বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকাশ ১৯৭৭

আজকে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকাশ ১৯৭৭ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য একটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

 

Table of Contents

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকাশ ১৯৭৭

 

নাম

১ । এই প্রতিষ্ঠানের নাম “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” হইবে ।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

২। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি বিধান, নর-নারী ও ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতি, মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিকাশের পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সকল সাম্প্রদায়িকতার বিলোপ সাধন, কৃষক-শ্রমিকসহ সকল মেহনতি ও অনগ্রসর জনগণের উপর শোষণ অবসানের জন্য পূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক স্বাধীনতা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শোষণমুক্ত ও সুষম সামাভিত্তিক এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, সর্বাঙ্গীণ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও ক্রমিক যান্ত্রিকীকরণ এবং সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ পদ্ধতির প্রচলন, কৃষি ও শিল্পের প্রসার এবং উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণে কৃষক শ্রমিকের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান, মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অধিকতর কর্মসংস্থান, সমাজের প্রয়োজনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ গণমুখী সার্বজনীন সুলত গঠনাত্মক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য রক্ষাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণে মৌলিক সমস্যাবলীর সুসমাধান, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বয়ম্ভর অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা, ব্যক্তিগত সম্পত্তির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, বিচার ব্যবস্থার কালোপযোগী জনকল্যাণকর পরিবর্তন সাধন এবং গণজীবনের সর্বস্তর হইতে দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ করা- এই সকল নীতিসমূহ ও উদ্দেশ্যাবলী সমগ্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত উদাম সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পন্থায় বাস্তবে রূপায়িত করিতে অবিচল নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তার সহিত সর্বতোভাবে আত্মনিয়োগ করিবে ।

(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টায় সাহায্য ও সহযোগিতা করিবে এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত মুক্তির সংগ্রামকে সমর্থন করিবে ।

 

পতাকা

৩। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা হইবে দুই-তৃতীয়াংশ সবুজ এবং এক-তৃতীয়াংশ লাল সবুজের উপর চারটি লাল বর্ণের তারকা খচিত থাকিবে ।

গঠন প্রণালী

নিম্নলিখিত সাংগঠনিক ইউনিট সমবায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে।-

(ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশন, বার্ষিক অধিবেশন এবং বিশেষ অধিবেশন ।

(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল

(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহ সংসদ (ওয়ার্কিং কমিটি) ।

(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় (পার্লামেন্টারি) পার্টি।

(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় (পার্লামেন্টারি) বোর্ড।

(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক অনুমোদিত জেলা আওয়ামী লীগসমূহ, ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ এবং উহাদের অন্তর্ভুক্ত শাখা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানসমূহ ।

৪। (ক) এই গঠনতন্ত্রের ২ ধারায় বর্ণিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য বিশ্বাস করিয়া নির্ধারিত ফরমে (ফরম-ক) প্রদত্ত ঘোষণাপত্রে দস্তখত করিয়া দ্বি-বার্ষিক ২ টাকা চাঁদা প্রদান করিয়া, ১৮ বৎসর বয়স্ক বা তদূর্ধ্ব বয়ঙ্ক বাংলাদেশের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক, যাঁহারা স্বীকার করেন নাই,

(১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অর্থ-ত্ব, জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় আদর্শ বিরোধী জননিরাপত্তা বিরোধী ও হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া প্রতীয়মান নহেন,

(২) কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন নাই কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন নাই

(৩) অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য নহেন,

(8) কোন প্রকার ধর্ম, পেশা এবং জন্মগত শ্রেণি-বৈষম্যে বিশ্বাস করেন না,

(৫) আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কোনো সংগঠনের সদস্য নহেন,

(৬) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ কর্তৃক নির্দেশিত ন্যূনতম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও যে কোনো নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকিবেন, এবং

(৭) দ্বি-বার্ষিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধ করেন, তাঁহারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য হইতে পারিবেন।

৪। (খ) সদস্য পদের মেয়াদ বাংলা বৎসরের পহেলা বৈশাখ হইতে পরবর্তী বৎসরের চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে। এই উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ অন্তে ৪ (ক) ধারায় নির্ধারিত হারে চাঁদা প্রদান করিয়া নির্ধারিত ফরমে (ফরম-খ) দস্তখত করিয়া সদস্যপদ পুনরুজ্জীবিত করা যাইবে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তাগণ

৫। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিম্নলিখিত কর্মকর্তা থাকিবেন :-

(ক) সভাপতি।

(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি (ক্রমিক মান অনুসারে) যথা :-

প্রথম সহ-সভাপতি,

দ্বিতীয় সহ-সভাপতি,ও

তৃতীয় সহ-সভাপতি ।

(গ) সাধারণ সম্পাদক ।

(ঘ) সম্পাদক সংগঠন বিভাগ (সংক্ষেপে সাংগঠনিক সম্পাদক) ।

(ঙ) সম্পাদক প্রচার বিভাগ (সংক্ষেপে প্রচার সম্পাদক)।

(চ) সম্পাদক – অফিস ও আবাস বিভাগ (সংক্ষেপে অফিস সম্পাদক)।

(ছ) সম্পাদক – শ্রম বিভাগ (সংক্ষেপে শ্রম সম্পাদক)।

(জ) সম্পাদক কৃষি বিভাগ (সংক্ষেপে কৃষি সম্পাদক)।

(ঝ) সম্পাদক সমাজ কল্যাণ, সংস্কৃতি ও সাহায্য বিভাগ (সংক্ষেপে সমাজ কল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক)।

(ঞ) সম্পাদিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহিলা বিভাগ।

(ট) সম্পাদক, যুব বিভাগ (সংক্ষেপে যুব সম্পাদক)।

(ঠ) কোষাধ্যক্ষ।

৬। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের দ্বি-বার্ষিক সভায় কাউন্সিল সদস্যদের মধ্য হইতে তাঁহাদের দ্বারা ৫ ধারার উল্লেখিত কর্মকর্তাগণ দুই বৎসর কালের জন্য নির্বাচিত হইবেন এবং পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন ।

৭ । নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে ।

(ক) প্রতি দুই বছর অন্তর জেলা আওয়ামী লীগসমূহ ও ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচিত কাউন্সিলার সমবায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে। জেলা আওয়ামী লীগসমূহ ও ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহুত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ কর্তৃক নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে তাহাদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় তাহাদের নিজস্ব কর্মকর্তা ও তাহাদের জেলা হইতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করিয়া তাহাদের পূর্ণ ঠিকানাসহ নামের তালিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে অবশ্যই প্রেরণ করিবে ।

