ভারতে প্রত্যাবর্তন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ভারতে প্রত্যাবর্তন। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

ভারতে প্রত্যাবর্তন

 

ভারতে প্রত্যাবর্তন

 

ভারতে প্রত্যাবর্তন

বার্মা (মায়ানমার) থেকে আমাদেরকে সিঙ্গাপুর আক্রমণের জন্য পাঠানো হয় । কিন্তু এ আক্রমণ শুরু হবার আগে জাপানিরা আত্মসমর্পণ করে। ওখান থেকে আমাদের ইন্দোনেশিয়া পাঠানো হয়। প্রায় ৩ মাস ওখানে অবস্থান করি আমরা, তারপর ভারতে ফিরে যাই।

আমরা জাভা ত্যাগ করি ১৯৪৬ সালের ৩০শে মে। জাকার্তায় জাহাজে চড়ে যাত্রা করি, নামি মাদ্রাজে। ৫ম ভারতীয় ডিভিশন ছিল রাঁচিতে। অধিকাংশ পদে রদবদল করা হয়। আমাদের নতুন কমান্ডিং অফিসার ছিলেন একজন বৃদ্ধ ইংরেজ, নাম বার্টন।

ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন দক্ষিণ ভারতের ব্রিগেডিয়ার থোরাট। ডিভিশনাল কমান্ডার ছিলেন জেনারেল রাসেল, তিনি পরিচিত ছিলেন। ‘রাসেল পাশা’ নামে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল র‍্যাংকের ছিলেন ইস্টার্ন কমান্ড কমান্ডার। অবিলম্বে আমি ট্যাকটিক্যাল কোর্স করার জন্য দেরাদুনের কাছে ক্লিমেন্ট টাউনে যাই। এ কোর্সে ঊর্ধ্বতন ব্রিটিশ ও ভারতীয় অফিসাররা যোগ দেন।

আমাদের দুজন কিংস কমিশন্ড অফিসার ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আফজাল জানজুয়া এবং মেজর আফজাল শেখ, যিনি পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হয়েছিলেন। এ কোর্সে অনেক ভারতীয় কমিশন প্রাপ্ত অফিসারও অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমি এভারেস্ট গ্রেডের চেয়ে ভালো করি এবং আমাকে ইন্সট্রাক্টর হিসেবে ক্লিমেন্ট টাউন ট্যাকটিক্যাল স্কুলে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

দেশ বিভাগের সময় আমি ক্লিমেন্ট টাউনে ইন্সট্রাকটর ছিলাম। যেসব ছাত্র এখানে কোর্স করছিলেন তাদের অনেকেই ছিলেন মুসলমান। সেখানে কর্মরত অনেক কেরানিও ছিলেন মুসলমান। কায়েদ-ই-আজম মোহম্মদ আলী জিন্নাহর প্রচেষ্টায় অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে রওনা হবার জন্য আমরা আমাদের জিনিসপত্র গোছাতে থাকি ।

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত বাস্তবতাকে মেনে নেয়। সেখানে গৃহীত ৩০৭ (১৯৭১) নম্বর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, উপমহাদেশে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

প্রস্তাবে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অঞ্চলে তাদের সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে বলা হয় এবং ভারত ও পাকিস্তানে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের তত্ত্বাবধানে কার্যকর থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে বলা হয়।

 

ভারতে প্রত্যাবর্তন

 

প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের অপরিবর্তনীয় ফলকে পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া তখন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল। ৬ ডিসেম্বর ভুটান সদ্যোজাত রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারতের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।

Leave a Comment