যুদ্ধের কালো মেঘ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ যুদ্ধের কালো মেঘ। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

যুদ্ধের কালো মেঘ

 

যুদ্ধের কালো মেঘ

 

যুদ্ধের কালো মেঘ

যুদ্ধ ক্রমশ চূড়ান্তের দিকে ধাবিত হয়। এ রকম একটি ভয়াবহ যুদ্ধের প্রাক্কালে আমার সৈন্যরা তাদের অবস্থান গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে মেজর জেনারেল ফজল মুকিম তার ‘পাকিস্তান’স ক্রাইসিস ইন লিডারশিপ’ নামক বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি অনেক ক্ষেত্রে ইস্টার্ন কমান্ড সম্পর্কে সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন এবং সত্য গোপন রাখতে পারেন নি।

সে সময় সৈন্য সমাবেশ তিনি নিম্নোক্ত মন্তব্য করেছেন “পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করা দরকার। ১৪তম পদাতিক ডিভিশন স্থায়ীভাবে পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন ছিল। এ ডিভিশনকে সামরিক অভিযান শুরু হবার আগে প্রায় দুই বছর অব্যাহত সামরিক আইনের দায়িত্ব পালনের চাপ সহ্য করতে হয়েছে।

পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান এবং আওয়ামী লীগের বিরূপ প্রচারণায় এ ডিভিশনকে চড়া মাশুল দিতে হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে ৯ম ও ১৬তম পদাতিক ডিভিশনের সাথে এ ডিভিশনকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।

এ লড়াইয়ের জন্য সৈন্যদের না ছিল প্রশিক্ষণ, না ছিল প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র। এটা ছিল এমন এক অদ্ভূত লড়াই যে জন্য সৈন্যরা মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। শত্রুকে চিহ্নিত করারও সম্ভব ছিল না। তাদের সহযোগিতায় কারা কারা আছে তাও বোঝা যাচ্ছিল না। শত্রুরাও মানছিল না যুদ্ধের প্রচলিত নিয়ম- কানুন। বস্তুতপক্ষে, এটা ছিল সাধারণ যুদ্ধের চেয়েও বাজে অবস্থা।

সৈন্যদেরকে ভারতীয় সৈন্য ও বিদ্রোহীদের সাথে অবিরাম ৮ মাস লড়াই করতে হয়েছে। মাঝে মধ্যে শান্ত অবস্থা বিরাজ করত তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হতো না। সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় আর্টিলারি ও মর্টারের গোলাবর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং সীমান্তে তাদের হামলা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। স্থানে স্থানে পাকিস্তানি সৈনাদেরকে প্লাটুন ও সেকশন আকারে মোতায়েন করা হয়।

রঙির কোনো আশা ছিল না। সৈন্যরা বিশ্রাম নিতে পারে নি এক মুহূর্তের জন্য। যে সৈন্যটি এপ্রিলে ট্রেঞ্চে প্রবেশ করেছিল, মরে গিয়ে না থাকলে সে সৈন্যটি নভেম্বর পর্যন্ত সেখানেই ছিল। সরবরাহ ছিল খুবই নগণ্য। কোনো নিরাপত্তা ছিল। না। কারণ, বেসামরিক সরকারের প্রতিটি স্তরে ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সর্বস শত্রুর অনুচর ছিল।

সর্বোচ্চ গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও তার গোপন রাখা যেতো না। এসব কারণে সৈন্যদের ওপর সার্বক্ষণিক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা তৎপরতায় যুদ্ধ ছাড়াই সৈন্যরা ব্যাপকভাবে হতাহত হতে থাকে। এতে তাদের মনোবলে চিড় ধরে।

পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত জটিল দায়িত্ব সম্পর্কে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ উপলব্ধি করতে পারে নি। তাদেরকে অবহিত করার জন্য কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয় নি। সৈন্যরা কী ধরনের দায়িত্ব পালন করেছে এবং কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বোঝানোর জন্য সাম্প্রতিক কালের দুই একটি গেরিলা যুদ্ধের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের গেরিলা যুদ্ধের একটি তুলনামূলক আলোচনা করা প্রয়োজন।

প্রথমে, ১৯৬০ সালে আলজেরিয়ায় গেরিলা যুদ্ধের কথা আলোচনা করা যাক। আলজেরিয়া হচ্ছে একটি সাবেক ফরাসি উপনিবেশ, ফ্রান্স থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪০০ মাইল। সে সময় আলজেরিয়ার জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি এবং ফ্রান্সের ৫ কোটি।

আলভোরিয়ার ১ কোটি লোকের মধ্যে ১০ লাখ ছিল ফরাসি, যারা তাদের মাতৃভূমির প্রতি ছিল প্রবল অনুগত। ফরাসি সামরিক বাহিনী আলজেরিয়াকে পুরোপুরি ঘেরাও করে রেখেছিল। সে অঞ্চলে ফ্রান্সের প্রায় ১০ লাখ সৈন্য ছিল।