(খ) প্রত্যেক জেলায় প্রতি ৫০ হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হইবেন। ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ হইতে প্রতি ২০ (বিশ) হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হইবেন। ভগ্নাংশের বেলায় জেলাসমূহ প্রতি ২৫ হাজার বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার জন্য একজন এবং ঢাকা নগরী এবং অন্যান্য পৌর এলাকাসমূহ প্রতি ১০ হাজার বা তদূর্ধ্ব জনসংখ্যার জন্য একজন কাউন্সিলার নির্বাচন করিবে ।

(গ) কোনো জেলা বা নগর আওয়ামী লীগ কোনো কারণবশত যদি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলার ও তাহাদের নিজস্ব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবলী অনুসারে নির্বাচন করিতে না পারে, তাহা হইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ উক্ত জেলা বা নগরের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সিলার মনোনয়ন দান করিতে পারিবে ।

(ঘ) উপরোক্ত নির্বাচিত বা মনোনীত কাউন্সিলারগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহুত দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোনো শাখায় প্রাথমিক সদস্যভুক্ত ৫০ জন সদস্যকে কো-অপট করিয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সদস্যভুক্ত করিয়া লইবেন

৮। (গ) ধারার উল্লেখিত মনোনীত কাউন্সিলারগণ নির্বাচিত কাউন্সিলারদের সর্বপ্রকার অধিকার ভোগ করিবেন । কিন্তু মনোনয়নের পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে ঐ সব জেলা বা নগর (ঢাকা) আওয়ামী লীগের নির্বাচনের ব্যবস্থা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে করিতে হইবে।

উক্ত জেলা বা নগর (ঢাকা) উহার নিজস্ব কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য নির্বাচন করার পর নির্বাচিত সদস্যগণ উক্ত জেলা বা নগর (ঢাকা) আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক মঞ্জুরি প্রাপ্ত হওয়ার পর আপনা আপনি মনোনীত কাউন্সিলারদের স্থলাভিষিক্ত হইবে। মনোনয়ন দান হইতে নূতন নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তীকালের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ উক্ত জেলা বা নগরের (ঢাকা) পূর্ববর্তী কমিটিকে বা তদস্থলে এডহক কমিটি গঠন করিয়া উহাকে দৈনন্দিন কার্য চালাইয়া যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবে।

৯। মনোনয়ন, কো-অপশন বা কোনো শাখা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ত্রুট-বিচ্যুতির অজুহাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অন্যায়রূপে গঠিত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা চলিবে না এবং কাউন্সিলের কোনো কার্য বা সিদ্ধান্ত ঐ কারণে রদ, বাতিল, বে-আইনী বা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত বলিয়া বিবেচিত হইবে না ।

১০। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত কো-অপশনকৃত বা মনোনীত কাউন্সিলারগণ সভায় যোগদান করিবার পূর্বে দ্বি-বার্ষিক ১০.০০ টাকা চাঁদা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান না করিলে কাউন্সিল সভায় যোগদান করিতে পারিবেন না ।

১১। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো কাউন্সিলার যদি তাঁহার নির্বাচনের প্রথম চার মাসের মধ্যে তাঁহার দ্বি-বার্ষিক ১০.০০ টাকা চাঁদা পরিশোধ না করেন তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসদ তাঁহার কাউন্সিল সদস্যপদ খারিজ করিয়া তদস্থলে নুতন কাউন্সিলার মনোনীত করিতে পারিবে, তবে সদস্যপদ খারিজ করার পূর্বে উক্ত সদস্যকে এ দিনের মধ্যে দেয় চাপা পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়া পোস্টাল রেজিস্ট্রেশন যোগে নোটিশ নিতে হইবে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ

১২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, ৩ জন সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক সংগঠন বিভাগ সম্পাদক প্রচার বিভাগ, সম্পাদক – দফতর ও আবাস বিভাগ, সম্পাদক শ্রম বিভাগ, সম্পাদক – কৃষি বিভাগ, সম্পাদক সমাজ কল্যাণ, সংস্কৃতি ও সাহায্য বিভাগ, সম্পাদিকা মহিলা বিভাগ, সম্পাদক যুব বিভাগ এবং কোষাধ্যক্ষ এই ১৪ জন কর্মকর্তা ব্যতীত আরও ২৭ জন সদস্য লইয়া মোট ৪১ জন সদস্য সমবায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ গঠিত হইবে।

১৩। ১২ ধারায় বর্ণিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৪ জন কর্মকর্তা ব্যতীত কার্যনির্বাহ সংসদের ২৭ জন সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং উক্ত মনোনয়ন সভাপতির নির্বাচনের ২১ দিনের মধ্যে অবশ্যই ঘোষণা করিতে হইবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভা

১৪ । সভাপতির নির্দেশ বা অনুমোদনক্রমে সাধারণ সম্পাদক যে কোনো সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সভা আহবান করিতে পারিবেন। বি-বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশন ব্যতীত বৎসরে অন্তত একবার বাংলাদেশ আওয়াই লীগের কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে হইবে । এতদ্ব্যতীত ন্যূনপক্ষে ১৫০ জন সদস্যের স্বাক্ষর ও আলোচ্য বিষয় সম্বলিত রিকুইজিশনপত্র সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতির নিকট দাখিল করিবার ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নিজে বা সভাপতির নির্দেশে কাউন্সিল সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। ২২৫ জন সদস্য উপস্থিত হইলে কাউন্সিল সভার কোরাম হইবে কিন্তু মুলতবী সভার জন্য কোনো কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

১৫। (ক) উপরোক্ত যে কোনো কাউন্সিল সভার সভাপতি এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে ক্রমিক মান অনুসারে সহ-সভাপণ্ডিত্রয় বা তাঁহাদের অনুপস্থিতিতে সদস্যদের যে কেহ নির্বাচিত হইয়া সভাপতিত্ব করিবেন।

(খ) রিকুইজিশনপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে যদি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান না করেন। তবে রিকুইজিশনকারী সদস্যাগণ ৩০ দিন পরে নিজেরাই ২১ দিনের নোটিশ দিয়া সভা আহ্বান করিতে পারিবেন ।

১৬। কার্যনির্বাহ সংসদের নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলেরবিশেষ বা বার্ষিক যা দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইবে ।

