প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন

 

প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন

 

প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন

বিভিন্ন স্তরবিশিষ্ট একটি প্রতিরক্ষা ধারণা গ্রহণ করা হয়। এমনভাবে স্তরগুলো বিন্যাস করা হয় যাতে একটি আরেকটিকে সহায়তা দিতে পারে। প্রতিরক্ষা ধারণায় উল্লেখ করা হয় যে, মূল বাহিনীর ওপর আক্রমণ এবং এলাকার গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশের আগে শত্রুকে ছত্রভঙ্গ করে দিতে হবে ।

তাদের সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধন করতে হবে। ঘাঁটি ও সুরক্ষিত অবস্থানের ভিত্তিতে একটি অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। [ পরিবিশষ্ট ৭-এ এই ধারণার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো ।]

পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি

কৌশলগত ও অন্যান্য বিবেচনায় যতোটুকু সম্ভব ততোটুকু অগ্রবর্তী এলাকায় পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা করা হবে। চোখ-কান খোলা রেখে কাজ করা এবং প্রতিরক্ষায় শত্রুর প্রথম ধাক্কা সামলানোর দায়িত্ব পালন এবং শত্রুর অগ্রাভিযানে।

 

বাধা দেয় এবং তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়াই ছিল পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য । প্রধান সংযোগ সড়কগুলোতে অবস্থিত পর্যবেক্ষণ ফাঁড়িগুলো সুরক্ষিত করা হবে এবং এগুলোতে নিয়মিত সৈন্য অথবা সিএএফ মোতায়েন করতে হবে। ভূখণ্ডের অভ্যন্তরেও প্রধান প্রধান রুটে বিকল্প অবস্থান তৈরি করতে হবে।

শক্ত অবস্থান

পরবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলতে হবে ছোটো ছোটো শহর, যোগাযোগের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেন্দ্র অথবা অন্যান্য স্থান- যেমন কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে এমন সব জায়গা, যে-কোনো রাস্তা প্রভৃতিতে। এগুলো হবে প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ এবং এখানে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের সর্বোচ্চ শক্তি ক্ষয় করতে হবে। এ প্রতিরক্ষা লাইন হতে হবে সুরক্ষিত এবং গোলা- বারুদ ও অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ থাকতে হবে।

 

প্রতিরক্ষার ধারণা ও ধরন

 

দুর্গ

এ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে ছিল ধারাবাহিক দুর্গ গঠন। দুর্গগুলো হতে হবে বড়ো বড়ো শহর এবং প্রধান প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্রে। এ প্রতিরক্ষা হবে দুর্ভেদ্য এবং অবস্থানগুলো হতে সুরক্ষিত এবং এগুলোকে অপরের মজুদ থাকতে হবে। সৈন্যদেরকে সেখানে জীবিত অথবা মৃত অবস্থান করছে হবে।

Leave a Comment