মিসর, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন আলজেরীয় গেরিলাদের সমর্থন দিতো। কিন্তু এসব দেশ ছিল আলজেরিয়া থেকে অনেক দূরে। তারা আলজেরিয়ার ভেতর থেকে নৈতিক পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে পারে নি। দ্বিতীয় উদাহরণ হচ্ছে উত্তর ভিয়েতনাম।

বিশ্বের শীর্ষ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি। অন্যদিকে, উত্তর ভিয়েতনামের জনসংখ্যা ছিল দেড় কোটি। উত্তর ভিয়েতনামের ২০ লাখ গেরিলা ১০ লাখ মার্কিন সৈন্যের সাথে লড়াই করেছে।

উত্তর ভিয়েতনামের সাথে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সীমান্ত হচ্ছে মাত্র ১০০ মাইল। মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামী বাহিনীর উত্তর ভিয়েতনামকে ঘেরাও করে রেখেছিল। তাদের রণসভার ও গোলাগুলির কোনো অভাব ছিল না। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি, যাদের অধিকাংশই পর্যায়ক্রমে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানের সাথে ভারতের ২ হাজার মাইলব্যাপী সীমান্ত রয়েছে।

পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সমুদ্র পথে। দূরত্ব হচ্ছে ৩ হাজার মাইল। পূর্ব পাকিস্তানে তিন ডিভিশন পদাতিক সৈন্য মোতায়েন ছিল। তাও আবার ভারী অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া। তাদের শক্তি বৃদ্ধির অথবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কোনো সুযোগ ছিল না।

 

কয়েকজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ সে সময় বলেছিলেন যে, বিদ্রোহ দমন অভিযানের পাকিস্তানের আড়াই থেকে তিন লাখ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্যের প্রয়োজন। এ ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আর্থ-রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোরও প্রয়োজন ছিল।

পাকিস্তানের চেয়ে কমপক্ষে ৫ গুণ বড়ো ভারত পূর্ব পাকিস্তানি গেরিলাদের বস্তুগত, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও জনবল দিয়ে সাহায্য করছে। আলজেরিয়া ও ভিয়েতনামে যে ধরনের রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা চালানো হয়েছে- পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অথবা প্রাদেশিক সরকার সে ধরনের প্রচারণা চালিয়ে সৈন্যদের উৎসাহ যোগায় নি।

এমনকি পশ্চিম পাকিস্তান ও পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ ছিল না। পর্বত প্রমাণ এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সৈন্যরা তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন এবং পুরোপুরিভাবে ভারত-সমর্থিত মুক্তিবাহিনীর সব অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু তাদের সফলতার কোনো রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়। নি । সৈন্যদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জটিলতা বিবেচনায় তাদের সাফল্য একটি অলৌকিক ঘটনা ।

ভারতের অব্যাহত এবং ক্রমাগত চাপে সৈন্যদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছিল সীমান্তে । সে সময় এমন একটা ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছিল যে, যুদ্ধ শুরু হলে তারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং তাদের কাছে কোনো সাহায্য আসবে না।

তাদেরকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বৈরি জনগণের করুণার ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। অফিসারও সৈন্যদের মধ্যে গৃহকাতরতা দেখা দেয় এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার একটি আতংক জোরদার হয়ে ওঠে। দুঃস্বপ্নময় মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খান একবারের জন্যও পূর্ব পাকিস্তান সফরে যান নি।

সেনাবাহিনী প্রধান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অফিসারগণও খুব একটা সফরে যেতেন না। এতে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্যরা পূর্ব পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় ভারতীয় প্রচারণার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। পশ্চিম পাকিস্তানি লোকজনসহ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ প্রত্যাশা করতেন যে, প্রেসিডেন্ট এসে স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখে যাবেন। প্রেসিডেন্ট সফরে না যাওয়ায় কানাঘুষা, গুজর ও ফিসফাস শুরু হয়ে যায় চারদিকে।

কেউ কেউ বলতে লাগলো যে, তিনি সফরে আসতে খুবই ভয় পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করতো যে, তিনি আমোদ-ফূর্তিতে এতো ব্যস্ত যে, পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা নিয়ে ভাববার তার অবসর নেই। তবে সৈন্যরা তাদের কমান্ডার-ইন-চিফকে তাদের মধ্যে দেখতে চেয়েছিল।

সৈন্যরা বলল যে, তিনি লাহোর ও শিয়ালকোট সীমান্তে সফরে যেতে পারলে পূর্ব পাকিস্তানেও আসতে পারেন। ভারতীয়রা প্রচারণা চালাচ্ছিল যে, সৈনারা ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর দয়ার কাছে জিম্মি। প্রেসিডেন্টের কাঙ্ক্ষিত সফর ভারতের এ প্রচারণা নস্যাৎ করে দিতে পারত।

