আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ শিয়ালকোট সেক্টর। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
শিয়ালকোট সেক্টর

শিয়ালকোট সেক্টর
৯ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় আমি ডিউটির জন্য ৬ষ্ঠ সাঁজোয়া ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল আবরার হুসাইন, এমবিই-এর কাছে রিপোর্ট করি। স্বাভাবিক আলাপ-আলোচনা এবং এক কাপ গরম চা পান করার পর মানচিতে তিনি আমাকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাখ বাবা বড়ো শাহ-এর ওপর জোরে চাপ দিয়ে বলেন যে, দ্রুত এটা দখল করতে হবে।
রাখ বাবা বড়ো শাহ জায়গাটি ছিল গাছপালায় আচ্ছাদিত শত্রু ট্যাংক লুকিয়ে থাকার জন্য আদর্শ জায়গা। ট্যাংকগুলোতে রাতের বেলা পুনরায় জ্বালানি ভরে নেওয়া হয় এবং নতুন করে সরবরাহ করা হয়। এই জায়গাটা থেকে শত্রুকে বিতাড়ন করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জায়গাটা আমাদের অবস্থানের খুব কাছে। যে-কোনো মূল্যে এটা দখল করতে হবে যেন এখান থেকে শত্রুরা পরবর্তী হামলা করতে না পারে।
আমাকে জানানো হয় যে, বেদিয়ানা গ্রাম, যেটা শিয়ালকোট, পামরুর এবং নারোয়াল সংযোগ রাস্তার ওপর অবস্থিত, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ গ্রামের পরের গ্রামগুলো রয়েছে ভারতীয়দের দখলে। তাদের প্রধান অবস্থান ছিল। রাখ-এ।
আমি ভূপালওয়ালায় যাই যেখানে আমার ব্রিগেড রয়েছে এবং অভিযানের জন্য আমি নির্দেশ দিই। পরদিন রাত দুইটার দিকে ব্যাটালিয়নগুলো তাদের নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছে। ব্যাটালিয়ন গুলো পরিদর্শনের পরে আমি ১/১ পাঞ্জাবকে এক ঘণ্টার নোটিশে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করি।
বেদিয়ানা ও আশেপাশের এলাকা অনুসন্ধান করার জন্য আমি এক সেকশন সৈন্য নিয়ে রওনা দিই । যখন আমি গ্রামে ঢুকলাম আমার ড্রাইভার আলম জান মাসুদ ও আমি দেখতে পাই যে, এক ভজন ভারতীয় সৈন্য একটি ওয়ারলেস সেটের চারদিকে। জড়ো হয়ে বসে আছে। তারা মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা শুনছিল।
সেখানে থামলাম আমরা, জিপটা উল্টো দিকে নিয়ে বেদিয়ানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে একটি মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলাম। এসকর্ট সেকশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্দিরে ট্রাক থেকে নেমে গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থান করার জন্য এবং ১/১ পাঞ্জাবের জন্য অপেক্ষা করার জন্য।
যদি শত্রুরা এক প্লাটুন বা তার বেশি সৈন্য নিয়ে এসকর্টের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তারা অবস্থান ত্যাগ করে নুল্লাহর ভেতর দিয়ে এসে মন্দিরে আমার সাথে যোগ দেবে।
এক ঘণ্টা পর ১/১ পাঞ্জাব-এর আলফা কোম্পানি মন্দিরে এসে পৌঁছালো তাদের প্লাটুনকে ইতোমধ্যে গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থান গ্রহণকারী এসকর্ট সেকশনের সাথে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পর গোলাগুলি। শুরু হয়, তারপর পুরোপুরি থেমে যায়।
কোম্পানি কমান্ডার মেজর জামান কায়ানিকে সামনে পাঠানো হয় সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য। সব জেনে তিনি ফিরে আসেন প্রায় ৩০ মিনিট পর।
তিনি জানান যে, ভারতীয়রা এক প্লাটুন সৈন্য নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শত্রুরা দ্রুত পালিয়ে গেছে গ্রামের দিকে। কোম্পানি কমান্ডার বেদিয়ানা গ্রামের চারদিকে তার কোম্পানি মোতায়েন করেছেন।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খনন কাজ শুরু হয়। আমার এসকর্ট তখনো এসে পৌঁছে নি। এর মধ্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমির গুলিস্তান জানজুয়া (পরে ব্রিগেডিয়ার এবং গভর্নর, এনডব্লিউএফপি), সিও গাইডস ক্যাভাবৃষ্টি এবং তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর ফজলে হক (পরে লেফটেন্যানন্ট জেনারেল এবং গভর্নর, এনডব্লিউএফপি) একটি জিপে আরোহণ করেন ।
জানজুয়া আমাকে বলেন যে, ১৯ ল্যান্সার গ্রামের অপর প্রান্তের এলাকা শত্রু মুক্ত করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে এবং তার রেজিমেন্ট, গাইড ক্যাভারলি তাদেরকে সাহায্য করবে যদি ভারতীয় সাঁজোয়া বাহিনী হামলা চালায়। এ সময়ে ট্যাংক ফায়ার শুরু হয় এবং ১৯ ল্যান্সার গাইড ক্যাডারলির কয়েকটা ট্যাংক ধ্বংস করে।

আমি জেনারেল আবরারকে অবহিত করি যে, বেদিয়ানা গ্রাম আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ১৪তম প্যারা ব্রিগেড সৈন্যরা এ গ্রাম থেকে ভারতীয়দের তাড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণে ১৯ ল্যান্সারের আক্রমণ থামাতে হবে। এলাকাটি ১/১ পাঞ্জাবের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে পরবর্তী আক্রমণ স্থগিত রাখা হয়।
