সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

আজকে আমরা আলোচনা করবো- সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে

১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান বাতিল, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা বাতিল, রাজনৈতিক দল ও কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন হয় ।

বহুসংখ্যক রাজনীতিবিদকে রাজনীতি ও নির্বাচন করা থেকে বিরত রাখার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে এবড়ো, প্রোভো প্রভৃতি কালাকানুন জারি করা হয়। শেখ মুজিবসহ অসংখ্য রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়। অবশ্য মাত্র ২০ দিনের মাথায় ২৭ অক্টোবর সামরিক অভ্যুত্থানের হোতা জেনারেল ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইউব খান এক দশক পাকিস্তান শাসন করেন আইউব খাঁ আইউবের সামরিক শাসন সারাদেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

 

সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন
সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

 

সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন হয় নির্বাসিত। মুসলিম লীগের ভাবাদর্শগত লক্ষ্য অর্জন, পাকিস্তানের বৃহৎ ধনীক এবং সামরিক-অসামরিক আমলা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা, সর্বোপরি বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশকে রুদ্ধ করাই ছিল আইউবশাহীর লক্ষ্য।

আইউবের সামরিক শাসনামলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নতুন করে নানামুখী ষড়যন্ত্র পরিচালিত হয়। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশত বার্ষিকী পালনের বিরুদ্ধেও সরকার অবস্থান নেয়। রেডিওতে রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ফলে সংস্কৃতিসেবী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া ।

টানা চার বছরের সামরিক শাসনের ফলে ছাত্রসমাজ ও জনগণের মনে পুঞ্জিভূত হয়ে ওঠে ক্ষোভ। ছাত্রসমাজ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি বদলের লক্ষ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। আইউব বিরোধী আন্দোলন গড়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্ত বিরাট অবদান রাখে। ১৯৬১ সালের শেষ দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়া এবং কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে মণি সিংহ ও খোকা রায়ের গোপনে কয়েক দফা বৈঠক হয়।

বৈঠকে সামরিক শাসনের অবসান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সকল রাজবন্দির মুক্তি, পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন, ছাত্রদের শিক্ষার অধিকার ও কৃষক-শ্রমিকের দাবি-দাওয়া নিয়ে ১৯৬২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে সামরিক শাসন ও রাজনীতি ওপর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ১৯৬২ সালের ২৪ জানুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের এবং ২/১ দিন পর পূর্ব পাকিস্তানের নিষ্ক্রিয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

 

সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন
সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

 

করাচিতে ফিরে যাওয়ার পর ৩০ জানুয়ারি আইউবের পুলিশ বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। ছাত্রসমাজের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের গোপন পরিকল্পনা ছিল ৬২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু করা। কিন্তু সোহরাওয়ার্দীর গ্রেফতারের ফলে তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গড়ে ওঠে তীব্র সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রাম।

ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দীর মুক্তির দাবির সাথে ছাত্রসমাজ শিক্ষার দাবি যুক্ত করলে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতিবেগ সঞ্চারিত হয়। ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে আইউব বা সামরিক ফরমান বলে ১৯৬২ সালের ১ মার্চ একটি সংবিধান ঘোষণা করে। ঘোষিত শাসনতন্ত্রে প্রেসিডেন্টকে কার্য সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করা হয়। এই শাসনতন্ত্র অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদে ১৯৫৯-৬০ সালে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে পাকিস্তানের নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করা হয়।

পাকিস্তানের দুই অংশের ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ আখ্যা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে একতরফাভাবে গণভোটে আইউব বা নিজেকে “নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে ১৯৬২-এর ২৮ এপ্রিল ও ৬ মে যথাক্রমে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে দলগতভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ৬২-এর সংবিধানে মৌলিক অধিকার সংকুচিত এবং সর্বজনীন ভোটাধিকার অস্বীকার করা হয়। তবে সামরিক শাসন প্রত্যাহার হয়। রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবনেও কোনো বাধা থাকে না।