১৯৭১ সালে মার্চে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট তার সৈনাদের দেখার জন্য একবারও পূর্ব পাকিস্তানে যান নি। সামরিক ইতিহাসে এমন নজির খুব কমই আছে যেখানে একটি চরম বৈরি পরিবেশে যুদ্ধরত একটি বাহিনীকে তাদের সেনাপতি ৯ মাস দেখতে যান নি। সৈন্যরা সেকেন্ড-ইন- কমান্ড সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল হামিদকে দেখতে পেয়েছে মাত্র দুই বার ।

একবার আগস্টে এবং আরেক বার অক্টোবরে। একটি পরিকল্পিত বিদ্রোহ দমনে সফল হওয়ার পরও তারা হয়ে ওঠে একটি বিস্তৃত সেনাবাহিনী। তারা তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার সাথে সম্পন্ন করেছে এবং পরে তারা ৮ মাস ধরে এমন সব ব্যর্থ তৎপরতায় জড়িত রয়েছে যার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিল না।

তারপরও তারা মাটি কামড়ে লড়াই করেছে এবং এতে তারা ক্লান্তির চরম মাত্রায় পৌঁছে যায়। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেছে। পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন ৩ ডিভিশন সৈন্যের মনোবল ছিল দৃশ্যত উঁচু। কিন্তু তাদের সাথে স্বাভাবিক ভারী অস্ত্র ও লজিস্টিক সমর্থন ছিল না। বিমান বাহিনীর অবস্থা ছিল আরো শোচনীয়। পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ছিল মাত্র ১ স্কোয়াড্রেন বিমান।

৮ মাসে বিভিন্ন অপারেশনে এক স্কোয়াড্রন বিমান থেকেও কিছু বিমান খোয়া যায়। এ বিমান বাহিনী কোনো মতেই বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট ছিল না। নৌবাহিনীতে গানবোট ছিল ৪টি। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান পর্যন্ত সমুদ্র সীমা পাহারা দেওয়া তো দূরের কথা, পূর্ব পাকিস্তানের নদ-নদীগুলো নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও এদের ছিল না। ভারতের ব্যাপক সামরিক অভিযানের আলামত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সে ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে কৌশলগত ও লজিস্টিকভাবে এক অসাধ্য কাজের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। সুতরাং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সহায়তা না এলে অথবা পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী কার্যকর ও ত্বরিত ভূমিকা পালন না করলে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বজায় রাখা হবে এক দুরূহ সমস্যা। পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন সশস্ত্র বাহিনী এক সর্বাত্মক আগ্রাসন মোকাবেলা করছে।

(পাকিস্তান’স ক্রাইসিস অব লিডারশিপ, মেজর জেনারেল ফজল মুকিম) সামরিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড লোশাকের মতে, ‘বিদ্রোহ দমনে পাকিস্তান: সেনাবাহিনীর আড়াই লাখ সৈন্যের প্রয়োজন ছিল।’ অন্যান্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ীও পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্রোহ দমন অভিযানে পাকিস্তানের আড়াই থেকে ৩ লাখ সৈন্যের প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু আমার অধীনে। ছিল মাত্র ৪৫ হাজার নিয়মিত ও আধা-সামরিক সৈন্য। এ সামান্য সংখ্যক সৈন্য নিয়েও আমি দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান থেকে গেরিলাদের উচ্ছেদ করতে সফল হই। আমার সৈন্যদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ছিল না। এবং কাজ করতে পারছিল না প্রাদেশিক সরকারও।

আমি জেনারেল হামিদকে জানাই যে, আমাদের প্রতি বাঙালিরা বৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। সুতরাং আমার মিশনও পরিবর্তন করা উচিত এবং আমাকে প্রয়োজনবোধে আমার পরিকল্পনা পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া উচিত।

শত্রুর হাতে কোনো ভূখণ্ডের পতন হতে দেওয়া যাবে না। এবং সীমান্ত বন্ধ করে দিতে হবে বলে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তাতে কোনো কৌশলগত বিবেচনা স্থান পায় নি। সম্পূর্ণ রাজনেতিক বিবেচনা থেকে এ রকম একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

 

যুদ্ধের কালো মেঘ

 

মিশন পরিবর্তন করা হলে আমি আরো স্বাধীন ও নমনীয়ভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারতাম। কিন্তু জেনারেল হামিদ রাজি হন নি। তিনি ভারতে প্রবেশ করে মুক্তিবাহিনীর ঘাঁটি ও রসদ ধ্বংসে আমাকে অতিরিক্ত সৈন্য ও সম্পদ দিতে একেবারে অস্বীকার করেন।

Leave a Comment