গোপনীয় সংযুক্ত “সি”

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ গোপনীয় সংযুক্ত “সি”। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

গোপনীয় সংযুক্ত “সি”

 

গোপনীয় সংযুক্ত “সি”

গোপনীয় সংযুক্ত ‘সি’

‘পিএ-৪৭৭’-এর প্রতি সম্মানের নিদর্শন স্বরূপ ‘এসকে’ সম্মাননা ব্রিগেডিয়ার আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি, এইচ জে, এম কে, এমসি করাচি, হায়দরাবাদ, মিরপুর খাস ও বাহওয়ালপুরের সিভিল ডিভিশনগুলোর উঠতি ফসল ও ফলবাগান পঙ্গপালের উপদ্রবে ধ্বংস হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

যদি একজন ব্যক্তিকে এসব রক্ষা কৃতিত্বের জন্য বাছাই করতে হয়, তাহলে তিনি হলেন ব্রিগেডিয়ার আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি, এমসি, কমান্ডার ৫১ ব্রিগেড। তাকে খুব সংক্ষিপ্ত নোটিশে পঙ্গপাল দমনের অভিযানের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার সম্পদের পরিমাণ ছিল সীমিত এবং এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন ধরনের বেসামরিক সংস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। পঙ্গপাল নির্মূলে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধনে সফল ব্রিগেডিয়ার নিয়াজি, এতে তার বিরাট দক্ষতা, কৌশল, সহিষ্ণুতা ও যোগ্যতার পরিচয় ফুটে ওঠে।

প্রথম দিকে করাচি ও হায়দ্রাবাদের সিভিল ডিভিশনগুলোতে এ অভিযান সীমাবদ্ধ ছিল। পরে এ অভিযান বিস্তৃত হয় খায়েরপুর ও বাহাওয়ালপুরে। এতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে তার সম্পদের ওপর। কিন্তু বিশাল মনোবল ও অটল বিশ্বাসে বলীয়ান হওয়ায় তিনি এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠেন। এ কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করেন তার অধীনস্থ সৈন্য ও সম্পদ।

 

পুরো অভিযানে তার আচরণ ও কাজ সবাইকে বিশেষভাবে বেসামরিক প্রশাসনকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং এতে সেনাবাহিনীর সম্মান বেড়েছে। এক মাসের বেশি দিনে প্রায় ২০ ঘন্টা পরিশ্রম করা সত্ত্বেও তার মুখ প্রফুল্ল ও সতেজ ছিল।

৫১ ব্রিগেড থেকে আমাকে কমান্ড্যান্ট হিসেবে স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস-এ নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি সেখানে ১৬ই নভেম্বর ১৯৬৩ থেকে ১২ই মে ১৯৬৫ পর্যন্ত কর্মরত ছিলাম। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতাম এবং বিশ্রামের জন্য সময় পেতাম খুব কম।

সৈন্যবিহীন পুরান ট্যাকটিক্যাল মহড়াগুলো আবার লেখা হয় এবং নতুন মহড়া প্রবর্তন করা হয়। আমি যুদ্ধ পরিচালনা সংক্রান্ত একটি নমুনা মহড়া চালু করি, যেটা খুব প্রশংসিত হয় এবং সেনাবাহিনীর কিছু ধরন এ মহড়া প্রবর্তন করে। এ ছাড়া আমি সেনাবাহিনীকে রোটেটিং রাইফেল রেঞ্জ সিস্টেমও উপহার দিই।

 

গোপনীয় সংযুক্ত “সি”

 

এ ব্যবস্থায় সময় ও জনশক্তি বেঁচে যায়। আমি ট্যাংক বিধ্বংসী কামান ও মাঝারি মেশিনগানের জন্য নতুন ট্রেঞ্চ খনন করার কৌশল উদ্ভাবন করি। সেনাবাহিনীতে, বিশেষ করে ৮ ও ১০ ডিভিশন প্রতিরক্ষা এলাকায় এখনো আমার উদ্ভাবিত ট্রেঞ্চ কার্যকর রয়েছে।

Leave a Comment