১৭। কাউন্সিলের বিশেষ বা বার্ষিক বা দ্বি-বার্ষিক অধিবেশনে সমস্ত জেলা বা ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণক্রমে তাহাদের জেলা বা নগর হইতে নির্বাচিত কাউন্সিলারের সমসংখ্যক ডেলিগেট পাঠাইতে পারিবে । উক্ত ডেলিগেটগণ প্রত্যেকে ১০.০০ টাকা হারে চাঁদা প্রদান করিয়া উক্ত অধিবেশনে যোগদান করিতে পারিবেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় নির্বাচিত, কো-অপশনকৃত বা মনোনীত কাউন্সিলারগণ ব্যতীত অন্য কোনো লোক বিনা আমন্ত্রণে যোগদান বা অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না ।

১৮ । কাউন্সিলের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভা, বার্ষিক সভা বা বিশেষ সভার জন্য সাধারণত ১৫ দিনের ও জরুরি সভার ৭ দিনের নোটিশ দিতে হইবে । নোটিশে আলোচ্য বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করিতে হইবে ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সভা

১৯। সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করিবেন।সভাপতির নির্দেশক্রমেও সাধারণ সম্পাদক উক্ত সংসদের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। সভাপতির নির্দেশক্রমে সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান না করিলে, সভাপতি নিজেই সভা আহ্বান করিতে পারিবেন। কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ১১ জন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে ।

২০। কার্যনির্বাহী সংসদের সভার জন্য সাধারণতঃ ৭ দিনের নোটিশ দিতে হইবে। কিন্তু জরুরি সভার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময়ের নোটিশের প্রয়োজন হইবে না আবশ্যক হইলে সংবাদপত্রের মাধ্যমেও নোটিশ দিয়া স করা চলিবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের কার্যাবলী ও ক্ষমতা

২১। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল নিম্নলিখিত কার্যাবলী সম্পন্ন ও ক্ষমতাসমূহ প্ৰয়োগ করিবে ।

(ক) গঠনতন্ত্রের ৫ ধারায় উল্লেখিত কর্মকর্তা নির্বাচন
(খ) আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ।
(গ) আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করিবার প্রস্তাব গ্রহণ
(ঘ) আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বা বার্ষিক বা বিশেষ অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ কার্যকরী করা।
(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ ও অনুমোদন করা:
(চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপীল বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
(ছ) আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সভাসমূহ পরিচালনা করার নিয়মাবলী প্রণয়ন করা;
(জ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য সাধন করার প্রয়োজনে যে কোন কর্মপন্থা গ্রহণ করা;
(ঝ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সংসদীয় (পার্লামেন্টারি) বোর্ড গঠন করা;
(ঞ) সংসদীয় পার্টি পরিচালনার জন্য নিয়মাবলী প্রণয়ন করা;
(ট) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল বিনা শর্তে বা শর্তাধীনে যে কোনো ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী সংসদের উপর ন্যস্ত করিতে পারিবে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের কার্যক্রম ও ক্ষমতা

২২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ নিম্নলিখিত কার্যাবলী সম্পন্ন ও ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগ করিবে :-

(ক) শাখা আওয়ামী লীগসমূহকে মঞ্জুরী প্রদান, বাতিল করা, পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যা প্রয়োজনবোধে যে কোনো শাখা কমিটি বাতিল করিয়া তদস্থলে এডহক কমিটি গঠন করা এবং এডহক কমিটি গঠনের ৩ মাসের মধ্যে উক্ত শাখার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় ৩ মাস পরে এডহক কমিটি বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে ।

(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, জাতীয় কমিটি, কার্যনির্বাহ সংসদ বা অন্য কোনো কমিটি বা
সংসদীয় বোর্ডের সদস্যপদ বা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকর্তার পদ শূন্য হইলে কো-অপশন বা মনোনয়ন যারা তাহা পূরণ করা।

(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদীয় পার্টি বা উহার কোনো সদস্যের প্রতি নির্দেশ, উপদেশ ও নিয়ন্ত্রণাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের থাকিবে এবং উপরোক্ত সদস্যদের কেহ উহা অমান্য করিলে অথবা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের নীতি ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কোনো কাজ করিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ উক্ত পার্টি বা সদস্যের বিরুদ্ধে যে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে দাখিল করিবার উদ্দেশ্যে বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করা।

(ঙ) ১,০০,০০০ টাকার উর্ধ্বে যে কোনো ব্যয় অনুমোদন করা।

(চ) সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক কর্মচারী নিয়োগ বা বরখাস্ত অনুমোদন করা ।

(ছ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের যে কোনো সদস্য বিনা কারণে বা সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে পরপর তিনটি সাধারণ সভায় অনুপস্থিত থাকিলে তাহার নাম কার্যনির্বাহ সংসদের তালিকা হইতে খারিজ করা। কিন্তু খারিজ করিবার পূর্বে উক্ত সদস্যকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক কারণ দর্শাইবার জন্য পোস্টাল রেজিস্ট্রেশন যোগে নোটিশ প্রान করিতে হইবে ।

(জ) ১৬ ধারা মতে আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্বাচনী বা বার্ষিক বা বিশেষ অধিবেশন আহ্বান ও তাহার তারিখ, স্থান ও আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা।

(ঝ) আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ করিবার তারিখ নির্ধারণ করা, বিভিন্ন শাখার নির্বাচনের তারিখ ধার্য করা এবং বাংলাদেশ আদমশুমারী অনুসারে ৭(খ) ধারায় উল্লেখিত জনসংখ্যার ভিত্তিতে কোনো জেলা বা ঢাকা নগর হইতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের জন্য কত জন সদস্য নির্বাচিত হইবেন উহা হিসাব করিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনের পূর্বে উপযুক্ত নোটিশ প্রদান করা।

(ঞ) আবশ্যক বোধে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগীয় সম্পাদকের কার্যক্রম নির্ধারণ করা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাদের কার্যাবলী ও ক্ষমতা

২৩। (ক) সভাপতি :

তিনি প্রতিষ্ঠানের সর্বপ্রধান কর্মকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল অধিবেশনে এবং কার্যনির্বাহ সংসদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং আবশ্যক বোধে প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের যে কোনো ধারা ব্যাখ্যা করিয়া রুলিং দিতে পারিবেন ও যে কোন ধারার ব্যাখ্যা সম্পর্কে কাউন্সিলের বা কার্যনির্বাহ সংসদের মতামত লইতে পারিবেন। তিনি সাধারণ সম্পাদককে কাউন্সিল বা কর্মনির্বাহ সংসদের সভা আহ্বানের নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং প্রয়োজনবোধে তিনি ১৪ ও ১৯ ধারা মতে কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহ সংসদের সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

