আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ উপ নির্বাচন ও সাধারন ক্ষমা। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
উপ নির্বাচন ও সাধারন ক্ষমা

উপ নির্বাচন
উপ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় সামান্য রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। তবে এ রাজনৈতিক তৎপরতা ডানপন্থী ও কিছু অনুগত বাঙালিদের মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ ছিল। রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েকটি নির্দিষ্ট গ্রুপের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
এর কারণ হচ্ছে, যেসব দল তখন মাঠ দখলের চেষ্টা করছিল ত আগে সাধারণ নির্বাচনে গুরুতর বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল। তা ছাড়া বিদ্রোহ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ ছিল।
উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় পিপিপি (পাকিস্তান পিপলস পার্টি), জামায়াতে ইসলামি এবং মুসলিম লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো সারা পাকিস্তানের নেতা হওয়ার জন্য ৬৫টি আসন চান। ान সমস্যার জন্য তাকে দেওয়া হয়। মাত্র ২২টি আসন।
আমরা জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সকে সতর্ক করে দিই যে, উপ নির্বাচনকালে ব্যাপক গোলযোগ দেখা দিতে পারে। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্ন এবং কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সকে জানানো হয়, যে, পূর্ব পাকিস্তানে ১০ হাজার সৈন্য পাঠানো না হলে নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কারণ, সৈন্যদেরকে বিদ্রোহ দমন অভিযানে পুরোপুরি নিয়োগ করা হয়েছিল।
সাধারণ ক্ষমা
মে থেকেই আমি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পরামর্শ নিচ্ছিলাম। পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি ঘটনায় শোনা যাচ্ছিল, যে এ মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে পৌঁছানো প্রয়োজন। তাই আমি জেনারেল হামিদের মে মাসে সফরকালে তাকে এ ব্যাপারে অবহিত করি।
আমার ক্ষমা ঘোষণার সুপারিশ বাস্তবায়নে যথেষ্ট দেরি হয়ে যায়। সাধারণ ক্ষমার যে ঘোষণা দেওয়া হয় তা ছিল আংশিক। এ জন্য এতে ইন্সিত ফলাফল অর্জিত হয় নি। ভারত শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনে বাধা দেয়। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ২৪০ জন। বিদ্রোহী আত্মসমর্পণ করে।

