আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ হিলাল ই জুরাত সম্মাননা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
হিলাল ই জুরাত সম্মাননা

হিলাল ই জুরাত সম্মাননা
“ব্রিগেডিয়ার এএকে নিয়াজি ভারতের সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধে একটি ফোর্সের অধিনায়কত্ব করেছেন। সাঁজোয়া বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট শত্রুর তীব্র হামলার মুখে তিনি তার ব্রিগেডের প্রতিরক্ষা সংগঠিত করেছেন এবং অত্যন্ত সংকটময় মুহুর্তে তার এলাকা রক্ষা করেছেন।
তার অসামান্য বীরত্ব ও অদম্য দৃঢ়তার কারণেই শত্রুর উপর্যুপরি হামলাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। আরেক ঘটনায় তিনি এমন এক এলাকার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন, যে এলাকার ওপর শত্রুর চাপ ছিল প্রচণ্ড। তার নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে তিনি শুধু শত্রুর প্রচণ্ড হামলা প্রতিহতই করেন নি, শত্রুকে তার এলাকা ত্যাগেও বাধ্য করেছেন।
তার অসাধারণ সাহসকিতা, বীরত্ব এবং দক্ষতার সাথে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তাকে ‘হিলাল-ই-জুরাত’ পদক দেওয়া হয়েছে।”কুচ-এর রানে ভারতের সাথে যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে টিক্কার ভূমিকা কিছুই ছিল না। তাকে শিয়ালকোটে অবস্থিত ১৫তম ডিভিশনের কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
তার আওতাধীন ব্রিগেডের মধ্যে ২৪তম ব্রিগেডকে জেনারেল আবরারের নেতৃত্বাধীন ৬ষ্ঠ সাজোয়া ডিভিশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১১৫তম ব্রিগেডকে নারোয়াল এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তৃতীয় ব্রিগেডকে মোতায়েন করা হয় শিয়ালকোটের আশপাশে।
ডিভিশনাল সদর দপ্তর স্থাপন করা হয় শিয়ালকোট শহরে ।।সাধারণভাবে জেনারেল টিক্কা সাংবাদিক ও দর্শনার্থীদের ব্রিফ করতেন। লোকজন যেসব উপহার সামগ্রী পাঠাতো তিনি সেগুলো বিতরণ করতেন সৈন্যদের মধ্যে।
৬ষ্ঠ সাঁজোয়া ডিভিশনের আওতাধীন ব্রিগেড যেসব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল তিনি সেসব লড়াই এবং যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি বর্ণনা করতেন। এতে টিকার ভাবমূর্তি সম্পর্কে একটি উঁচু ধারণার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ঘটনা ছিল অন্যরকম।
যুদ্ধের নায়ক জেনারেল আবরার বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যান বিভ্রান্তির তোড়ে।জেনারেল টিক্কাকে বানানো হয় বীর।১৯৬৫ সালের যুদ্ধে তার কোনো কৃতিত্বই নেই। তিনি নায়ক ছিলেন না, ছিলেন খলনায়ক। যুদ্ধ করেছিলেন আবরার।

আর তার কৃতিত্ব নিয়েছেন টিক্কা। ইতিহাস কখনও কখনও অবিচার করে। সে কখনও বামনকে বানায় দানব। আবার মহাবীরকেও সে স্বীকৃতি দিতে একেবারে কুণ্ঠিত হয় ।