তিনি ১৩ ধারা অনুসারে কার্যনির্বাহ সংসদের সদস্য মনোনীত করিবেন। তিনি কাউন্সিল অধিবেশনের সময় বিষয় নির্বাচনী কমিটির সদস্যগণকে মনোনীত করিতে পারিবেন। তিনি কাউন্সিল বা কাৰ্যনিৰ্বাহ সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো ক্ষমতা গ্রহণ ও প্রয়োগ করিতে পারিবেন। রাষ্ট্রের ঐক্য, নিরাপত্তা ও সবসময় মঙ্গল সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বাঙ্গীন উন্নতি, অগ্রগতি ও শ্রীবৃদ্ধিই তাঁহার লক্ষ্য হইবে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ বা কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলের জন্য যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(খ) সহ-সভাপতি :

ক্রমিক মান অনুসারে প্রতিষ্ঠানের তিন জন সহ-সভাপতি যথাক্রমে প্রথম সহ-সভাপতি, দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ও তৃতীয় সহ-সভাপতি থাকিবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে তাঁহারা সভাপতির সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হইবেন । ইহা ব্যতীত তাঁহারা সভাপতি কর্তৃক অর্পিত কার্যাবলী সম্পন্ন করিবেন ।

(গ) সাধারণ সম্পাদক :

তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মসচিব বলিয়া পরিগণিত হইবেন। তিনি সমস্ত বিভাগীয় সম্পানকরে তাহাদের বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবার জন্য উপদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন। মাসে অন্ততঃ একবার তিনি বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকিবেন এবং উক্ত সভায় বিভাগীয় কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্বন্ধে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন; কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার কার্যনির্বাহ সংসদের উপর নাস্ত থাকিবে।

তিনি কার্যনির্বাহ সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগ, বরখাস্ত, বেতন বৃদ্ধি বা হ্রাস, ছুটি মঞ্জুর ও শান্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবেন। তিনি কার্যনির্বাহ সংসদের ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত যাহাতে বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে কার্যকরী হয় তাহার বিধি ব্যবস্থা করিবেন। সাধারণ সম্পাদক প্রত্যেকটি কাউন্সিল সভায় প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট পেশ করিবেন। এতভিন্ন যে ক্ষমতা কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহ সংসদ তাঁহার উপর ন্যস্ত করিবে তাহাও তিনি প্রয়োগ করিবেন।

তিনি বিভাগীয় সম্পাদকের নিজ নিজ বিভাগীয় কার্যাবলী ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের যে কোনো কাজ সম্পাদন করিবার জন্য যে কোনো বিভাগীয় সম্পাদকের উপর ভার দিতে পারিবেন এবং তাঁহারা তাহা পালন করিতে বাধ্য থাকিবেন। সাধারণ সম্পাদক কার্য উপলক্ষে অনুপস্থিত থাকিলে অনুপস্থিত কালের জন্য তিনি তাঁহার সমস্ত কার্য ও দায়িত্ব পালনের ভার ক্রমিক মান অনুসারে বিভাগীয় সম্পাদকদের উপর নাস্ত করিতে পারিবেন ।

(ঘ) বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীঃ

তাঁহারা নিজ নিজ বিভাগীয় কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন এবং সাধারণ সম্পাদক, কার্যনির্বাহ সংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নির্দেশ ও উপদেশাবলী কার্যকরী করিবেন। বিভাগীয় সম্পাদকগণ নিজ নিজ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলী সমাধানের জন্য কার্যনির্বাহ সংসদের সভা আহ্বানের প্রয়োজন মনে করিলে সাধারণ সম্পাদককে উক্ত সমস্যা জানাইয়া সভা আহবানের অনুরোধ করিতে পারিবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রত্যেক কাউন্সিল সভায় বিভাগীয় সম্পাদকম-লী সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট মারফত তাঁহাদের স্ব স্ব বিভাগের কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্পর্কে কাউন্সিলারগণকে অবহিত করিবেন।

মহিলা সম্পাদিকাঃ

একজন মহিলাকে মহিলা বিভাগের সম্পাদিকা নির্বাচিত করা হইবে। তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানের একটি মহিলা ফ্রন্ট গঠন করিয়া সারাদেশে মহিলাদিগকে সদস্যাভুক্ত করিবেন । তাঁহার অধীনস্থ মহিলা ফ্রন্টের যাবতীয় ব্যয়ভার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তহবিল হইতে বহন করা হইবে। মহিলা সম্পাদিকা নারী জাতির বিভিন্ন সমস্যা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নীতি ও উদ্দেশ্য প্রচার করিবেন ।

এতদউদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিলা সম্পাদিকার নেতৃত্বে জেলা, ঢাকা নগর, থানা, ইউনিয়ন ও ইউনিট পর্যন্ত অনুরূপ উপ-সংসদ গঠন করিবার ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির থাকিবে। তিনি ২৩ সদস্যা বিশিষ্ট একটি মহিলা উপ-সংসদ মনোনয়নের মাধ্যমে গঠন করিবেন।

সভাপতি, ৩ জন সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদিকা, সাংগঠনিক সম্পাদিকা, প্রচার সম্পাদিকা, সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা ও ১৫ জন সদস্যা লইয়া বাংলাদেশ মহিলা উপ-সংসদ গঠিত হইবে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা এই উপ- সংসদের সাধারণ সম্পাদিকা থাকিবেন। জেলা, নগর, (ঢাকা) ও উহাদের নিম্নস্থ উপ-সংসদ সমূহ বাংলাদেশ উপ-সংসদের অনুরূপ হইবে।

যুব সম্পাদক :

একজন যুব কর্মীকে যুব বিভাগের (যাহা যুবলীগ নামে অভিহিত হইবে) সম্পাদক নির্বাচন করা হইবে। তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানে একটি যুব ফ্রন্ট গঠন করিয়া সারাদেশে যুব সমাজকে সদস্যভুক্ত করিবেন । তাহার অধীনস্থ যুব শাখার যাবতীয় ব্যয়ভার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তহবিল হইতে বহন করা হইবে।

দেশের যুবশক্তিকে সুসংহত করিয়া দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণার্থে যুবশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো, যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং যুবশক্তিকে সেবামূলক কাজে প্রবৃত্ত করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে সফল করিয়া তোলাই হইবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব শাখার উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি যুব সম্পাদকের নেতৃত্বে জেলা, পর্যন্ত অনুরূপ উপ- গঠন করিবেন। তিনি ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি খুব উপ-সংসদ মনোনয়নের মাধ্যমে গঠন করিবেন।

সভাপতি, ৩ জন সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক, সমাজ কল্যান সম্পাদক ও ১৫ জন সদস্য পইচা উপরিউক্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের খুব উপ-সংসদ গঠিত হইবে এব বাংলাদেশ আওয়ামী খুব লীগের যুব সম্পাদক এই উপ-সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকিবেন। জেল, নগর (ঢাকা) ও উহাদের নিগ্রহ উপ-সংসদসমূহ বাংলাদেশ উপ- সংসদের অনুরূপ হইবে।

