আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলার নারী সুচিপত্র ।
রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলার নারী সুচিপত্র
প্রস্তাবিত গবেষণাপত্রটি বিশ শতকের প্রথম থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তি পর্যন্ত সময়ে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অবিভক্ত বাংলায় নারীর রাজনৈতিক উন্মেষ ও নারীমুক্তি আন্দোলনে বাঙালি নারীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তাৎপর্য বিশ্লেষণমূলক । বর্তমান গবেষণাপত্রের মূল যুক্তি হচ্ছে উনিশ শতকের সংস্কারআন্দোলন নয় বরং উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত হবার মধ্য দিয়েই বিশ শতকে বাঙালি নারীমুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। উনিশ শতকের সংস্কার আন্দোলনটি শতকের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষের ফলে স্তিমিত হলে নারী জাগরণের পথটি বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ শতকে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে আন্দোলনের প্রয়োজনে বাঙালি নারীকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ১৯৪৭-এ স্বাধীনতা অর্জনের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বাঙালি নারীরা উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয় এবং এই রাজনৈতিক-আন্দোলনে পর্যায়ক্রমে ব্যাপকহারে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যদিয়েই ধীরে ধীরে নারীমুক্তির সূত্রপাত হয়।

প্রথম অধ্যায়
- রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীর ভূমিকা
- রাজনৈতিক আন্দোলনে নারী : তত্ত্বকাঠামো
- উদারনৈতিক নারীবাদ
- মার্ক্সীয় নারীবাদ
- সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ
- বৈপ্লবিক নারীবাদ
- পরিবেশ নারীবাদ
- সাংস্কৃতিক নারীবাদ
- উত্তরাধুনিক নারীবাদ
দ্বিতীয় অধ্যায়
- পটভূমি : উনিশ শতক : বাংলায় সংস্কার আন্দোলন ও নারীর নবজীবনের যাত্রা শুরু
তৃতীয় অধ্যায় :
- স্বদেশী যুগ : ১৯০৫-১৯১৯ দেশাত্মবোধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী – পর্ব ১
- স্বদেশী যুগ : ১৯০৫-১৯১৯ দেশাত্মবোধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী – পর্ব ২
চতুর্থ অধ্যায়:
- সক্রিয় রাজনীতিতে নারী : ১৯২০-১৯২৯
পঞ্চম অধ্যায় :
- সনাতন ভূমিকার বাইরে নারী : ১৯৩০-৩৯
ষষ্ঠ অধ্যায়
- উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যায় : প্রান্তিক ও শ্রমজীবি নারীর উন্মেষ : ১৯৪০-৪৮

সপ্তম অধ্যায় : উপসংহার
বিশ শতকে বাঙালি নারী প্রকৃত অর্থে পিতৃতান্ত্রিক অবরোধ থেকে মুক্ত হবার যাত্রা শুরু করে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এই যাত্রার সূচনা ঘটে জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ পুরুষদের দ্বারা বাঙালি নারীর উপনিবেশবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত হবার মধ্যদিয়ে। প্রত্যেক রাজনৈতিক আন্দোলনেরই একটি সামাজিক তাৎপর্যের নিক থাকে এবং কোনো বিশেষ মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই সেই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
ভারতবর্ষে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে দেখা যায় মূলত উনিশ শতকের শেষে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ছিল এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু এবং স্বদেশী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে বিস্তার লাভ করে পরবর্তী সাড়ে চার দশক ধরে এই জাতীয়তাবাদী চেতনাই সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করে।
বৃটিশ ভারত তথা অবিভক্ত বাংলায় জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে সক্রিয়ভাবে সামাজিক যে বিষয়টি জড়িত হয় তা হচ্ছে নারীকেন্দ্রিক চিন্তা-চেতনা।
এই নারীকেন্দ্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মধ্যদিয়ে। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ যেমন ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা অর্জন করে তেমন নারীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসে এবং বাঙালি নারী পুরুষতন্ত্রের অচলায়তন ভাঙ্গতে সচেষ্ট হয়।
