ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর

 

হেলিকপ্টার স্কোয়াডন

 

ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর

আমি ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর ব্রিগেডিয়ার এল ইস চিফ অব স্টাফ হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জিলানী খানের (পরে পাঞ্জাবের গভর্নর) কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ব্রিগেডিয়ার জিলানী শুরুতে আমার ওপর অর্পিত মিশনের কাজ সম্পাদনে আমার নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য দায়ী ছিলেন।

তিনি ভারতের সাথে যুদ্ধকালে বিদ্রোহী ও মুক্তিবাহিনীর কর্মকাণ্ড দমনে প্রণীত অপারেশনাল পরিকল্পনাগুলো পুনঃপরীক্ষার কাজও করেছিলেন। তার পদোন্নতি ঘটলে ব্রিগেডিয়ার বাকির সিদ্দিকী তার স্থলাভিষিক্ত হন।

সেনাবাহিনীতে একজন চৌকস ও মেধাবী অফিসার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার বাকিরের বেশ সুনাম ছিল। তিনি ছিলেন সৎ, যোগ্য ও একজন সাহসী অফিসার। তিনি একসময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডারও ছিলেন। তিনি প্রায় সকল সেক্টরের ভূ-প্রকৃতির সাথে পুরোপুরিভাবে পরিচিত ছিলেন।

 

এ জন্য তিনি আমাদের কাছে একটি বিরাট সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি এতো দ্রুত আমার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন যে, তা ছিল সত্যি বিস্ময়কর। একজন সৎ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অফিসার হিসেবে তিনি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেন।

তিনি আমাকে হামুদ-উর-রহমান কমিশনের জন্য রিপোর্ট তৈরিতে সহাযতা করেন। টিকা ও জুলফিকার আলী ভূট্টোর ভয়ে যেখানে অন্যান্য সবাই আমাকে ত্যাগ করেছিল অথবা আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেখানে ব্রিগেডিয়ার বাকির পাহাড়ের মতো অটল হয়ে আমার পাশে দাঁড়ান।

 

ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর

 

তিনি কোনো প্ররোচনা ও প্রলোভনের কাছে মাথা নত করেন নি। তার নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তিনি দুর্ভোগ পোহান। তিনি ছিলেন পরিস্থিতির শিকার। আমাদের সামরিক ব্যবস্থায় কমান্ডারের কার্যকলাপের জন্য তার স্টাফ অফিসার দায়ী নয়। কিন্তু আমার প্রতি অবিচল আনুগত্য থাকায় তাকে বলীর পাঁঠা বানানো হয় ।

Leave a Comment