খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।

খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর

 

খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর

 

খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর

ঢাকা দখল করতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রায়নার নেতৃত্বে দ্বিতীয় কোর গঠন করা হয়। ভারতীয়দের বিচারে রায়না ছিলেন একজন মেধাবী জেনারেল। কিন্তু কোর পরিচালনায় ব্যর্থতা তার সুনামকে নস্যাৎ করে দেয়।

আমি এখনো ভেবে অবাক হই, কী কারণে জেনারেল শ্যাম মানেকশ ও জগজিৎ সিং অরোরা যশোরের বিপরীত দিকে কৃষ্ণনগরে দুটি পদাতিক ডিভিশনের সমন্বয়ে এ কোর গঠন করলেন। এই সেক্টরে দুর্লঙ্ঘ্য বাধা-বিপত্তি রয়েছে। কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত একটি করে নদী।

মাঠ-ঘাট পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় রাস্তা ছেড়ে চলাচল করা ছিল অসম্ভব। এখানকার ভূখণ্ড ছিল প্রতিরক্ষামূলক লড়াইয়ের জন্য এক উত্তম জায়গা। লড়াইয়ে তাই প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের ৪টি ডিভিশন ফরিদপুর-ঢাকার পথে অগ্রসর না হয়ে যুদ্ধ শুরুর ২৬ দিন পরও কুষ্টিয়ায় আটকা পড়ে এবং সেখানেই লড়াই করতে থাকে।

ব্রিগেডিয়ার হায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০৭ ব্রিগেডকে এড়িয়ে যেতে, বিচ্ছিন্ন করতে এবং পদানত করতে রায়নার কোরের অধিকাংশ রিজার্ভ সৈন্যের সহায়তায় ভারতীয় ৯ম ডিভিশন দৌলতপুর-কুষ্টিয়ার তাদের সব প্রয়াস কেন্দ্রীভূত করে। কিন্তু তাদের এ প্রচেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। এ ডিভিশনের অধিকাংশ সৈন্যও ফরিদপুর এগিয়ে যেতে পারত ।

 

সামান্য কয়েকজন ভারতীয় সৈন্য মধুমতি নদীতে পৌঁছেছিল। তবে তারা ফরিদপুর অগ্রসর হতে পারে নি। অন্তত একজন ভারতীয় লেখক স্বীকার করেছেন যে, এখানে ঢাকা পৌঁছার একটি সুযোগ নষ্ট হয়। এটা অবিশ্বাস্য যে, প্রয়োজনীয় সব গোয়েন্দা তথ্য পেয়েও রায়না তার মিশনে ব্যর্থ হন।

আমি এ জন্য দায়ী করবো জগজিৎ সিং অরোরাকে। জগজিৎ সিং অরোরা কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন নি। তিনি অন্ধভাবে তার সৈন্য পরিচালনা করছিলেন যেন তিনি পাঞ্জাবে লড়াই করছেন।

উত্তর-পশ্চিম সেক্টরের ভূমি ছিল পাঞ্জাবের মতো। কিন্তু তিনি সেখানেও সফল হতে পারেন নি। আমি তাকে একজন ‘ক্ষমতাহীন’ জেনারেল হিসেবে। আখ্যায়িত করবো। তার কৌশলগত জ্ঞানের ঘাটতি ছাড়াও যথেষ্ট সামরিক জ্ঞান ছিল না। তিনি মুক্তিবাহিনী ও বিএসএফ-কে সাথে রেখে আমার দুটি ব্রিগেডকে পদানত করতে পারতেন এবং ফরিদপুর দখল মনোযোগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি।

আমি ভেবে আরো অবাক হই যে, যেখানে তিনি ৯ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯ দিনের লড়াইয়ে কোনো সীমান্ত শহরও দখল করতে পারেন নি, সেখানে তিনি ১২ দিনে কীভাবে ঢাকা দখল করতে পারতেন? নির্বিবাদে তাকে ঢাকা পৌছার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি দুই সপ্তাহ তো দূরে থাকুক, ৬ সপ্তাহেও ঢাকা দখল করতে পারতেন না।

কারণ, ঢাকার পথে প্রচুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদী রয়েছে। এসব নদীতে হয়তো ভাসমান সেতু নির্মাণ করতে হতো নয়তো পরিবহন বিমান অথবা হেলিকপ্টারের সাহায্যে সৈন্য পারাপার করতে হতো। যমুনা নদী কয়েক মাইল প্রশস্ত।

 

খুলনা,কুষ্টিয়া ও যশোর সেক্টর

 

এ নদী তিনি ফেরি ছাড়া কিভাবে পার হতেন? যমুনা নদীতে সেতু নির্মাণের প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং ঢাকা দখলে দ্বিতীয় কোরকে নির্দেশ দান তিনি কীভাবে যৌক্তিক বলে প্রমাণ করবেন? এ যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে, কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে তার কোনো সূত্র ছিল না।

Leave a Comment