(ঙ) কোষাধ্যক্ষঃ

প্রতিষ্ঠানের সমস্ত অর্থ তাহার নিকট গচ্ছিত থাকিবে। তিনি সাধারণ সম্পাদকের নিকট হইতে লিখিত রসিদ পাইয়া অর্থ প্রদান করিবেন। ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের যুক্ত স্বাক্ষরে উঠানো যাইবে ।

 

সংসদীয় বোর্ড

২৪। (ক) বাংলাদেশ আইন সভার নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য একটি সংসদীয় (পার্লামেন্টারী) বোর্ড গঠিত হইবে।

(খ) উক্ত বোর্ড ১১ জন সদস্য সমবায়ে গঠিত হইবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আইন সভার আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের নেতা- এই ৩ জন পদাধিকার বলে উক্ত বোর্ডের সদস্য থাকিবেন। বাকি ৮ জন সদস্য আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সদস্যদের মধ্য হইতে কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন । বোর্ডের কার্যকাল কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে। পদাধিকারবলে যে ৩ জন সদস্য থাকিবেন তাহাদের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিক পদের অধিকারী হইলে তাঁহাদের অতিরিক্ত পদের জন্য নির্দিষ্ট আসনে কাউন্সিল কর্তৃক নুতন সদস্য নির্বাচিত হইবেন ।

(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদাধিকারবলে উক্ত বোর্ডের সভাপতি থাকিবেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদাধিকারবলে উক্ত বোর্ডের সম্পাদক থাকিবেন।

(ঘ) উক্ত বোর্ড নির্বাচন সম্পর্কীয় যাবতীয় কার্য সম্পন্ন করিবেন। বোর্ড নির্বাচনী কর্মসূচি প্রণয়ন ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবে। নির্বাচনে যাঁহারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী হইবেন তাঁহারা উক্ত বোর্ডের নিকট মনোনয়ন প্রার্থনা করিয়া যে দরখাস্ত দাখিল করিবেন তাহার অনুরূপ এক কপি দরখাস্ত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদকের মাধ্যমে লিখিত রশিদ লইয়া বা পোস্টাল রেজিস্ট্রেশন যোগে পাঠাইবেন।

জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ উক্ত মনোনয়ন প্রার্থীদের গুণাগুণ ও জনপ্রিয়তা প্রভৃতি বিষয় পুরাপুরিভাবে বর্ণনা করিয়া তাঁহাদের সুপারিশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের কাছে পাঠাইবেন। সংসদীয় বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সিদ্ধান্তের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করিবে । কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।

সংসদীয় পার্টি

(ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সদস্য আইনসভা বা পরিষদের সভা নির্বাচিত হইবেন তাঁহারা উক্ত আইন সভা বা পরিষদে আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি গঠন করিতে ও উহার নিজস্ব কর্মকর্তা নির্বাচন করিতে বাধ্য থাকিবেন। সংসদীয় পার্টিভুক্ত প্রত্যেক সদস্য উক্ত পার্টির সিদ্ধান্ত মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন। উক্ত পার্টির সংখ্যাগুরু সদস্যদের সিদ্ধান্তই পার্টির সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে কিন্তু উ সংসদীয় পার্টি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের মূল নীতি বা কোনো ধারার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে না।

(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির একজন লিডার ও একজন ডেপুটি লিডার থাকিবেন এবং প্রয়োজনবোধে উক্ত পার্টি অন্যান্য কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করিয়া নির্বাচন দ্বারা তাহা পূরণ করিতে পারিবে

(গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির মনসাপণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের উপদেশ ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় তাহাদের বিরুদ্ধে ২২-(গ) ধারা প্রযোজ্য হইবে।

(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি এই ধারার (খ) উপধারা মতে কর্মকর্তা নির্বাচন করিবার পর কর্মকর্তাগণ এক বৈঠকে মিলিত হইয়া তাহাদের নিজ নিজ কার্যাবলী স্থির করিয়া লইবেন। কিন্তু যদি স্থির করিতে তাঁহারা অক্ষম হন তাহা হইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ উহা চূড়ান্তভাবে স্থির করিয়া দিবেন ।

(ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টির সদস্যগণ তাহাদের পার্টির তহবিলে ৫.০০ টাকা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তহবিলে ২০.০০ টাকা, নিজস্ব জেলা আওয়ামী লীগ তহবিলে ১৫.০০ টাকা ও নিজস্ব থানা আওয়ামী লীগ তহবিলে ১০.০০ টাকা একুনে মোট ৫০.০০ টাকা মাসিক চাঁদা দিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ তাঁহাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখার পারস্পরিক সম্পর্ক ও মর্যাদা

২৬। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অধীনে প্রত্যেক জেলায় একটি করিয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও ঢাকা নগরে একটি ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে।

(খ) প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে প্রতি থানায় একটি করিয়া থানা আওয়ামী লীগ এবং জেলা সদরে থানার মর্যাদাসম্পন্ন পৌর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে ।

(গ) ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রতি ইউনিয়নে একটি করিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে এবং সেইগুলি থানা আওয়ামী লীগের মর্যাদাসম্পন্ন হইবে।

(ঘ) ঢাকা নগরের ইউনিয়নসমূহের প্রতি ইউনিটে একটি করিয়া ইউনিট আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে এবং ইহা নগর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক ইউনিটরূপে গণ্য হইবে ।

(ঙ) প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে প্রতি থানায় একটি করিয়া থানা আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে।

(চ) প্রত্যেক থানা আওয়ামী লীগের অধীনে প্রতি ইউনিয়ন এবং শহর বা পৌর এলাকায় একটি করিয়া ইউনিয়ন, শহর বা পৌর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে ।

(ছ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ গঠন করার সময় প্রত্যেক গ্রাম হইতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সদস্য গ্রহণ করিতে হইবে ।

 

জেলা আওয়ামী লীগ

২৭। বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে একটি জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে:-

(ক) প্রতি থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ২৫ জন সদস্য।

(খ) প্রতি জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে প্রতি থানা হইতে কো-অপশানকৃত ৫ জন করিয়া সদস্য।

২৮। (ক) জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের মোট সদস্যের এক-পঞ্চমাংশ কাউন্সিলার সভায় উপস্থিত হইলেই কোৱাম হইবে ।

