আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় – আওয়ামী লীগের নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতনের পর বিশ্ব পরিস্থিতিতে গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয়। একদিকে যেমন স্নায়ুযুদ্ধ যুগের অবসান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একনেক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হতে শুরু করে ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্রকে অন্যতম রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করে।

আওয়ামী লীগের নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ
সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত খাতকে প্রাধান্য ও সীমিতভাবে ব্যক্তি খাত রেখে মিশ্র অর্থনীতিকে দলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-কৌশল হিসেবে পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ‘৭৫-এর পরেও আওয়ামী লীগ ঐ নীতি অনুসরণ করে আসছিল। এটা পরিবর্তিত বিশ্ববাস্তবতা এবং জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।
৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো ইতোমধ্যে মিত্র অর্থনীতির কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসেছিল সামরিক শাসক ও দক্ষিণপন্থি বিএনপি ধনতান্ত্রিক বিকাশের নামে একটি বিকৃত দুর্বত্তায়িত লুটেরা অর্থনীতির জন্ম দিয়েছিল, যা বাজার অর্থনীতির কাঠামোয় সুস্থ অর্থনৈতিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করেছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এতদিনের অনুসৃত সমাজতন্ত্রমুখীন’ অর্থনৈতিক নীতি দেশের জায়মান উদ্যোক্তা শ্রেণি, বিকাশোনুষ মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত ও ধনিক শ্রেণির মধ্যে অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার মনস্তত্ত্ব জন্য দিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় গিয়ে ঢালাও জাতীয়করণ করতে পারে, সংকুচিত করতে পারে ব্যক্তিমালিকানা, ইত্যাকার সন্দেহ-সংশয় থাকায় প্রধানত মধ্যবিত্ত শ্রেণির এই দলটির মধ্যেও এক ধরনের ভাবাদর্শগত টানাপড়েন চলছিল। ১৯৯২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে প্রতিযোগিতামূলক মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করে।
দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সমাজতন্ত্রের মূল চেতনা- শোষণহীন সমাজের প্রতি দলের আনুগত্যের কথা পুনরুল্লেখ করে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের পথে নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণা ও নীতিমালা মধ্যবিত্ত ও উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ী শ্রেণির সন্দেহ-সংশয় দূর করতে এবং এসব শ্রেণির মধ্যে দলের প্রভাব ও ভিত্তি সম্প্রসারিত-সংহত করতে সহায়ক হয়।

১৯৯২ সালের ১৯, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের দ্বিতীয় দিন, ২০ সেপ্টেম্বর নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকে দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনী সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও জিল্লুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কাউন্সিল। কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যগণ হচ্ছেন-
সভাপতি
১. শেখ হাসিনা এমপি
সভাপতিমণ্ডলী
২. সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন
৩. আবদুস সামাদ আজাদ এমপি
৪. আবদুল মান্নান
৫. কামরুজ্জামান
৬. বেগম সাজেদা চৌধুরী এমপি
৭. মহিউদ্দিন আহমেদ এমপি
৮.ডা. আলাউদ্দিন
৯. পুলিন দে
১০. আমির হোসেন আমু
১১. তোফায়েল আহমেন এমপি
১২. আবদুর রাজ্জাক এমপি
১৩. আবদুল মমিন
১৪. ডা. মো. সেলিম
সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
১৫. জিল্লুর রহমান – সাধারণ সম্পাদক
১৬.আবদুল জলিল – যুগ্ম সম্পাদক
১৭. শামসুর রহমান খান শাহাজাহান – যুগ্ম সম্পাদক
সম্পাদকমন্ডলী
১৮. মো নাসিম এমপি – সাংগঠনিক সম্পাদক
১৯. মোজাফফর হোসেন পল্টু – প্রচার সম্পাদক:
২০. ফজলুল হক বিএসসি – দফতর সম্পাদক
২১. মতিয়া চৌধুরী এমপি – কৃষি সম্পাদক
২২. আতাউর রহমান কায়সার – অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক
২৩. বেগম মন্নুজান সুফিয়ান – শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক
২৪. অধ্যাপক আবু সাঈদ – তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
২৫. ওবায়দুল কাদের – শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক
২৬. আলমগীর কুমকুম – সহ-শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
২৭. আবুল হাসান চৌধুরী – আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
২৮. ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন – স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক
২৯. ব্যারিস্টার কেএম নবী – আইন বিষয়ক সম্পাদক
৩০. অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন – সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক (অসম্পূর্ণ)

