আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ সংগঠন গঠন। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
সংগঠন গঠন

সংগঠন
বিদ্রোহীদেরকে সাধারণত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংক্ষেপে বলা হতো ‘এফএফ’ (ফ্রিডম ফাইটার)। তাদেরকে নিয়মিত ইউনিটে সংগঠিত করা হতো। প্রতিটি ইউনিট ৫০০ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। এসব ইউনিট ‘স্বাধীন বাংলা রেজিমেন্ট’ (এসবিআর) হিসেবে পরিচিত ছিল। বিদ্রোহী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইপিআর এবং কিছু বিদ্রোহী ছাত্রদের ব্যাটালিয়নে পুনর্গঠিত করা হয়।
এটা জানা গেছে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তুরায় বিদ্রোহীদের দুটি ব্রিগেড গঠন করেছিল। প্রতিটি ব্রিগেডে সদস্য ছিল প্রায় ৩ হাজার। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদেরকে সংগঠিত, প্রশিক্ষিত ও অস্ত্রসজ্জিত করে। মহিলাদের সংগঠিত করার কথাও জানা গেছে। কিন্তু তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্যের কথা জানা যায় নি। বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের অপপ্রচারে তাদের কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হয়।
পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ গোটা প্রদেশকে ভাগ করা হয় ৮টি সেক্টরে। এসব সেক্টরের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বা বিএসএফ’র ওপর দেওয়া হয়। পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
প্রতিটি বাঙালি ব্রিগেডের সার্বিক কমান্ডের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ভারতের নিয়মিত সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ারের ওপর। ব্রিগেডিয়ার শাহ বেইগ সিং এবং ব্রিগেডিয়ার জগজিৎ সিং আগরতলা ও তুরায় অবস্থিত বাঙালি ব্রিগেডগুলোর সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন ।
বিদ্রোহীরা ‘তুফান বাহিনী’ ও ‘বিমান বাহিনী’ নামে আরো দুটি বাহিনী গঠন করে। জানা যায় যে, ভারতীয়রা রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বেতাই এলাকায় বিদ্রোহীদের জন্য একটি বিমানক্ষেত্র নির্মাণ করেছিল। বাংলাদেশের পতাকা সম্বলিত দুটি বিমান সীমান্তের কাছাকাছি দেখা গেছে। পাকিস্তান এয়ার ফোর্স অকেজো হয়ে গেলে এ দুটি বিমান তৎপরতা শুরু করে।
১৯৭১ সালের জুনের শেষ দিকে প্রায় ৩০ হাজার বিদ্রোহীকে তাড়া করে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদেরকে হালকা অস্ত্র, গ্রেনেড, রকেট লাগার বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নভেম্বরের শেষ নাগাদ জানতে পারি যে, ইতোমধ্যে ৭০ হাজার বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবং বিভিন্ন ক্যাম্পে আরো ৩০ হাজার লোককে দেওয়া হচ্ছে।

বিপুল সংযাত বিদ্রোহী ক্যাম্প ত্যাগ করে ভারত থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসে। ভাষা তাদের বাড়ি-ঘরে নিষ্ক্রিয়ভাবে অবস্থান করতে থাকে। ভারতীয় বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের দিকে অগ্রাভিযান শুরু করলে তারা মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেয়।
