প্রজাস্বত্বের বন্দোবস্ত, আকবরের শাসনকালের গোড়ার দিকে প্রতি বছর প্রজাস্বত্বের বন্দোবস্ত করা হতো, সেটা ছিল খুব উদ্বেগের বিষয়। আকবরের পঞ্চদশ রাজ্যবর্ষে (১৫৭০-৭১ খ্রিঃ) মুজফ্ফর খাঁ তুর্বতী— যিনি ওই সময় পর্যন্ত দীওয়ান (অর্থমন্ত্রী) ছিলেন— তিনি টোডরমলের সহায়তায় প্রাদেশিক কানুনগোদের জমাবন্দিকে দশজন প্রধান কানুনগোর তত্ত্ববধানে নতুন করে জমাবন্দি তৈরি করান।
প্রজাস্বত্বের বন্দোবস্ত | বাংলা-বিহার বিজয় | আকবর
পঞ্চবিংশতিতম রাজ্যবর্ষে (১৫৭৯-৮০ খ্রিঃ) শাহ মনসুর বাৎসরিক জমাবন্দির বদলে দশ-সালা জমাবন্দি শুরু করেন। সেজন্য পঞ্চদশ থেকে চতুর্বিংশ রাজ্যবর্ষ পর্যন্ত দশ বছরের প্রজাস্বত্বের রাজস্বের গড়কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
এই কাজে টোডরমল সহায়তা করছিলেন, কিন্তু বাংলায় বিদ্রোহের জন্য তাঁকে সেদিকে যেতে হয়, তখন সমস্ত কাজের ভার পড়ে শাহ মনসুরের উপর। তিনি নতুন জমাবন্দি ও প্রজাস্বত্বের বন্দোবস্ত করেই সন্তুষ্ট হননি, তাছাড়ও এই সময় (১৫৮০ খ্রিঃ) সাম্রাজ্যকে সর্বপ্রথম বারোটি সুবায়ত বিভক্ত করা হয় ।
আকবরের আমলে বহু প্রাসাদ , সমাধি , উদ্যান ও দুর্গ নির্মিত হয় । তার আমলে যে শিল্পরীতি গড়ে ওঠে তাতে ভারতীয় ও পারসিক শিল্পরীতির মিশ্রণ লক্ষ করা যায় । তার আমলে নির্মিত ফতেপুর সিক্রি , সেলিম চিস্তির সমাধি , দেওয়ান – ই – আম , দেওয়ান – ই – খাস , জামি মসজিদ , বুলন্দ দরওয়াজা , হুমায়ুনের সমাধি , সেকেন্দ্রার সমাধি ভবন মােগল শিল্পের উল্লেখযােগ্য উদাহরণ । ফতেপুর সিক্রির স্থাপত্য – সৌন্দর্যকে ফাগুসন মহৎ প্রাণের প্রতিবিম্ব ’ বলে অভিহিত করেছেন । ডঃ স্মিথ – এর মতে , তা হল ‘ পাথরে নির্মিত কল্পনা ও স্বপ্ন ’ ।
চিত্রশিল্পের ক্ষেত্রেও আকবরের রাজত্বকাল এক উল্লেখযােগ্য অধ্যায় । চিত্রশিল্পের প্রসারের জন্য তিনি আবদুস সামাদ – এর নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ স্থাপন করেন । তার আমলে চিত্রশিল্পে হিন্দু – মুসলিম সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় পরিলক্ষিত হয় ।
তিনি প্রায় একশাে জন হিন্দু – মুসলিম শিল্পীর পৃষ্ঠপােষকতা করতেন । তার আমলের ১৭ জন বিখ্যাত শিল্পীর মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন হিন্দু । হিন্দু শিল্পীদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন তারাচাঁদ , জগন্নাথ , যশােবন্ত প্রমুখ । তারা পারসিক গল্প , রামায়ণ – মহাভারত ও আরব্য উপন্যাসের নানাবিধ কাহিনি চিত্রে রূপায়িত করতেন ।
