আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ শক্তি,অস্ত্রশস্ত্র ও যোগাযোগ। যা ” দ্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান- এ এ কে নিয়াজি” বইয়ের অংশ।
শক্তি,অস্ত্রশস্ত্র ও যোগাযোগ

অস্ত্রশস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জাম
ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের সেকেলে অস্ত্র দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে সজ্জিত করে। তবে আধুনিক কিছু অন্ত্রও দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুক্তিবাহিনী তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল বিভিন্ন বিদেশি সূত্র যেমন- ইসরাইল, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বেলজিয়াম ও চেকোশ্লোভাকিয়া এবং হংকংয়ের মতো দূরপ্রাচ্যের বাজার থেকে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আমাদের সৈন্যরা বিদ্রোহী ডুবুরিদের কাছ থেকে রাশিয়ায় তৈরি লিমপেট মাইন উদ্ধার করে। বিদ্রোহীদের কাছ থেকে কিছু মার্কিন অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রামে একটি মার্কিন ৫৭ এমএম রিকয়েললেস রাইফেল উদ্ধার করা হয়। ইতোপূর্বে চুয়াডাঙ্গা থেকে আরো দুটি মার্কিন রিকয়েললেস রাইফেল (আরআর)।
উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে যে, ভারতের পরামর্শে বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ ২৫ লাখ ডলার মূল্যের বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভারী অস্ত্র ক্রয়ের জন্য জাপানে ইসরাইলী কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইসরাইল দুই মাসের মধ্যে ২০ লাখ ডলার মূল্যের ভারী অস্ত্র বাংলাদেশে সরবরাহে সম্মত হয়।
যোগাযোগ
ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের পুরনো মজুদ থেকে বিদ্রোহীদের কয়েকটি অ্যারে সেট এবং অন্যান্য যোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল। গেরিলা তৎপ্রতার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে বিদ্রোহীরা জাপানে তৈরি কয়েকটি নতুন বহনযোগ্য।বেতার ও ব্যবহার করেছিল। তবে তারা যোগাযোগ সরঞ্জাম বিশেষ করে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের ব্যাপারে পুরোপুরি ভারতের ওপর ছিল নির্ভরশীল।
সামরিক অভিযানে যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। রেল যোগাযোগ সীমিত। পাকা রাস্তা কম ও উঁচু। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিশ্বের অদ্বিতীয়; নদীপথ, রেলপথ ও সড়ক পথ। বিশ্বের আর কোথাও এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পাকা রাস্তাগুলো কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু। এসব রাস্তার নিচে কৃষি জমি। জমিতে কোথাও শাক-সবজি, কোথাও ধান-পাট, কোথাও আবার জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও জমিতে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত পানি। এ জন্য পানি নিষ্কাশন করে কাদা মাটিতে পরিখা খনন করতে হতো। কোনো রকমে পরিখা খনন করা হলে দেখা যেত বৃষ্টির পানিতে এগুলো তলিয়ে।