কিন্তু পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় পূর্ব বাংলার অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মধ্যে রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবিত করা না করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সোহরাওয়ার্দী এবং আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের পক্ষে ছিলেন না।

১৯৬২ সালের ২৪ জুন পূর্ব পাকিস্তানের ৯ জন নেতা- নুরুল আমিন, আ মান খান, হামিদুল হক চৌধুরী, আবু হোসেন সরকার, মাহমুদ আলী, ইউসুফ আলী চৌধুরী, পীর মোহসেন উি শেখ মুজিবুর রহমান ও সৈয়দ আজিবুল হক একটি যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। ৯ নেতার বিবৃতি হিসেবে খ্যাত এই ঐতিহাসিক বিবৃতিতে এক থাকো গণভিত্তিক শাসনতন্ত্র, ফেডারেল সংসদীয় ব্যবস্থা, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বৈষম্যের প্রতিবিধান ও ইতোমধ্যে সরকারের কাজ পরিচালনার জন্য শাসনতন্ত্রে ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের কতিপয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। নয় নেতার এই বিবৃতি পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি মাইলফলক হয়ে আছে।

৯ নেতার বিবৃতির ফলে আইউবী শাসনের বিরুদ্ধে জনমতের চাপ বৃদ্ধি পায়। ১৯৬২ সালের ১৪ জুলাই আই খা রাজনৈতিক দলবিধি ঘোষণা করে। রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবনের অনুমতিদানের বিধান রেখে বৈধ রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। ১৯ আগস্ট সোহরাওয়ার্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন
সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

 

মতামত ও ভাবাদর্শগত বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই বিবৃতির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সোহরাওয়ার্দীর প্রেরণায় ১৯৬২ সালের ৪ অক্টোবর অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের আলাদাভাবে পুনরুজ্জীবিত না করে ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’- এনডিএফ নামে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গড়ে তোলে। পশ্চিম পাকিস্তানে আইউব খান কনভেনশন মুসলিম লীগ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, জামায়াতে ইসলামি ও নিজাম-ই-ইসলামি প্রভৃতি দলও পুনরুজ্জীবিত হয়।

কিন্তু পূর্ব বাংলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দল পুনরুজ্জীবন স্থগিত রেখে রাজনীতিবিদগণ এনডিএফ-এর মাধ্যমে সারাদেশে ব্যাপক জনমত এবং আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। অবশ্য এ ব্যাপারে সবাই একমত ছিলেন না। প্রথম থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এবডোর (যা ১৯৬৬ পর্যন্ত বলবৎ ছিল) কারণে সোহরাওয়ার্দীর প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় তিনি এসব কালাকানুন প্রত্যাহার করার কৌশল হিসেবে সরকারের ওপর চাপ রাখার লক্ষ্যে স্বতন্ত্রভাবে দল পুনরুজ্জীবনের বিরুদ্ধে ছিলেন। বস্তুত সোহরাওয়ার্দীর অবস্থান ও প্রভাবের কারণেই আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত হয়নি।

১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সোহরাওয়ার্দীর আকস্মিক মৃত্যুর পর এনডিএফ কার্যকারিতা হারায়। ১৯৬৪ সালের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভা। এই সভায় দল পুনরুজ্জীবনের সিদ্ধান্ত হয়। পুনরুজ্জীবিত দলে মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ও শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণা সম্পাদকের দায়িত্বে বহাল থাকেন। ন্যাপও পুনরুজ্জীবিত হয়।

পুনরুজ্জীবন বিরোধী আওয়ামী লীগের আতাউল রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদ, জহিরুদ্দিন, নুরুর রহমান, খয়রাত হোসেন, আবদুল জব্বার বন্দর, আলমাস রুহু বকস, কাজী রোহানউদ্দিন, একে রফিকুল হোসেন, আবদুল হামিদ চৌধুরী, জিল্লুর রহিম, জহুর আহমেদ চৌধুর আমির হোসেন দোড়ায়, প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. মযহার উদ্দিন আহমেদ, রমিজউদ্দিন আহমেদ, জি উদ্দিন আহমেদ, শফিক আহমেদ, তোফাজ্জল আলী, জয়নুল আবেদীন, গাজী ইকবাল আনসারী, এ ওহাব ও শওকা আওয়ামী লীগ নেতা এনডিএফ এ থেকে যান।

