পঞ্চম অধ্যায়: তাঁত শিল্প সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা,
পঞ্চম অধ্যায়: তাঁত শিল্প সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সূচিপত্র

- তাঁত শিল্প সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা
- সামাজিক অবস্থা
- তাঁতী বা তন্তুবায় (হিন্দু)
- যোগী সম্প্রদায়
- যোগী তাঁতীদের ধর্মীয় আচার আচরণ
- জামদানি উৎপাদনকারী তাঁতী
- জোলা তাঁতী
- চাষা তাঁতীদের সাথে জোলা তাঁতীদের বৈসাদৃশ্য
- একই অঞ্চলে তাঁতীদের মধ্যে সামাজিক বিভাজন
- বেনারসি উৎপাদনকারী তাঁতী
- ভিন্ন সম্প্রদায়ের তাঁতী
- কারান সম্প্রদায় তাঁতী
- তাঁতীদের স্বভাবসুলভ জীবনধারা
- বিভিন্ন অধিকার আদায়ে আন্দোলন, বিদ্রোহে তাঁতী সমাজের ভূমিকা
- তাঁতীদের সাংগঠনিক অবস্থা
- শিক্ষা, পেশাগত অবস্থান ও সামাজিকতা
- জামদানী অধ্যুষিত এলাকার তাঁত সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সুবিধা
- সাধারণ তাঁতী থেকে যারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন
- তাঁতীদের অর্থনৈতিক অবস্থা
- তাঁত শিল্পে পুঁজির প্রভাব
- উপনিবেশিক শাসকের ব্যবসায়িক স্বার্থ: তাঁত শিল্পীদের শোচনীয় পরিণতি ও পেশা ত্যাগ
- তাঁতীদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ আইন প্রবর্তন
- তাঁতীদের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধকরণ
- তাঁতীদের আর্থিক সংকট
- তাঁতীদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে তৎকালীন বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের ব্যর্থ উদ্যোগ
- জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁতশিল্প
- প্রতিকূল অবস্থায় তাঁতীদের বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা
- বাংলার অর্থনীতিতে ইউরোপীয় বস্ত্রশিল্পের বিকাশের নেতিবাচক প্রভাব
- বাংলার তৈরী বস্ত্রের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ
- তাঁতশিল্প ধ্বস, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকট
- আর্থিক বিপর্যায়ের মুখে সাময়িকভাবে পেশা পরিবর্তন
- তাঁতীদের দেশান্তর
- বিসিক জামদানী পল্লীতে অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা
- সাধারণ তাঁত কারিগর থেকে যারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি লাভ করেছেন
- জামদানি তাঁতীদের বর্তমান মজুরী
- বাংলাদেশের তাঁতশিল্পে অর্থ যোগানের উৎস
- শুমারীতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সুপারিশসমূহ
- অর্থনৈতিক কারণে পেশা পরিবর্তন
উপসংহার
বাংলাদেশের তাঁতশিল্পে জড়িত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রাচীনকাল থেকেই চর্যাপদ, বৃহদ্ধর্ম পুরাণ এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও তাঁত ব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁতশিল্পে জড়িত জনগোষ্ঠী একই সম্প্রদায়ের হলেও তাদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন প্রবল। যেমন, হিন্দু তাঁতীদের মধ্যে শ্রেণী বিভাজন যুগী, বসাক, নাথ, ধামরাইয়া, চৌহাটিয়া ইত্যাদি।
তারা প্রত্যেকেই কাপড় উৎপাদন করলেও কাপড় বুননের ধরন, কাপড়ে ব্যবহৃত মাড় প্রকরণ, ধর্মীয় আচরণ, অভ্যাস, সামাজিক আচার রীতিনীতি ইত্যাদিতে ভিন্নতা রয়েছে যা আলোচনায় উঠে এসেছে যা উৎপাদনের দিক থেকে কাপড়ের শ্রেণী বিন্যাস ও বুনন প্রক্রিয়া ব্যবসার স্থান, মোকাম ইত্যাদির ভিন্নতার উপর তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ভর করে।
পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের যারা প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত বৃহত্তর ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এই পেশায় জড়িত তাদের মধ্যেও রয়েছে শ্রেণী বিভাজন। যেমন: যারা জামদানী বুনন করে তাদের বলা হয় কারিগর। মোটা কাপড় যারা তৈরী করে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া অঞ্চলে তাদের বলা হয় জোলা। জোলাদের মুসলমান তাঁতী সম্প্রদায়ে তুচ্ছার্থে মূল্যায়ন করা হয়। কোন এলাকায় চাষা-জোলা দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়। তাঁতের ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অনেক ভাষা পরিবার তাঁতশিল্পে যখন জড়িত হয় তাদেরকে পেশাদার তাঁতীরা ভিন্ন চোখে দেখে।
এই অধ্যায়ে কোম্পানি আমলে তাঁতীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে কোম্পানি কর্তৃক তাঁতীদের উপর চাপিয়ে দেয়া অযাচিত নিয়মকানুন, তাদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র ফুঠে উঠেছে। মসলিন ও মিহি বস্ত্র তৈরীকারক তাঁত শিল্পীরা কিভাবে তাঁত পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশা গ্রহণ করেছেন তা আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতশিল্প আলোচনা করতে গিয়ে আদিবাসী তাঁতশিল্পে নারীদের ভূমিকা ও প্রভাব সম্পর্কে জানা যায়।
বাংলাদেশে বর্তমানে জামদানী কারিগরদের অবস্থা, জামদানী পল্লীকে ঘিরে সরকারের উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা থেকে জানা যায়। বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে তাঁতশিল্পে জড়িত অনেক প্রান্তিক তাঁতী পাওয়ার লুম প্রতিষ্ঠা করে কীভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাব প্রতিপত্তি অর্জন করেছেন তা আলোচনায় এসেছে। এরকম বেশ কয়েকজনের পরিচয় এই অধ্যায়ে উঠে এসেছে।

তাঁত ব্যবসায় জড়িত যেমন সুতা ব্যবসায়ী, রং ব্যবসায়ী, পাওয়ারলুম, টেক্সটাইল মালিকগণের কথাও এখানে এসেছে। তাঁতীদের বিভিন্ন সময়ে দাবি দাওয়াভিত্তিক আন্দোলন, তাদের উদ্যম ও কর্মতৎপরতা এই অধ্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁত শিল্প সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক দিক, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সর্বোপরি এই অধ্যায়ে তাঁতশিল্প সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার আর্থ-সামাজিক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
