রাজাকার বাহিনী

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ রাজাকার বাহিনী। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

রাজাকার বাহিনী

 

রাজাকার বাহিনী

 

রাজাকার

একটি সংগঠিত রাজাকার বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দীর্ঘদিন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দপ্তর ও জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে বিবেচনাধীন ছিল। এদের নিয়োগ আগে থেকে শুরু হলেও ১৯৭১ সালের আগস্টে রাজাকার বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

একটি পৃথক রাজাকার ডাইরেক্টরেট প্রতিষ্ঠা করা হয়. এবং সময় কাঠামো একটি পরিপূর্ণ রূপ নিতে থাকে। ‘আল-বদর’ ও ‘আল-শামস’ নামে আরো দুটি পৃথক বাহিনী গঠন করা হয়। স্কুল-মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভকারীদের আল-বদর বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া। হয়।

তাদের স্পেশাল অপারেশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ‘আল-শামস সেতু, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অন্যান্য এলাকা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কাজে লাগাতে পারবে বলে ধারণা করে সেসব এলাকায় রাজাকারদের মোতায়েন করা হয়।

পূর্ণাঙ্গভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবের কারণে তাদের মধ্যে দলত্যাগের মনোভাব জেগে ওঠে। ১৯৭১ সালের অক্টোবর তাদের স্বপক্ষত্যাগের ঘটনা বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পায়। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যেসব এলাকায় ডানপন্থী দলগুলোর শক্তি এবং স্থানীয় প্রভাব ছিল সেসব এলাকায় নিয়োজিত রাজাকাররা অত্যন্ত সহায়ক বলে বিবেচিত হয়েছে।

 

বিদ্রোহীরা তাদের ও তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এবং ভয়- ভীতি প্রদর্শন করেছে। রাজাকারদের প্রশিক্ষণের খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রতিকূলতার জন্য ইন্টার্ন কমান্ড তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে পারে নি।

পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে স্পেশাল ট্রেনিং টিম পাঠানোর জন্য জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি। রাজাকার বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। প্রদেশের প্রায় সব জেলাতে তাদের মোতায়েন করা হয়। এরা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ অর্জন করেছিল।

 

রাজাকার বাহিনী

 

রাজাকার প্লাটুন ও কোম্পানি কমান্ডারদের প্রশিক্ষণ দানে ব্যাটল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এ বাহিনীকে একটি কার্যকর কমান্ড কাঠামো প্রদানে প্রায় ৬০ জন তরুণ অফিসারকে রাজাকার গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দানের জন্য বাছাই করা হয়।

Leave a Comment