খ) প্রত্যেক কাউন্সিলারকে প্রতি দুই বৎসরের জন্য ৫.০০ টাকা চাঁদা দিতে হইবে।

(গ) জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিলারদের দেয় উরু চাদা আদায়ের ব্যাপারে জেলা কার্যনির্বাহ সংসদ গঠনতন্ত্রের ১০ ও ১১ ধারায় উল্লেখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।

২৯। প্রত্যেক জেলা আওয়ামী লীগে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা থাকিবেন এবং জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল উহার ি বার্ষিক নির্বাচনী অধিবেশনে উক্ত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে।

(ক) সভাপতি

(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি

(গ) সাধারণ সম্পাদক

(ঘ) সাংগঠনিক সম্পাদক

(ঙ) প্রচার সম্পাদক

(চ) অফিস সম্পাদক

(ছ) ধর্ম সম্পাদক

(জ) কৃষি সম্পাদক

(ঝ) সমাজকল্যান ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক

(ঞ) মহিলা সম্পাদিকা (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জেলার মহিলা ফ্রন্ট)

(ট) যুব সম্পাদক (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলার যুব শাখা)

(ঠ) কোষাধ্যক্ষ।

৩০। উপরোক্ত জেলা আওয়ামী লীগ কর্মকর্তাগণ ও জেলা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ১৮ জন সদস্য সমবায়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ গঠিত হইবে এবং ৭ জন সদস্য সভায় উপস্থিত হইলেই কোরাম হইবে ।

৩১। জেলার যে সমস্ত বিষয় সম্বন্ধে এই গঠনতন্ত্রে কোনো উল্লেখ নাই সে সমস্ত ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে ।

 

ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ

৩২। ঢাকা পৌর এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের মর্যাদা সম্পন্ন একটি নগর আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে।

৩৩। নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে :-

(ক) নগরের অন্তর্গত প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত ১০ জন সদস্য ।

(খ) নগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে অপশনকৃত ১৫ জন সদস্য।

৩৪। ঢাকা নগর আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে :-

(ক) সভাপতি

(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি

(গ) সাধারণ সম্পাদক

(ঘ) সাংগঠনিক সম্পাদক

(ঙ) প্রচার সম্পাদক

(চ) অফিস সম্পাদক

(ছ) শ্রম সম্পাদক

(জ) সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক

(ঝ) মহিলা সম্পাদিকা (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মহিলা ফ্রন্ট)

(ঞ) যুব সম্পাদক (যাহা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুব শাখা)

(ট) কোষাধ্যক্ষ

৩৫। (ক) নগর আওয়ামী লীগ অন্তর্গত প্রত্যেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থানা আওয়ামী লীগের মর্যাদাসম্পন্ন হইবে এবং নগর আওয়ামী লীগের অনুরূপ কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে। ৩৬ (ক) (খ) (3) উপধারা এবং ৪১ ধারাও উহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে।

(খ) নগরের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ইউনিট আওয়ামী লীগগুলো প্রাথমিক ইউনিট বলিয়া গণ্য হইবে এবং এক্ষেত্রে ৩৮, ৩৯ ও ৪১ ধারা প্রযোজ্য হইবে।

(গ) নগর আওয়ামী লীগ অন্যান্য ক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতি প্রযোজ্য নিয়ম-কানুন অনুসরণ করিবে ।

থানা আওয়ামী লীগ

৩৬। প্রতি থানায় একটি করিয়া থানা আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে এবং থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল নিম্নোক্তভাবে গঠিত হইবে

(ক) প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১০ জন সদস্য।

(খ) প্রত্যেক পৌর আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১০ জন সদস্য ।

(গ) শহর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ৭ জন সদস্য ।

(ঘ) থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল কর্তৃক উহার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে কো- অপশানকৃত ১৫ জন সদস্য

(ঙ) উপরোক্ত কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্যকে দ্বি-বার্ষিক ৩.০০ টাকা হারে চাঁদা প্রদান করিতে হইবে ।

৩৭। থানা আওয়ামী লীগ নিম্নলিখিত কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে এবং অন্যান্য ব্যাপারে উহার প্রতি জেলার নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে :-

(ক) সভাপতি

(খ) ৩ জন সহ-সভাপতি

(গ) সাধারণ সম্পাদক

(ঘ) সাংগঠনিক সম্পাদক

(ঙ) প্রচার সম্পাদক

(চ) অফিস সম্পাদক

(ছ) শ্রম সম্পাদক

(জ) কৃষি সম্পাদক

(ঝ) সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক

(ঞ) মহিলা সম্পাদিকা মহিলা ফ্রন্ট

(ট) যুব সম্পাদক- যুব শাখা

(ঠ) কোষাধ্যক্ষ।

পৌর ও শহর আওয়ামী লীগ

৩৮। প্রত্যেক পৌর এলাকায় ও শহরে নিম্নলিখিত সদস্যগণ সমবায়ে পৌর ও শহর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল গঠিত হইবে –

(ক) প্রত্যেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হইতে নির্বাচিত ১৫ জন সদস্য।

(খ) প্রত্যেক পৌর ও শহর আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনী সভার প্রথম অধিবেশনে কো-অপশানকৃত ১৫ জন সদস্য।

(গ) পৌর ও শহর আওয়ামী লীগসমূহ ৩৫ ধারার বর্ণনা অনুযায়ী কর্মকর্তা নির্বাচন করিবে এবং অন্যান্য ব্যাপারে উহাদের ক্ষেত্রে থানা আওয়ামী লীগের নিয়মাবলী প্রযোজ্য হইবে ।

(ঘ) পৌর ও শহর আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন প্রাথমিক ইউনিট রূপে গণ্য হইবে এবং উহার ক্ষেত্রে ৩৯, ৪০ ও ৪২ ধারা প্রযোজ্য হইবে ।

 

প্রাথমিক আওয়ামী লীগ

৩৯। (ক) প্রত্যেক ইউনিয়নে বা নগর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত প্রত্যেক ইউনিটে অন্ততপক্ষে ৫০০ জন সদস্য অবশ্য সংগ্রহ করিতে হইবে।

(খ) উপরোক্ত শাখা আওয়ামী লীগগুলির প্রাথমিক সদস্যগণই যথাক্রমে ঐ শাখাসমূহের কাউন্সিলার বা গণ্য হইবেন ।

৪০। (ক) প্রত্যেক ইউনিয়ন পৌর বা ইউনিট আওয়ামী লীগে থানার অনুরূপ কর্মকর্তা ছাড়াও ২৫ জন সদস্য সমবায়ে একটি কার্যনির্বাহ সংসদ গঠিত হইবে।

(খ) কর্মকর্তা ও প্রত্যেক কার্যনির্বাহ সংসদের সদস্যকে দ্বি-বার্ষিক ২.০০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হইবে।

৪১ । ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ইউনিটগুলো ছাড়া পৌর এলাকার বা ইউনিয়নের অন্তর্গত যে সমস্ত ইউি থাকিবে তাহাদের আলাদা কোনো ইউনিট আওয়ামী লীগ গঠিত হইবে না।

৪২। জেলা, নগর, থানা, শহর, পৌর বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সভা ও কার্যনির্বাহ সংসদের সর ক্ষেত্রে যথাক্রমে গঠনতন্ত্রের ১৮ ও ২০ ধারা প্রযোজ্য হইবে ।

প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা

(ক) কোনো সদস্য আওয়ামী লীগের আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মসূচি, গঠনতন্ত্র, নিয়মাবলী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করিলে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, কার্যনির্বাহ সংসদ সংসদীয় বোর্ড বা সংসদীয় পার্টির বিরুদ্ধে কোনো কার্য করিলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহ সংসদ তাঁহার বিরুদ্ধে যে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে ।

(খ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়া কাউন্সিলের নিকট প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে আপীল করা চলিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।

(গ) আপীলের আবেদনপত্র সাধারণ সম্পাদক প্রাপ্তির রশিদ দিয়া গ্রহণ করিবেন এবং কাউন্সিলের নিকট পেশ করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় কাউন্সিলের যে কোনো সদস্য সভাপতির অনুমতি লইয়া বিষয়টি বিবেচনা ও সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উত্থাপন করিতে পারিবেন।

(ঘ) কাউন্সিল সভা আহ্বানের নোটিশ দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে উক্ত আপীলের দরখাস্ত সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করিতে হইবে। সাধারণ সম্পাদক এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলো কাউন্সিলের কার্যসূচিভুক্ত করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(ঙ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করিয়া উপযুক্ত কারণ দর্শাইবার জন্য সুযোগদানের উদ্দেশ্যে সাধারণ সম্পাদক পোস্টাল রেজিস্ট্রেশনযোগে নোটিশ দিতে বাধ্য থাকিবেন ।

(চ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হইলে অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে যে কোনোরূপ শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের থাকিবে ।

(ছ) প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি প্রদানের জন্য নিম্নতম যে কোন শাখা আওয়ামী লীগের লিখিত অনুরোধপত্র পাওয়ার পর থানা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ নিজেদের সিদ্ধান্তসহ উক্ত অনুরোধপত্র জেলা কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট পাঠাইবে।

জেলা কার্যনির্বাহ সংসদ এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া উক্ত বিষয় বিবেচনা পূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট প্রেরণ করিবে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ স্বয়ং প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে উপরোক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আবশ্যকতা বোধ করিলে জেলা কার্যনির্বাহ সংসদের সিদ্ধান্ত আপন করিয়া বিষয়টি বিবেচনা পূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট প্রেরণ করিবে ।

(জ) প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ক্ষমতা একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের থাকিবে।

(ঝ) প্রত্যেক শাখা আওয়ামী লীগকে তাহার উর্ধ্বতন শাখার নিকট হইতে মঞ্জুরি গ্রহণ করিতে হইবে। ইহা ছাড়া আবশ্যকবোধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ যে কোনো শাখাকে সরাসরি মঞ্জুরি প্রদান করিতে পারিবে।

(ঞ) কোনো শাখা আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত কোনো গোলযোগ বা বিরোধ দেখা দিলে ঊর্ধ্বতন শাখা উহা নিষ্পত্তি করিতে পারিবে। কিন্তু এই নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট আপীল করা চলিবে এবং সেই ক্ষেত্রে উহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল

৪৪ । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সংক্রান্ত গোলযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৫ সদস্য সমবায়ে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে এবং এই ট্রাইব্যুনালের উপর যে কোনো ক্ষমতা ন্যস্ত করিতে পারিবে । এই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট আপীল করা চলিবে। কার্যনির্বাহ সংসদের সিদ্ধান্তই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে ।

আওয়ামী লীগ তহবিল

৪৫। (ক) প্রত্যেক কাউন্সিলারের ১০.০০ টাকা হারে চাঁদা।

(খ) আইন সভা বা পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ২৫.০০ টাকা হারে চাঁদা

(গ) প্রত্যেক জেলার মঞ্জুরি ফি বাবদ ৫.০০ টাকা।

(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার দফতর কর্তৃক প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বিক্রয়লব্ধ অর্থ ।

(ঙ) এককালীন দান।

(চ) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ।

(ছ) সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ

(জ) সাহায্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ ।

(ঝ) প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত হওয়ার জন্য দেয় বি-বার্ষিক চাঁদার অংশ ।

জেলা বা নগর আওয়ামী লীগ তহবিল

(ঞ) জিলা বা নগর আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সদস্যদের প্রত্যেকের দ্বি-বার্ষিক ৫.০০ টাকা হারে চাঁদা ।

(ট) প্রত্যেক থানা বা পৌর এলাকার এবং নগর আওয়ামী লীগের অধীনস্থ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মঞ্জুরি ফী বাবদ ১৫.০০ টাকা।

(ঠ) আইনসভার স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ১৫.০০ টাকা হারে চাঁদা ।

(ড) এককালীন দান ।

থানা আওয়ামী লীগ তহবিল

(ঢ) প্রত্যেক কাউন্সিলারের দ্বি-বার্ষিক ১.০০ টাকা হারে চাঁদা ।

(ণ) প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগে মঞ্জুরী ফি বাবদ ২.০০ টাকা

(ত) আইন সভার স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের ২০.০০ টাকা হারে চাঁদা

(থ) এককালীন দান।

ইউনিয়ন বা পৌর এবং নগরের অন্তর্গত ইউনিট আওয়ামী লীগ তহবিল

(দ) কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহ সংসদের সদস্যদের প্রত্যেকের দ্বি-বার্ষিক ১.০০ টাকা হারে চাঁদা ।

(ধ) এককালীন দান ।

আওয়ামী লীগ সংসদীয় পার্টি তহবিল

(ন) ২৫(৪) উপধারা অনুযায়ী সংসদীয় পার্টির প্রত্যেক সদস্যের মাসিক ৫.০০ টাকা চাঁদা।

(প) সদস্যের এককালীন দান ।

৪৬। আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত হওয়ার জন্য দেয় দ্বি-বার্ষিক ২.০০ টাকা চাঁদা নিম্নোক্ত হারে বিভিন্ন শাখার মধ্যে ভাগ করা হইবে।

