রহীম শ্ৰেষ্ঠ লেখক, চৌত্রিশ বছর বয়সে (১৫৯০ খ্রিঃ) রহীম আকবরের আদেশে বাবরের আত্মচরিত ‘তুক্-বাবরা’ ফারসিতে অনুবাদ করেন । বাবর আমাদের দেশে একজন বিজেতা, দক্ষ শাসক ও সেনাপতি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। কিন্তু মধ্য-এশিয়ায় তাঁকে একজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করা হয়, গদ্য ও পদ্য উভয় শাখাতেই।
রহীম শ্ৰেষ্ঠ লেখক | রহীম | আকবর
‘তুজ্ক্-বাবরী’ চগতাই তুর্কি গদ্যের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। সে-সময় যাকে চগতাই তুর্কি বলা হতো, আজকাল তাকে উজবেকী বলা হয়। উজবেকী স্কুল-কলেজে বাবরের রচনা অত্যন্ত মর্যাদা দিয়ে পড়ানো হয়। উক্ত ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দেই রহীম জৌনপুর জায়গির পেয়েছিলেন। এর ফলে তিনি উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পান— রহীমের বরওয়াই ছন্দে রচিত কবিতাগুলিতে অওধী-ভোজপুরীর প্রভাব পড়েছে।
জৌনপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘকাল বজায় থাকেনি, কারণ পরের বছর তিনি জায়গির পান মুলতান। আকবর তখন ওইদিকে অগ্রসর হতে চেয়েছিলেন, সেজন্যই তাঁকে মুলতানে জায়গির দেওয়া হয়। সাঁইত্রিশ বছর বয়সে (১৫৯৩ খ্রিঃ) রহীম আকবরের জন্য কন্দাহার জয় করেন। বাদশাহ রহীমের জয়লাভকে নিজেরই জয়লাভ মনে করতেন। রহীমের প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসার এটাও একটা কারণ যে, যেখানে নিজের উত্তরাধিকারী কর্তৃক বিদ্রোহের আশঙ্কা ছিল, সেখানে রহীমের দিক থেকে কখনও সেই আশঙ্কার সম্ভাবনা ছিল না। সবচেয়ে বেশি বিপদ ও সঙ্কটের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকত যেখানে, সেখানেই তিনি রহীমকে পাঠাতেন। আহমদনগরকে নিজের সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন আকবর। বীরাঙ্গনা চাঁদ বিবির সঙ্গে লড়াই।
অন্যান্যরা অকৃতকার্য হওয়ার পর উনচল্লিশ বছর বয়স্ক (১৫৯৫ খ্রিঃ) রহীমকে সেখানে পাঠানো হয়। লড়াই সহজ ছিল না, তবে রহীমও ছিলেন অসাধারণ সেনাপতি। ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দের ৫ই ফেব্রুয়ারি তিনি আহমদনগর জয় করতে সমর্থ হন। সেই বছরই তাঁর পত্নী মহাবানু ও পুত্র হয়দরীর মৃত্যু হয় ।