অবিভক্ত বাংলায় নারীর রাজনৈতিকায়ন ও নারীমুক্তি আন্দোলনকে বুঝবার পূর্বে বিভিন্ন নারীবাদী তত্ত্ব ও নারীমুক্তি আন্দোলন সম্পর্কে সাম্যক ধারণা লাভের উদ্দেশে বর্তমান গবেষণাপত্রের প্রথম অধ্যায়ে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এ অধ্যায়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতে দেখা যায় যে, উপনিবেশিক বাংলায় উনিশ শতকের সংস্কার আন্দোলন এবং বিশ শতকের সূচনায় বাংলায় নারীবাদী যে ধ্যানধারণা প্রচলিত ছিল তা অনেকটাই উদারনৈতিক নারীবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বঙ্গ-ভঙ্গ পরবর্তী স্বদেশী আন্দোলনপর্ব থেকে শুরু করে বিশ শতকের বিশ ও তিরিশের দশকে গান্ধীজী প্রবর্তিত অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের সম্পৃক্ত করবার ক্ষেত্রেও এই উদারনৈতিক মতবাদ প্রাধান্যলাভ করে। তিরিশের দশকের শেষ থেকে চল্লিশের দশকে এসে দেখা যায় মার্কসীয় দর্শন বা সমাজতান্ত্রিক আদর্শ বাঙালি নারীদের আকৃষ্ট করে।
বাংলার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় প্রাচীনকাল থেকে অঠারো শতকের শেষভাগ পর্যন্ত নারীর ভূমিকায় তেমন কোন সামাজিক পরিবর্তন ঘটে নি। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে প্রধানত ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ভদ্রলোক শ্রেণির পুরুষরা তাদের নিজেদের যোগ্য সহধর্মিনী ও পরিবারের যোগ্য মাতা হিসেবে গড়ে তুলবার জন্য নারীদের জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট হন।
কিন্তু এই সমাজসংস্কার প্রচেষ্টা মূল পরিবার কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয় নি, নারীর ভূমিকা পূর্বের মতোনই পরিবারকেন্দ্রিক অর্থাৎ মাতা, কন্যা ভগিনী ও পত্নী হিসেবেই থেকে যায়।
ব্যক্তি হিসেবে নারী সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয় নি। কারণ নারীর ভূমিকা সংক্রান্ত ধারণাটির উৎস ছিল পুরুষের নিজস্ব চাহিদা। চাহিদাটি ছিল নারীকে পুরুষের সামাজিক মর্যাদা উপযোগী সহধর্মীনি হিসেবে গড়ে তোলা; নারীর কোন সামাজিক অবস্থানান্তর নয়। সুতরাং প্রারম্ভিক পর্বে পুরুষের নারী জাগরণী চিন্তা-কর্ম সিংহভাগ ক্ষেত্রে যে এমনভাবে সীমিত ছিল তা লক্ষণীয়। অর্থাৎ তখনও পুরুষতান্ত্রিকতায় কোন মৌলিক পর্বান্তর দৃশ্যমান হয় নি।
তবে যে বিষয়টি অনস্বীকার্য, তা হচ্ছে এই সংস্কার আন্দোলনের অন্যমত সূচক নারীশিক্ষার বিস্তার নারীর মানসজগতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। বাঙালি নারী উপলব্ধি করে যে গৃহের চার দেয়ালের বাইরে একটি বৃহৎ জগৎ বিদ্যমান এবং গৃহকর্ম, সন্তানপালন, ধর্মপালন ব্যতিত আরো বৃহৎ কর্ম সেই জগতে বিদ্যমান।
তবে শিক্ষার সুযোগ যেহেতু শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং মূখ্যত হিন্দু ধর্মাবলম্বী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেহেতু সংস্কার আন্দোলন সার্বিকভাবে নারীর কল্যাণে সার্থক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয় নি। পাশাপাশি উনিশ শতকের শেষপর্যায়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা মূখ্য হয়ে উঠলে শ্রেনি হিসেবে নারীসত্ত্বার বিশেষ বিকাশ পক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়।
নারী হিসেবে চলমান পিতৃতান্ত্রিক সমাজবৈশিষ্ট্য বা লিঙ্গবৈষম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজের শোষণপক্রিয়া উপলব্ধির পরিবর্তে জাতি হিসেবে উপনিবেশিক শাসনের গ্লানি সম্পর্কে বাঙালি নারী সচেতন হয়। ফলে শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে উনিশ শতকের শেষ পর্যায়ে বা বিশ শতকের শুরুতে বাঙালি নারীকে সোচ্চার হতে দেখা যায় না, যেটি সমকালীন পাশ্চাত্যে সামাজিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বতস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গিয়েছিল।
পরিবর্তে বাঙালি নারীকে অবশভাবীভাবে জড়িত হতে হয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে। বর্তমান গবেষণাপত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, উপনিবেশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম পর্যায় অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন। বাঙালি নারীর রাজনৈতিকায়নের প্রথম পর্যায়ের এই আন্দোলনে নারী জড়িত হয় আন্দোলনের প্রয়োজনে।
স্বদেশী আন্দোলনের প্রধান দিক যেহেতু ছিলো বিদেশী পণ্য বয়কট ও দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসার, কাজেই নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেছিলেন যে নারীসমাজের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিত এই আন্দোলন সফল হবে না। এই উপলব্ধি থেকে বাঙালি নারীকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় দীক্ষিত করা হয়।
তবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বাঙালি নারীকে সম্পৃক্ত করবার এই পর্ব ছিল পিতৃতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। নারীকে তার ঐতিহ্যিক ভূমিকায় আবদ্ধ রেখে, ব্রতধারণ, অরন্ধন, রাখীবন্ধনসহ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হয়। ফলে বাঙালি নারী স্বদেশবোধের চেতনায় উজ্জিবিত হলেও নারীমুক্তির ভাবনা তার মধ্যে জাগ্রত হতে পাওে নি।
নারীকে এই পর্যায়ে দেখা যায় পুরুষের প্রেরণাদাত্রী হিসেবে এবং পুরুষদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে সফল করবার মাধ্যম হিসেবে। তবে সামগ্রিকভাবে এই আন্দোলনের ফলে মুষ্টিমেয়সংখ্যক নারীর চিন্তাজগতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়, নিজ সংসারের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে দেশের কল্যাণেও তার ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি আসে এই নারীদের মনে।
ফলে অনেক স্থানে দেখা যায় মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ। যদিও এই সমাবেশ ছিল ঘরোয়া এবং ধর্মীয় আবরণ যুক্ত, তথাপি বাঙালি নারীর জীবনে কোন নির্দিষ্ট লক্ষকে সামনে রেখে একত্রিত হবার সূচনা স্বল্পমাত্রায় হলেও এসময়েই দৃশ্যমান হয়।
বিশের দশকে অবিভক্ত বাংলা তথা সমগ্র ভারতে নারীর সামাজিক রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন মহাত্মা গান্ধী। চতুর্থ অধ্যায়ে এপর্যায়ের আলোচনায় দেখা যায়, চিরাচরিত সাংস্কৃতিক কাঠামোতে খাপ খেয়ে গিয়েছিল বাঙালি নারীর রাজনৈতিকায়ন, সনাতন ভূমিকাকে অস্বীকার করতে দেখা যায় না এ পর্বের নারীকে।
স্বদেশবোধের চেতনাই এপর্যায়েও নারীর দর্শনে সর্বাগ্রে অবস্থান করছিল। তবে পূর্বের দশক থেকে যে পরিবর্তনটি এসময়ে আসে তা হচ্ছে রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে একধরনের সামাজিক সচেতনতাও নারীর মধ্যে কাজ করতে থাকে।
এই পর্যায়েই নারী তার নির্ধারিত গৃহকোণ থেকে বাইরে বের হয়ে আসে রাজনৈতিক প্রয়োজনে, ক্রমান্বয়ে অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে তারা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে তলে। নারীদের নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠনও এপর্যায়ে পড়ে উঠতে থাকে।
দশকের শেষ পর্যায়ে বাঙালি সমাজে নারীর প্রকাশ্য চলাচল স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে ওঠে বিশেষত ছাত্রীসমাজ, যারা রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তারা সমাজের চিরন্তন ভাবনা জগতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। তবে এক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ নারীসমাজের এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না হওয়া এবং মুসলিম নারীসমাজের পশ্চাদপদতাকে চিহ্নিত করা যায়।
বিশের দশকে অসহযোগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবার মধ্য দিয়ে বাঙালি নারী কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নিজ অবস্থানকে দৃঢ় করে নি, পাশাপাশি সমাজের নারী সম্পর্কিত ভাবনাতেও পরিবর্তন আনে। পঞ্চম অধ্যায়ের আলোচনায় দেখা যায়, এরই ধারাবাহিকতায় তিরিশের দশকে বাঙালি নারী সচেষ্ট হয় তার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ও সংস্কার ছিন্ন করে প্রথাসিদ্ধ ভূমিকার বাইরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে।
মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালি নারীদের একটি বড় অংশ এ সময়ে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ব্যাপকসংখ্যক নারীর করাবরণের মধ্যদিয়ে নির্ধারিত সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার বাইরে বের হয়ে আসে বাংলার নারীসমাজ।
কারাগারে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য সংগঠিত হওয়া, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার মধ্যদিয়ে বাঙালি নারী নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে শেখে। বিপ্লবী দলের অন্তর্ভুক্ত নারীরাও এসময়ে পিতৃতান্ত্রিক সমাজমানসকে অস্বীকার করে নিজেদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত করে।
ষষ্ঠ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় চল্লিশের দশকে প্রান্তিক ও শ্রমজীবি নারীর উন্মেষ। চল্লিশের দশকে সমাজতান্ত্রিক দলের মূল দাবি স্বাধীনতা ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি সকলের জন্য উত্থাপিত হলেও এই দলের কার্যক্রমে নারীর বিশেষ দাবিদাওয়া, অভাব অভিযোগের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, যে অভাব- অভিযোগগুলোর অধিকাংশই ছিল শ্রমজীবি নারীসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
