীঘ্রই সম্ভব তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ হবে দেশকে একটি ব্যবহারযোগ্য শাসনতন্ত্র দেয়া এবং যেসব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা গণমনকে আলোড়িত করেছে তার একটা সমাধান করা।

একই দিন তিনি ১৯৭০ সালের ৫ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ঘোষণা করেন। এর সাথে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিট ভেঙ্গে চারটি প্রদেশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালের ২৮ মার্চ ইয়াহিয়া খান নির্বাচনের আইনগত কাঠামো ঘোষণা করেন।

ইয়াহিয়া খান ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না। ফলে ইতিহাসে ঘটে যায় অন্যরকম ঘটনা। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি যুদ্ধের মাধ্যমে রক্তের বিনিময়ে তাদের সে অধিকার আদায় করেছিল।

সারসংক্ষেপ

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আইয়ুব খানের এক দশকের শাসনকাল বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এই লৌহ মানবের পরিণতি হয়েছিল খুব অপমানজনক। তাঁর এরূপ পরিণতির জন্য প্রধানত দায়ী ছিল পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে বৈষম্য ও দমন নীতি এবং পশ্চিম পাকিস্তানে অনুসৃত ভুল নীতি। তাছাড়া ব্যক্তিগত অহমিকাবোধও তাঁর ধ্বংস ডেকে এনেছিল ।

নতুন শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণের ফলে জনমনে আশার সঞ্চার হলেও যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন শেষপর্যন্ত সেগুলো রক্ষা করেন। আর তাই একইভাবে তিনিও বাঙালি জাতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হন।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি

১। সালাহউদ্দিন আহমদ ও অন্যান্য সম্পাদিত, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, ১৯৪৭-১৯৭১, ঢাকা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৭।

২। জি.ডব্লিউ চৌধুরী, অখন্ড পাকিস্তানের শেষ দিনগুলো, ঢাকা, হক কথা প্রকাশনী, ১৯৯১ ।

 

আইয়ুব খানের পতন ও ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসন জারি

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নঃ

১। আইয়ুব খানের পতনের পেছনে তাঁর বৈষম্যমূলক নীতি কতটুকু ভূমিকা রেখেছিল তা আলোচনা করুন

২। পশ্চিম পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের বর্ণনা দিন ।

৩। ইয়াহিয়া খানের প্রতিশ্রুতি ও এর বাস্তবায়নের একটি তুলনামূলক আলোচনা করুন ।

রচনামূলক প্রশ্ন:

১। আইয়ুব খানের পতনের কারণ চিহ্নিত করুন। কি প্রক্রিয়ায় ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করেন তা বর্ণন করুন ।

Leave a Comment