১৯৬৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইন্দিরা রোডে এনডিএফ- অফিস নেওয়া হয় । নুরুল আমিনকে চেয়ারম্যান, মাহমুদ আলীকে সেক্রেটারী জেনারেল এবং হামিদুল হক চৌধুরীকে কোষাধ্যক্ষ করে এনডিএফ এর কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের পুনরুজ্জীবন ঘটে। ফলে এনডিএফ কার্যত অবলুপ্তির দিকে চলে যায়।

 

সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন
সামরিক শাসন আইউব বিরোধী আন্দোলন

 

১৯৬৪ সালের ৬ ও ৭ মার্চ ঢাকার হোটেলে ইডেন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দলের সভাপতি মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন নিখিল পাকিস্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান। এই কাউন্সিলে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম ছাত্র লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং খাজা নাজিমুদ্দিনপন্থি মুসলিম লীগ নেতা শাহ আজিজুর রহমান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ কাউন্সিলে মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ও শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সহ-সভাপতি ও দলের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ কমিটিতে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন-

১. অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম খান ২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ৩. শাহ আজিজুর রহমান ৪ আবদুল মালেক উকিল ৫. মোল্লা জালাল উদ্দিন ৬. শেখ আবদুল আজিজ ৭. এএইচএম কামারুজ্জামান ৮ রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া ময়েজ উদ্দিন আহমেদ ১০. আবদুল মোমেন তালুকদার ১১. আবদুল মান্নান ১২. রওশন আলী ১৩. সোহরাব হোসেন ১৪. মাহমুদুল্লাহ ১৫ এবিএম নুরুল ইসলাম ১৬. বাহাউদ্দিন চৌধুরী ১৭. মোমেন উদ্দিন আহমেদ ১৮ আব্দুর রহমান খান ১৯. আজিজুর রহমান ২০ টি হোসেন ২১. গাজী গোলাম মোস্তফা ২২ আলী হাফিজ ২৩. সা’দ আহলে ২৪, লকিতুল্লাহ ২৫ মোশারেফ হোসেন ২৬. ডিএফ গাজী ২৭. শামসুদ্দিন মোল্লা ২৮ আবুল কালাম ২৯, আমিনুর হক চৌধুরী ৩০. অধ্যাপক ইউসুফ আলী ৩১, আমজাদ হোসেন ৩২. একে মজিবর রহমান ৩৩. এমএ আজিজ ৩৪. তাজউদ্দিন আহমদ

১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইউব-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো “সম্মিলিত বিরোধী দল’ বা কম্বাইন্ড অপোজিশান পার্টি (Cop) গঠন করে। ‘কপ’ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বেন ফাতেমা জিন্নাহকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করে। কিন্তু মৌলিক গণতন্ত্রী ব্যবস্থায় ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিবার্যভাবেই ‘কপ’ পরাজিত হয়। ১৯৬৪ সালে আরেকটি বড় ঘটনা হলো সরকারের উস্কানিতে সংঘটিত- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই দাঙ্গার বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ব্যাপক গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।

ইত্তেফাকে প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি ১৯৬৪ পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ এবং দাঙ্গা প্রতিরো কমিটির পক্ষ থেকে একই শিরোনামে একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়- যা সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ব্যাপক মানবিক আবেদন সৃষ্টি করে। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ দিন পর্যন্ত সংঘটিত হয় ভারত-পাকিস্তা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে বাঙালিদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টি করে।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়। সীমিত গণতান্ত্রিক অধিকার আরও সংকুচিত হয়। দৃশ্যত এনডিএফ আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন, দাঙ্গা বিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করলেও শেখ মুজিবের মনে তখন স্বাধীকার আদায়ের সংকল্প স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment