আমাদের আজকের আলোচনা বিষয় –ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের জন্ম। যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল এর একটি অংশ।
ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের জন্ম

সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখন শোষণ করতে চায় তখন তারা আঘাত করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির উপর, ভাষার উপর। তাকে. ধ্বংস করতে না পারলে শোষণ করা সহজ হয়ে উঠে না। তাই ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার উপর আঘাত হানল। সংখ্যাগুরু লোকের ভাষার উপর আঘাত করে আমাদের উপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হল । তখন একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল মুসলিম লীগ।
জিন্নাহ সাহেব তখন বেঁচে আছেন এবং তাঁর দলের লোকেরাই বাংলাদেশে শাসন চালিয়েছিল। তাদের শক্তি ছিল, সামর্থ্য ছিল, অর্থ ছিল। বিদেশী শক্তিও তাদের পিছনে ছিল। আমরা ভাষার উপর এ আঘাত সহ্য করতে পারলাম না। তারই ফলশ্রুতিতে আটচল্লিশ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম হয়। ১১ মার্চ তারিখে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন শুরু করি।
ঐ তারিখেই অন্যান্য কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে আমরা শোষকগোষ্ঠীর আঘাতের মোকাবেলা করি ।আজ মনে পড়ে আমার বন্ধু ও সহকর্মী শামসুল হকের কথা, যার সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি। তিনি আর ইহজগতে নাই। তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর কথা যদি আজ আমি স্মরণ না করি, অন্যায় করা হবে।
মরহুম শামসুল হক আর আমি এক সঙ্গে গ্রেফতার হই। তারপরেই আমাদের আন্দোলন শুরু হয়। আমরা বুঝতে পারলাম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আছে। তা না হলে আন্দোলন করা যাবে না। তাই আমরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করলাম। আমাদের সহকর্মীদের মোবিলাইজ করতে শুরু করলাম ।

আবার আমাকে গ্রেফতার করা হল। আমার সহকর্মীদের গ্রেফতার করা হল। আমরা সেখানে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান করব বলে ঠিক করলাম। ১৯৪৯ সালের জুন মাসে আমি যখন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী তখন আওয়ামী লীগের জন্ম হয় । জেলখানায় বন্দী থাকা অবস্থায়ই তাঁরা আমাকে যুগ্ম-সম্পাদক পদে নির্বাচিত করেন।
