আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সাংস্কৃতিক নারীবাদ – যা রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলার-নারী |
সাংস্কৃতিক নারীবাদ
পিতৃতান্ত্রিক মতবাদে নারী-পুরুষের মধ্যে ভিন্নতার যুক্তিতে নারীকে পুরুষের তুলনায় দুর্বল করে দেখানো হয় বা নারীর বৈশিষ্ট্যকে নেতিবাচক হিসেবে দেখানো হয়। এর বিপরীতে সাংস্কৃতিক নারীবাদীরা নারীর বৈশিষ্ট্যকে ইতিবাচক অর্থে ব্যাখ্যা করে। তাদের মতে নারীর বৈশিষ্ট্যসমূহ, ধৈর্য, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সেবার মত গুণাবলী সমাজে অধিক প্রয়োজনীয়।
মার্গারেট ফুলারের মতে, যেহেতু নারীর প্রকৃতি অহিংস এবং পুরুষ প্রকৃতি আক্রমণাত্বক তাই সমাজে শাস্তি ও ভালবাসার পরিমণ্ডল গড়ে তোলার জন্য নারীর গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, নারীর গুণাবলী তার মধ্যে সামগ্রিকতার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে যা তার জীবনের একমুখীনতাকে নষ্ট হতে দেয় না।
সাংস্কৃতিক নারীবাদীদের মতে, যেহেতু জনপরিমণ্ডলের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরুষের প্রাধান্য তাই নারী- বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মাতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তিত করতে হবে। তাঁরা বলেন মাতৃন্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যখন সমাজে প্রভাববিস্তারকারী উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে তখনই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অপসারিত হবে।
সাংস্কৃতিক নারীবাদকে আরো সমৃদ্ধ করে গড়ে ওঠে Gynocentric (নারী শরীরের বৈশিষ্ট্যভিত্তিক) নারীবাদ। এই ধারার তাত্ত্বিকেরা সামগ্রিকভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তাঁরা নারীর প্রজনন, যৌনতা, মাতৃত্বের মত বিষয়গুলিকে ইতিবাচক মূল্যবোধের উৎস হিসেবে বিশ্লেষণ করেন।
তাত্ত্বিক সারা রাডিক বলেন, সন্তান লালনপালনের দায়িত্ব বহন করবার জন্য নারীকে পৃথক শ্রেণিতে বিভক্ত করা উচিত নয়, বরং এই ভূমিকার মধ্যদিয়ে নারীর অন্তর্গত সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, যা আগ্রাসন, হিংস্রতা ও যুদ্ধবাদের বিরোধী।

তাত্ত্বিক ক্যারল গিলিগান নারীর আবেগ, সংবেদনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলীকে পুরুষের চাইতে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখেছেন এবং এর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি পুরুষের যুক্তিবাদের তুলনায় নারীর আবেগ ও অনুভূতিকে উচ্চমর্যাদা দিয়েছেন। সাংস্কৃতিক নারীবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামগ্রিকভাবে সমাজের গভীর ও ব্যাপক বিশ্লেষণ করা এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরা।