(ক) প্রাথমিক ইউনিট ১.০০ টাকা।

(খ) থানা ৪০ পয়সা।

(গ) জেলা – ৪০ পয়সা।

(ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০ পয়সা

(ঙ) নগরের অন্তর্গত কোনো থানা আওয়ামী লীগ না থাকায় উপরোক্ত ২.০০ টাকা চাঁদার ১.০০ টাকা ইউনিট আওয়ামী লীগ, ৬০ পয়সা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ২০ পয়সা নগর আওয়ামী লীগ এবং অবশিষ্ট ২০ পয়সা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পাইবে।

 

আওয়ামী লীগ তহবিল পরিচালনা

৪৭। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় জেলা বা নগর, থানা, ইউনিয়ন বা পৌর এবং নগরের ইউনিট এবং আওয়ামী সংসদীয় পার্টিসিল স্বাক্ষর এবং নম্বরযুক্ত রশিদ দিয়া সকল চাঁদা বা দান গ্রহণ করিবেন এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখিবেন । আদায়কৃত অর্থ বাংলাদেশের যে কোনো তফসিলভুক্ত ব্যাংকে জমা রাখা হইবে। ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ নিজ নিজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ্যের যুক্ত স্বাক্ষরে উঠানো যাইবে। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের সময় সকল শাখার সাধারণ সম্পাদক তাহাদের নিজ নিজ শাখার আয়-ব্যয়ের হিসাব অগ্নে অডিট করাইয়া দাখিল ও প্রকাশ করিবেন ।

বিবিধ বিধান

৪৮। জেলা, নগর, থানা, শহর, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সভা বৎসরে অন্ততঃ দুইবার কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করিবে। ইহা ছাড়া এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের লিখিত রিকুইজিশনপত্র সাধারণ সম্পাদকের নিকট পেশ করার ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক অধিবেশন আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় ১৫(খ) ধারা অনুসারে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন।

৪৯। জেলা, নগর, থানা, শহর, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সভা অন্ততঃ পক্ষে মাসে একবার আহবান করিতে হইবে। ইহা ছাড়া ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক সভা আহবান করিতে বাধ্য থাকিবেন। অন্যথায় রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ ৪৯ ধারায় বর্ণিত কর্মপন্থা অবলম্বন করিতে পারিবেন।

৫০। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সভা আহ্বানের জন্য ২১ জন সদস্যের রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক কার্যনির্বাহ সংসদের সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন। সাধারণ সম্পাদক

ছাড়াও রিকুইজিশনপত্রের এক কপি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিকট প্রদান করিতে হইবে। রিকুইজিশনপত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতি সভা আহ্বান না করিলে রিকুইজিশনকারী সদস্যগণ নিজেরাই ৪ দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।

৫১। রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ডেপুটি হাইকমিশনার, ট্রেড কমিশনার, কনসাল, আইন সভার সভাপতি বা সহ-সভাপতি, মন্ত্রী, স্টেটমন্ত্রী, ডেপুটি মন্ত্রী, পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী, সরকারী দলের চিহ্ন হুইপ, অ্যাডভোকেট জেনারেল বা উক্ত পদসমূহের অনুরূপ কোনো সরকারি চাকুরি বা পদ গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য গঠনতন্ত্রের ৬, ২৯, ৩৪ ৩ ৩৭ ধারায় বর্ণিত কোন কর্মকর্তা থাকিতে পারিবেন না।

আওয়ামী লীগের কোন কর্মকর্তা যদি উপরোক্ত পদসমূহের কোনো একটি গ্রহণ করেন তবে উক্ত পদপ্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগ কর্মকর্তার পদ ত্যাগ করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাহার দায়িত্বভার বুঝাইয়া দিবেন। অন্যথায় এক মাস পরে উক্ত কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানের পদ আপনাআপনি শূন্য বলিয়া গণ্য হইবে ।

৫২। আওয়ামী লীগের কোন সদস্য অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হইতে পারিবেন না কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সহিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনোরূপ রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখিতে পারিবেন না। যদি কোনো সদস্য উপরি উক্ত বিধান লংঘন করেন তা হইলে তার সদস্য পদ বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

৫৩। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো ভূতপূর্ব বা বর্তমান সদস্য আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভূক্ত হইতে চাহিলে তিনি তাঁহার নিজের জেলার জেলা আওয়ামী লীগের অনুমতি চাহিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিকট পত্র দিবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের অনুমতি ছাড়া উপরোক্তরূপ কোনো ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য শ্রেণীভুক্ত করা যাইবে না।

তবে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সিদ্ধান্ত উপরোক্ত ব্যক্তির মনঃপুত না হইলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের নিকট উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদ ইচ্ছা করিলে সরাসরিভাবেও যে কোনো ব্যক্তিকে প্রাথমিক সদস্য শ্রেণিভুক্ত হইবার অনুমতি নিতে পারিবে। কিন্তু প্রত্যেক অবস্থায়ই নবাগত সদস্যগণ দুই বৎসরের মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকর্তার পদ গ্রহণ করিতে পারিবেন না ।

৫৪। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোনো কর্মকর্তা বা কার্যনির্বাহ সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ পরিষদ দলের যে কোনো সদস্য আওয়ামী লীগের নিম্নতম যে কোন শাখার যে কোনো সভা বা অধিবেশনে যোগদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন; কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না।

(খ) প্রত্যেক জেলা, নগর, থানা, পৌর বা শহর আওয়ামী লীগের যে কোনো কর্মকর্তা অথবা কার্যনির্বাহ সংসদ সদস্য নিম্নতম যে কোনো শাখার যে কোনো সভা বা অধিবেশনে যোগদান করিয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন; কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না ।

৫৫ । অত্র গঠনতন্ত্রে যেসব বিষয়ের উল্লেখ নাই সেসব বিষয়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ সংসদের থাকিবে ।

৫৬। (ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের নির্বাচন, বার্ষিক বা বিশেষ অধিবেশনে সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের ভোটাধিক্যে অত্র গঠনতন্ত্রের বিধানসমূহ বা যে কোন বিধান বা তাহার অংশ বিশেষ পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা চলিবে।

(খ) গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করিবার উদ্দেশ্যেই যদি কাউন্সিল সভা আহ্বান করা হয় তবে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাধিক্যের ভোটে উহা করা চলিবে ।

(গ) কাউন্সিলের নির্বাচনী সাধারণ বা বিশেষ অধিবেশনকে উপরোক্ত (খ) উপধারায় উল্লেখিত কাউন্সিল হিসাবে গণ্য করিতে হইলে কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বানের নোটিশে উক্ত বিষয় কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

 

Leave a Comment