পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ, দিনেমারদের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন ক্লাসটি এইচএসসি [ HSC ] তথা একাদশ শ্রেণী [ Class 11 ] এবং দ্বাদশ শ্রেণী [ Class 12 ] এর ইতিহাস [ History ] বিষয় এর, ১ম অধ্যায়ের [ Chapter 1 ] পাঠ।
পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ, দিনেমারদের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন
১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পোর্তুগিজ বাণিজ্যপোত এসে উপস্থিত হলে ভারতে ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের সূচনা হয়। ভাস্কো দা গামার নেতৃত্বে পোর্তুগিজরা ভারতে উপস্থিত হয় ৷
ভাস্কো দা গামা :
বাণিজ্যাধিকার হাতছাড়া হবার ভয়ে আরব বণিকেরা ভাস্কো দা গামার বিরোধিতা করে । সেই সঙ্গে পোর্তুগিজদের খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের প্রচেষ্টাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করার জন্য উত্তর ভারতের মুসলিম রাজ্যগুলিও পোর্তুগিজদের বিরোধিতা করতে থাকে। যাই হোক, ভাস্কো দা গামাকালিকটের হিন্দু রাজা জামোরিন এর সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হন ।
কিন্তু পোর্তুগিজ নাবিকদের নিম্নমানের দ্রব্য সামগ্রী ভারতে আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয় । পরন্তু পোর্তুগিজদের জলদস্যুতা ভারতীয় জনমানসে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে । তাই ভাস্কো দা গামাপ্রথম আগমনে সম্পূর্ণ সাফল্য লাভ করতে ব্যর্থ হন। অবশ্য তাঁর আংশিক সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে পোর্তুগিজরা দলে দলে ভারতে আসতে থাকে।
পেড্রো কাব্রাল :
১৫০০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় পোর্তুগিজ পেড্রো কাব্রাল ত্রিশটি জাহাজ ও বারো শত সৈন্য নিয়ে কালিকটে উপস্থিত হন । তিনি জামোরিন এর অনুমত্যানুসারে কালিকটে একটি বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অধিকার পান। কিন্তু শীঘ্রই ‘ জামোরিন ‘ – এর সাথে ক্যাব্রালের সম্পর্ক নষ্ট হয়। জামোরিন ও আরব বণিকেরা মিলিত ভাবে ক্যাব্রালকে আক্রমণ করলে তিনি কোচিনে চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হন। অবশ্য পোর্তুগিজরা বুঝতে পারে যে, এদেশের রাজাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাকে কাজে লাগাতে পারলে নিজেদের স্বার্থপূরণ সহজতর হবে।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো দা গামাদ্বিতীয়বারের জন্য ‘ কালিকট ‘ বন্দরে এসে উপস্থিত হন । এবারে ভাস্কো দা গামানৃশংস অত্যাচার দ্বারা জামোরিনকে বশীভূত করতে চাইলেন। বহু হিন্দু ও মুসলমানকে হত্যা করে তিনি কোচিনে চলে আসেন এবং সেখানে একটি বাণিজ্যকুঠি নির্মাণ করেন। এই সময় থেকে পোর্তুগিজরা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাজে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে।
আলমিদা :
অতঃপর পোর্তুগাল সরকার তাঁদের ভারত নীতির পরিবর্তন করেন । এদেশে অভিযান পাঠানোর পরিবর্তে একজন করে রাজ-প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে তিন বছরের মেয়াদে রাজ প্রতিনিধি হিসেবে আসেন আলমিদা (Almeida )। তিনি ভারতে পোর্তুগিজ কুঠিগুলির নিরাপত্তার জন্য কান্নানোর ও কোচিনে কয়েকটি দুর্গ নির্মাণ করেন । ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপনের তিনি পক্ষপাতী ছিলেন না ।
আলবুকার্ক :
পরবর্তী প্রতিনিধি আলবুকার্ক (১৫০৯ খ্রিঃ ) স্থায়ী সাম্রাজ্য গঠনের লক্ষ্য নিয়েই ভারতে আসেন। সামরিক শক্তি দ্বারা গোয়া ( ১৫১০ খ্রিঃ), মালাক্কা ( ১৫১১ খ্রিঃ ) এবং অরমুজ ( ১৫১৫ খ্রিঃ ) দখল করে তিনি ওইসব স্থানে পোর্তুগিজ শাসনের সূচনা করেন। কালক্রমে দিউ থেকে বাংলার হুগলি পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন – গোয়া, দমন, দিউ, সুরাট, সলসেট, বেসিন, কোচিন, কালিকট, কুইলন, মসুলিপত্তনম প্রভৃতি পোর্তুগিজদের দখলিভূত হয়। ভারতে পোর্তুগিজ ক্ষমতা স্থাপনের প্রধান নায়ক ছিলেন আলবুকার্ক ।
তিনিই এদেশে পোর্তুগিজদের ক্ষমতা সুদৃঢ় করে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয় । এ জন্য তিনি ত্রিমুখী নীতি গ্রহণ করেছিলেন। যথা— (১) নতুন দুর্গ নির্মাণ করা, (২) স্থানীয় রাজাদের ভীতি প্রদর্শন করে পোর্তুগিজদের বশীভূত করা এবং ( ৩ ) স্থানীয় নারীদের সাথে পোর্তুগিজদের বিবাহে উৎসাহিত করে সমর্থক বৃদ্ধি করা। প্রশাসক হিসেবে তিনি ছিলেন বিচক্ষণ ।