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উত্থাপন
১৯৮৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কারচুপি ও ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়। আওয়ামী লীগ উপ-নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে। উ নির্বাচনের মতোই বিএনপি সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও কারচুপি, ভোটের বাক্স ছিনতাই, সন্ত্রাস, হত্যা এবং কালো টাকার খেলা চলতে থাকে।
সর্বশেষ মাগুরা উপ-নির্বাচনে কোনো রাখঢাক না করেই বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী আসনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। প্রধ নির্বাচন কমিশনার মাগুরায় উপস্থিত থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা পালন করতে না পেরে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন।
১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে শেখ হাসিনা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করেন।
১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মেয়র পদে জয়লাভ করেন। কিন্তু সরকারি দলী পরাজিত কমিশনার প্রার্থীর ব্রাশফায়ারে ঐদিন ঢাকার লালবাগে ৬ জন আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থক নিহত হয়।
এটা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বিএনপির অধীনে সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। বিএনপির অব্যাহত ভোট ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির যৌক্তিকতা দেশবাসী গ্রহণ করতে থাকে।
গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গণসংগ্রাম
এদিকে ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর কুখ্যাত গোলাম আযম জামায়াতে ইসলামির আমির হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন পাকিস্তানি নাগরিক যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের সরাসরি রাজনীতিতে অবতীর্ণ হওয়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৯৯২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গোলাম আযম ও তার সহযোগীদের বিচারের লক্ষ্যে জাহানারা ইমামকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় জাতীয় সমন্বয় কমিটি একই লক্ষ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এই দুটি নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেই গণ- আদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ল মানুষের সমাবেশে গণ-আদালতের এজলাস বসিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য গোলাম আযমের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। গণ- আদালত-১ এর পক্ষে ১২টা ২০ মিনিটে এই রায় পাঠ করেন জাহানারা ইমাম। শেখ হাসিনা একে জনতার বিজয় হলে অভিহিত করেন। সরকার হারা ইমামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
গণ-আদালতে প্রদত্ত গোলাম আযমের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিতে বিএনপি শাসনামলে আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থনে সমন্বয় কমিটির ব্যানারে সমগ্র বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটির আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কবি সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম ও শেখ হাসিনা এক মঞ্চ থেকে গোলাম আযমের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। আন্দোলনের মুখে সরকার গোলাম আযমকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। হাইকোর্টে তার নাগরিকত্ব চ্যালেঞ্জ করা হয়। কিন্তু বিএনপি পরোক্ষভাবে বিচারিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তোলায় এবং আদালতকে প্রভাবিত করায় হাইকোর্ট গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল রাখেন।
এই আন্দোলনের ভেতর দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয় এবং এর পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অসহযোগ আন্দোলন ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
বিএনপির দুঃশাসন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে একগুয়ে মনোভাব দেশের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মতবিনিময় সভা, সেমিনার প্রভৃতির মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে স্ব স্ব দলের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে। ক্রমেই এ প্রশ্নে একটা সাধারণ ঐকমত্য সৃষ্টি হয়। ১৯৯৪ সালের ২৭ জুন প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে। এই রূপরেখা ঘোষণার পর আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। হরতাল, ধর্মঘট ছাড়াও রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ একের পর এক আন্দোলনের কর্মসূচি সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।
১৯৯৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা উত্তরবঙ্গে গণ-সংযোগের জন্য ট্রেন অভিযাত্রা শুরু করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোরে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, বোমাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালায় বিএনপি ক্যাডাররা। এর ফলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
দেশের এই অবনতিশীল পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় কমনওয়েলথ। ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর স্যার স্টিফেন নিনিয়ান কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেলের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় আসেন।
সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যের জন্য দুই প্রধান দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ও দৌড়ঝাঁপের পর ২৫ অক্টোবর সংলাপ ভেঙে যায়। ৬ ডিসেম্বর সংসদের বিরোধী দলগুলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এনডিপি দলীয় সংসদ সদস্যগণ একযোগে পদত্যাগ করেন।
১৯৯৫ সালের ১ মার্চ বিরোধী দলের অব্যাহত সংসদ বর্জনের এক বছর পূর্ণ হয়। ৯৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। দীর্ঘমেয়াদি লাগাতার হরতাল, সমাবেশ ইত্যাদি সরকারকে কার্যত অচল করে দেয়। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের দাবি ও বহুসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের প্রশ্নে অনড় থাকে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল ঘোষিত গণকারফিউয়ের মধ্যে বিরোধী দলের অংশগ্রহণবিহীন ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের মেয়ান ছিল মাত্র ১১ দিন; আর কার্যদিবস ছিল ৪ দিন।
বিরোধী দলগুলো ১৬ ফেব্রুয়ারি অসহযোগের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। অসহযোগ আন্দোলনে দেশ অচল হয়ে পড়ে। ২৫ ফেব্রুয়ারি এমেকা মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল এমেকার প্রস্তাব মধ্যস্থতার প্রত্যাখ্যান করে। ৯ মার্চ থেকে শুরু হয় লাগাতার অসহযোগ ১৯ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয় এবং খালেদা জিয়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রেসক্লাবের সামনে ‘জনতার মঞ্চকে ঘিরে বিরামহীন অবস্থান ও সমাবেশ চলতে থাকে।
১০ মার্চ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা হয়। ২০ মার্চ সচিবালয়ে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। ২১ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপিত হয়। একটানা অধিবেশনে ২২ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবলিত সংবিধান সংশোধনী পাস হয়। সরকার সেনাবাহিনী নামিয়েও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়।
২৮ মার্চ সচিবালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের দিনভর অবস্থান শেষে জনতার মঞ্চে এসে সরকারের প্রতি অসামরিক প্রশাসনের অনাস্থা প্রকাশের পটভূমিতে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া ও তার সরকার পদত্যাগ করে। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অসহযোগ প্রত্যাহার করা হয়। রক্তপাত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন এক অভিজ্ঞতার পথে পা বাড়ায়।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগেই, ২০ মে সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমকে রাষ্ট্রপতি বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করেন। তাকে গৃহবন্দি করা হয়। রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ ও জেনারেল নাসিমের ভূমিকা রহস্যাবৃত থাকলেও প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। ১২ জুন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
২২ জুন নির্বাচনের চূড়ান্ত সরকারি ফল ঘোষিত হয়। এতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ মোট ভোটের ৩৭.৫৩ শতাংশ ভোট ও ১৪৬টি আসন পায়। বিএনপি পায় ৩৩.৪০ শতাংশ ভোট ৩ ১১৬টি আসন। জাতীয় পার্টি পায় ১৫.৯৯ শতাংশ ভোট ও ৩২টি আসন এবং জামায়াত পায় ৮.৫৭ শতাংশ ভোট ও ৩টি আসন। বামফ্রন্ট কোনো আসন পায়নি, ভোট পায় ০.৪২ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
